প্রচ্ছদ বিশ্ব *ইরানের হা’মলা শুরু মার্কিনিদের ওপর!*

*ইরানের হা’মলা শুরু মার্কিনিদের ওপর!*

122
*ইরানের হামলা শুরু মার্কিনিদের ওপর!*

*ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের বি’মান বা’হিনীর একটি ঘাঁ’টিতে দুটি রকেট হা’মলার ঘ’টনা ঘ’টেছে। অন্যদিকে বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে আঘাত করেছে দুটি মর্টা’রের গো’লা। কারা এ রকেট নিক্ষেপ বা গো’লাবর্ষণ করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানের নির্দে’শেই এই হাম’লা হয়েছে।*

*নিরাপত্তা বা’হিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে ফরাসি সংবাদমাধ্যম এ’এফপি জানায়, বাগদাদের উত্তরের আল-বালাদ ঘাঁ’টি লক্ষ্য করে কাতি’উশা র’কেট নিক্ষে’প করে এ হা’মলা চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটি’তে মা’র্কিন সে’না মোতায়েন রয়েছে। তবে র’কেট হা’মলায় কোনো ক্ষয়’ক্ষতির খবর জানা যায়নি।*
*বিমা’নঘাঁটিতে র’কেট হা’মলার কাছাকাছি সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে গ্রিন জোনে (পশ্চিমা দেশগুলোর ঘোষিত কথিত আন্তর্জাতিক জোন) দুটি মর্টা’রের গো’লা এসে পড়ে। তৎক্ষণাৎ বেজে ওঠে সাই’রেন। সে সময় দূতাবাসে থাকা কূটনীতিক ও সেনাদের কিছুটা চিন্তিত দেখা যায়।*

*উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন বি’মান বা’হিনী একপাক্ষিক হা’মলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী গা’র্ডের অভিজাত শাখা কুদস্ বা’হিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হ’ত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাসেম সোলেইমানি ইরানের সর্বোচ্চ নে’তা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সবচেয়ে আস্থাভাজন ছিলেন। দেশের সীমানার বাইরে লেবানন, ফিলিস্তিনসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে সামরিক পরিসর বেড়েছে, তার পেছনের কারিগর ছিলেন সোলেইমানি।*

*যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলসহ পশ্চিমারা ইরানকে দমিয়ে রাখতে চাইলেও ‘শ’ত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াই’ করার নীতিতে ইরানকে ‘প্রতি’রোধযুদ্ধ’ শিখিয়েছেন তিনিই। এজন্য সোলেইমানি ইরানের ‘জাতীয় বীর’ হয়ে উঠেছিলেন। অন্যদিকে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলসহ তেহরানবি’রোধী পক্ষের। মার্কিন বাহি’নী তাকে হ’ত্যা করায় ‘চরম প্রতি’শোধ’ নেয়ার হু’মকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নে’তা খামেনি। এমনকি দেশের আকাশসীমায় যু’দ্ধবিমানও মোতায়েন করেছে তেহরান।*

*ইরানের টা’র্গেটে ৩৫ স্থাপনা, যুক্তরাষ্ট্রের ৫২!*
*ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হ’ত্যার প্রতি’শোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি স্থাপনা টা’র্গেটে রেখেছে ইরান। আইআ’রজিসির জ্যেষ্ঠ কমা’ন্ডার ঘোলামালি আবু হামজেহ এ কথা জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সোলাইমানি মৃ’ত্যুর আগেই এই টা’র্গেটগুলোর বিষয়ে নির্দে’শনা দিয়ে গিয়েছিলেন।*

*ঘোলামালি আবু হামজেহ বলেছেন, ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকান টা’র্গেটগুলো অনেক আগেই ইরান চি’হ্নিত করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি স্থাপনা, এমনকি তেল আবিব (ইসরাইলের) আমাদের হা’মলার আওতায়। তবে কোনো বিশেষ টা’র্গেটের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।*
*ক’মান্ডার ঘোলামালি আবু হামজেহ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরমান প্রদেশের আই’আরজিসি কমা’ন্ডার। কেরমান সোলাইমানির জন্মভূমি।*

*অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ৫২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড়সড় সা’মরিক হা’মলা চালানোর হুম’কি দিয়েছেন। পরপর তিনটি টু’ইট করে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা ৫২টি জায়গাকে টা’র্গেট করেছি, যার মধ্যে অনেকগুলো ইরানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কাছে খুবই গুরুত্বপূ্র্ণ। ইরান যদি কোনও মার্কিন নাগরিক বা আমেরিকার কোনও সম্প’ত্তির উপর হা’মলা করে, আমরা দ্রুত ভয়ং’কর ধরনের পাল্টা আ’ঘাত হা’নবো। মার্কিন প্রশাসন মুখে উত্তে’জনা প্রশমনের কথা বললেও ট্রাম্পের টুই’টের পরে উত্তে’জনা আরও এক ধাপ বেড়েছে। ইরানের সামরিক টা’র্গেট না বলে সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাম’লা চালানোর কথা বলার ফলে ইরানের জনগণকেও খে’পিয়ে দিলেন ট্রাম্প। অনেকের মতে আমেরিকা এই রকম কিছু করলে তা আন্তর্জাতিক আ’ইনের বি’রুদ্ধে যাবে।*

*ট্রাম্পের এই হুম’কি প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ অন্য সুরে টুই’ট করেছেন সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা কলিন কাল। তিনি বলেছেন, ‘আমার এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, পে’ন্টাগন এমন কোনও টা’র্গেটের তালিকা প্রেসি’ডেন্ট ট্রাম্পের হাতে তুলে দেবে, যার মধ্যে ইরানের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে।’*
*কলিন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসি’ডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে উপদেষ্টা ছিলেন। সুতরাং তিনি পে’ন্টাগনের কর্মপদ্ধতি ভালোই জানেন।*

*উল্লেখ্য যে, মার্কিন সেনা’বাহিনীর হা’মলায় ইরানি কুদস ফো’র্সের প্রধান কাসেম সোলেমানির মৃ’ত্যুর পর থেকে দু দেশের মধ্যে উ’ত্তেজনা চরমে উঠেছে। সোলেমানির মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ইরানি ক’নভয়ে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। শুক্রবার ভোরে বাগদাদ বিমানবন্দরের সামনেই রকে’ট হাম’লায় মৃ’ত্যু হয় কাসেম সোলেমানির। এরপর ইরাকেই প্রস্তুতি চলছিল সোলেমানির জানাজার। কু’দস সেনাপ্রধানের শেষকৃত্যে যাওয়ার সময় একটি কন’ভয়ের উপরেও হা’মলা চালায় মার্কিন সে’নাবাহিনী। ইরাকে নিযুক্ত ইরানের ক’মব্যাট ফো’র্স হা’শদ আল-শা’বিই ছিল ওই হাম’লার মূল টা’র্গেট।*