প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বাদলের আ’সনে এক আবু সুফিয়ানে না’কাল আ’লীগ*

*বাদলের আ’সনে এক আবু সুফিয়ানে না’কাল আ’লীগ*

143
*বাদলের আসনে এক আবু সুফিয়ানে নাকাল আ'লীগ*

*এক আবু সুফিয়ানে না’কাল চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, মেয়র ও সংসদ সদস্যরা। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদকে জয়ী করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। ইতোমধ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সংসদ সদস্য আবু রেজা নদভীর বি’রুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘ’নের অভি’যোগ এনেছেন বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শ’ঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে।*

*গত শনিবার দুপুরে নগরীর চশমাহিলের বাসভবনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদের পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময়সভা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ সময় তিনি মোছলেম উদ্দিনের জয় নিশ্চিত করে সরকারের উন্নয়ন এবং কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ওই নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।*

*মোছলেম উদ্দিনকে প্রয়াত বাবা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহযোদ্ধা দাবি করে নওফেল বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য তার সহযোদ্ধা মোছলেম উদ্দিন আহমদকে জিতিয়ে আনতে হবে। এ জন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে।*
*এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সি’ডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইয়াকুব, মহব্বত আলী খান, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুসহ সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।*

*গতকাল রবিবার বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগে বলেছেন, শিক্ষা উপমন্ত্রীর এই কর্মকা- নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তারের নোং’রা কৌশল। শিক্ষা উপমন্ত্রীর অধীনস্থ শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করবেন। এখানেই আমাদের ভয়, সন্দেহ ও শঙ্কা। তারা শিক্ষা উপমন্ত্রীর নির্দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, উপমন্ত্রী, মেয়র ও সংসদ সদস্যরা এসে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।*

*জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বিএনপি নেতাদের ভালো করে আইন পড়তে বলেন। আমি তো ওদের এলাকাতেই যাইনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনী এলাকায় গেলে বিধি ভ’ঙ্গ হবে। এলাকার বাইরে বসে আমি যদি চিৎকার করে নৌকায় ভোট দিতে বলি, তা হলে কার কী করার আছে? বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের করা অভিযোগ অমূলক, ভিত্তিহীন ও অজ্ঞতাপ্রসূত দাবি করে নওফেল বলেন, আবু সুফিয়ান নিজেই নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্ত।*

*সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এ বলা হয়েছে- সরকারের সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যেমন- প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।*

*এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় নৌকার প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। বিষয়টি বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান লিখিতভাবে ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেন। আবার ওই রাতেই নগরীর লালখানবাজারে মোছলেম উদ্দিন আহমদের বাসভবনে দক্ষিণ জেলার একাধিক সংসদ সদস্য নৌকা প্রতীকের পক্ষে মতবিনিময়সভায় অংশ নেন। তাতে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী বলেন, বিগত মেয়র নির্বাচনে তিনি একাই সাতটি ভোটকেন্দ্র দখল করেন।*

*সেখানে স্বয়ং প্রার্থী ছাড়াও আরও দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশনে পর দিন ২৬ ডিসেম্বর অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী।*
*দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের বারবার অভি’যোগের পরও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, মেয়র ও উপমন্ত্রী উপনির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে চলেছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ৭ নভেম্বর মইন উদ্দিন খান বাদল মা’রা গেলে আসনটি শূন্য হয়।*