প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ *নিউ’ইয়র্ক সি’টির প্রতি’বেদনে বাংলাদেশের পেঁয়াজে ক্ষ’তিকর মাত্রায় সি’সা*

*নিউ’ইয়র্ক সি’টির প্রতি’বেদনে বাংলাদেশের পেঁয়াজে ক্ষ’তিকর মাত্রায় সি’সা*

90
*নিউইয়র্ক সিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পেঁয়াজে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা*

*যুক্ত’রাষ্ট্রের নিউই’য়র্ক সি’টির হেল’থ অ্যা’ন্ড মেন্টা’ল হাই’জিন বিভাগের এক প্রতিবে’দনেও বাংলাদেশ থেকে কেনা পেঁয়াজে ক্ষ’তিকর মা’ত্রায় সি’সার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।*
*একইভাবে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা শিম পরীক্ষা করে তাতে ফে’নপ্রোপেথিন, অমি’থোয়েট, ডাইমো’থোয়েটের মতো বি’ষাক্ত পদা’র্থের উপস্থিতি পেয়েছে যুক্ত’রাজ্য। বিষয়টি যুক্তরা’জ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইক’মিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে লন্ড’নের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ হাই’কমিশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।*

*অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা গুঁড়া মরিচে অননুমোদিত মাত্রায় ইথি’য়ন ও ট্রিয়া’জোপস কীট’নাশকের উপস্থিতি পাওয়ার কথা সরকারকে চিঠি লিখে জানিয়েছে ইউ’রোপীয় কমি’শন (ই’সি)।*
*এর আগে যুক্তরা’ষ্ট্রের স্ট্যা’নফোর্ড বিশ্ব’বিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বাংলাদেশি গুঁড়া হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সি’সার উপস্থিতির কথা উঠে আসে। এ তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যা’লয় থেকে গুঁড়া হলুদ রপ্তানি ব’ন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে।*

*প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানি করে না। বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় সাত-আট লাখ টন পেঁয়াজ আম’দানি করে, যার সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। তবে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে এ ধরনের সিসার উপস্থিতি আছে কিনা তা এখনো পরীক্ষা করে দেখা হয়নি বলে জানা গেছে। একইভাবে শিম, গুঁড়া মরিচ ও পেঁয়াজ উল্লেখযোগ্য হারে রপ্তানি না হলেও এসব পণ্যে ক্ষতি’কর রাসা’য়নিকের উপস্থিতির ত’থ্য দেশের নাগরিকদের জন্য মা’রাত্মক স্বাস্থ্য’ঝুঁকির অশ’নিসংকেত। খাবারে ভারী ধাতু ও ক্ষতি’কর রাসা’য়নিকের উপস্থিতি মান’বদেহে ক্যা’ন্সার, কি’ডনির রো’গসহ নানা ধরনের দু’রারোগ্য ব্যা’ধির কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে বারবার জানিয়ে এসেছেন সংশ্লিষ্টরা।*

*কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের নেতৃত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বাংলাদেশি কৃষিপণ্যে এসব বিষা’ক্ত ধাতু ও রাসায়নিকের উপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভার কার্যবিবরণী সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে চাল, শাকসবজি, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যে ভারী ধাতু পাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএ’ফএসএ) প্রতিনিধি।*
*মূলত আমদানি করা নিম্নমানের কীট’নাশক থেকে এ ধরনের ক্ষ’তিকর উপাদান বিভিন্ন কৃষিপণ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে বৈঠকে বিএ’ফএসএর পক্ষ থেকে জানানো হয়।*

*বিএফ’এসএর প্রতিনিধি জানান, পরিস্থিতি মোটেই সন্তোষজনক নয়। যেভাবে চাল, শাকসবজি, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যে কীট’নাশক, ক্রো’মিয়াম ও ক্যা’ডমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এখনই ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। যদি সার আমদানির সময় ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সার খালাস করা হয়, তাহলে তাতে ভারী ধাতু থাকার আশ’ঙ্কা থাকে না। তবে শিল্প এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে শিল্প ব’র্জ্যের উপস্থিতির কারণে ওইসব এলাকার কৃষিপণ্যে বেশি ভারী ধাতু পাওয়া যাচ্ছে।*

*বৈঠকে সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, আমদানি করা কীট’নাশকে সি’সা, ক্যাড’মিয়াম ও ক্রোমি’য়ামের মতো ভারী ধা’তু রয়েছে। বিভিন্ন কৃষিপণ্যে তার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। বাজার থেকে সংগৃহীত ৪৭ ব্র্যান্ডের কীট’নাশকের নমুনা পরীক্ষায় এ ভয়াবহ চিত্র পেয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকির আ’শঙ্কা থাকায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দরে পরীক্ষা ছাড়া কোনো কীট’নাশকের চালান খা’লাস না করতে এনবি’আরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে থাকা কীট’নাশক তুলে নিতেও কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে।*

*এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কৃষিপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থি’তি দূর করতে সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিরা’পদ সারের মাত্রা নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ত’রকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাটি, পানি, জৈব-অজৈব পদার্থ, ভারী ধাতু ইত্যাদি নিয়ে পরীক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে সহজ করতে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টি’টিউটকে চিঠি দেয়া হয়েছে। শিল্প এলাকার কৃষিকে ভারী ধাতু’মুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব’র্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে নিম্নমানের সারের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বি’জিবির পাহা’রা বাড়াতে সীমান্তবর্তী জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভারী ধা’তুমুক্ত নিরা’পদ সার আমদানি নিশ্চিত করা এবং কোথাও যাতে কোনোভাবেই ভারী ধা’তু মেশানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।*