প্রচ্ছদ রাজনীতি *এবার রাজাকার তালিকায় অসঙ্গতিতে অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ*

*এবার রাজাকার তালিকায় অসঙ্গতিতে অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ*

34
*এবার রাজাকার তালিকায় অসঙ্গতিতে অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ*

*বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এতে নানা অসঙ্গতি থাকায় এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে সরকারি দলকে। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন- তাদের নাম এই তালিকায় থাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।*

*অন্যদিকে তালিকায় নেই বিপুলসংখ্যক চিহ্নিত রাজাকারের নাম। এর ফলে দেশব্যাপী অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীদের মনে। এনিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের ধারণা, দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও মুজিববর্ষের আগে রাজাকারদের এমন বিতর্কিত তালিকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। পাশাপাশি রাজাকারের তালিকার এই অসঙ্গতি স্বাধীনতার পক্ষের তৃতীয় প্রজন্মের মাঝে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।*

*গত সোমবার বিজয়ের ৪৮তম বার্ষিকীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রায় ১১ হাজার রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে। তবে এতে বেশ কয়েকজন তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকের পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপুর নামও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলো, সেই কুখ্যাত রাজাকার-আলবদর ও শামসদের অনেকের নামই এ তালিকায় নেই।*

*মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার পরও রাজাকারের তালিকায় বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার নাম কীভাবে এলো তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।*
*মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকার তালিকায় শুধু বরিশালেরই অন্তত এক হাজার জনের নাম এসেছে। এর মধ্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। পুলিশের সদস্যও রয়েছেন ২৬ জন। এতে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। রাজাকারের তালিকায় অসঙ্গতি থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও ক্ষুব্ধ মানুষের নানা বক্তব্যে সে চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।*

*সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করে এমন গবেষক ও সংগঠনের কারো সঙ্গে কথা বলা হয়নি। শুধু জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তথ্যের ওপর নির্ভর করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অথচ যারা তালিকা তৈরি করেছেন তাদের অনেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেননি। তাদের মতে রাজাকারদের তালিকা তৈরির কাজটি আমলা বা জেলা প্রশাসকদের ওপর ন্যস্ত করা ঠিক হয়নি।*

*এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এ ধরনের একটি বড় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল আরো বেশি সতর্ক হওয়া। তালিকা তৈরির কাজে আমলাদের প্রাধান্য না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা বীরদের সার্বক্ষণিকভাবে সংযুক্ত করা হলে এ সংকট তৈরি হতো না। তিনি বলেন, এ সুযোগে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলো এ ইস্যুতে মাঠ গরমেরও চেষ্টা চালাতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তালিকাটি যাচাই-বাছাই করে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটানোর দাবি জানান তিনি।*