প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *তাপসের ব্যাপারে শেখ হাসিনা তিন মাস আগেই সি’দ্ধান্ত নেন*

*তাপসের ব্যাপারে শেখ হাসিনা তিন মাস আগেই সি’দ্ধান্ত নেন*

437
*শেখ হাসিনা তিন মাস আগেই তাপসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন*

*ঢাকা দক্ষিণ সি’টি কর্পো’রেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে শেখ ফজলে নূর তাপসকে। শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা ১০ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে গত তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হলো। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বেশ কিছুদিন ধরেই প্রার্থী খুঁজছিলেন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সাঈদ খোকনের কর্মকাণ্ডে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ কারণেই তিনি একজন বিকল্প প্রার্থীর সন্ধান করছিলেন।*

*বিভিন্ন প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে যে, গত সেপ্টেম্বর মাসে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন তখনই তিনি শেখ ফজলে নূর তাপসকে একান্তে ডাকেন। ঢাকা দক্ষিণে মেয়র হিসেবে তাপস আগ্রহী কিনা সে ব্যাপারে জানতে চান। তাকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন।*

*আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাঈদ খোকনের কাজে সন্তুষ্ট ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সভাপতি যখন শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন এবং তার কাছে যখন বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ আসে তখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তার কাছে এসেছিল। তখনই তিনি সাঈদ খোকনকে পরিবর্তনের ব্যাপারে মনস্থির করেন। এ সময় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং শেখ হাসিনার নিজস্ব টিম ঢাকা দক্ষিণের ওপর একাধিক জরিপ পরিচালনা করে। এই জরিপগুলোতে তাপসের নাম ওঠে আসে। এর পরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি তাপসের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে প্রার্থী করার ব্যাপারে অভিপ্রায় জানান।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, তাপসের ব্যাপারে শেখ হাসিনা ইতিবাচক সাড়া দেন এবং তখন থেকেই তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন।*
*উল্লেখ্য যে, সেপ্টেম্বরের পর থেকেই শেখ ফজলে নূর তাপস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখা শুরু করেন এবং নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন সমস্যা এবং করণীয় নিয়ে একটি টিম গঠন করেন। এই টিম তাপসকে একটা প্রতিবেদনও জমা দেন।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যে ব্যর্থতাগুলো। সেই ব্যর্থতাগুলো তাপস তার নিজস্ব টিম নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন এবং সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করেছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কি কি করণীয় সে ব্যাপারে তিনি তার মতামত লিপিবদ্ধ করেছেন। এই পুরো বিষয়টি তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছেন।*

*অন্য একটি সূত্র বলছে, গত অক্টোবর মাসে সাঈদ খোকন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং সেই সময় সাঈদ খোকনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি অবহিত করেন এবং সমস্যাগুলোর সমাধান কেন হচ্ছে না তা জানতে চান। মূলত এর মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে সাঈদ খোকনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিদায় ঘন্টা বেজে যাচ্ছে। এরপর সাঈদ খোকন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। তিনি মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব পালনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে দলের জন্য জনগনের জন্য কাজ করার কথা বলেছেন বটে তবে মেয়র হিসেবে তাকে দ্বিতীয়বার মনোনয়ন দেওয়া হবে এ ব্যাপারে সুষ্পষ্ট কোন আশ্বাস দেননি। কারণ ইতিমধ্যেই তাপস দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তার নিজস্ব টিম দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন।*

*মূলত আওয়ামী লীগ সভাপতি চেয়েছিলেন যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী থাকবে যার সততার কিছু নজির থাকবে এবং যিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ভালো কাজ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। শেখ হাসিনার বিবেচনায় তাপসই হলেন সেই ব্যক্তি যার নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো যাবে। সে কারণেই এবার তাপস দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন্য মনোনয়ন পেলেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছেন।*