প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *আ’ন্ডারওয়ার্ল্ড দ’খলে ম’রিয়া নতুন গ্রু’প: আবার হবে শু’দ্ধি অ’ভিযান*

*আ’ন্ডারওয়ার্ল্ড দ’খলে ম’রিয়া নতুন গ্রু’প: আবার হবে শু’দ্ধি অ’ভিযান*

96
*আন্ডারওয়ার্ল্ড দখলে মরিয়া নতুন গ্রুপ: আবার হবে শুদ্ধি অভিযান*

*ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নতুন করে দখলের প্রস্তুতি চলছে। শীর্ষ কয়েকজন অপরাধী নিজস্ব বাহিনী শক্তিশালী করতে গোপনে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে তারা। টার্গেট করে দলে ভিড়িয়ে বিভিন্ন এলাকার ‘কিশোর গ্যাং’-এর হাতে তুলে দিচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। সম্প্রতি ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক অভিযানের পর টালমাটাল হয়ে পড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড। প্রকাশ্যে থাকা দাগি প্রভাবশালী অপরাধীরাও আত্মগোপনে চলে যায়। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে মাঠ পর্যায়ের সন্ত্রাসীরা। আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে পড়ে তাদের। এ অবস্থায় ফাঁকা আন্ডারওয়ার্ল্ড দখলের নানা মেরুকরণ শুরু হয় শীর্ষ অপরাধীদের মধ্যে।*

*দেশ-বিদেশ এমনকি জেলখানায় বসে ঢাকা দখলে বৈঠক করছে। নির্দেশনা পাঠাচ্ছে অনুসারীদের কাছে। বিশেষ করে শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী নতুন করে মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদের একজন কারাবন্দী কিলার আব্বাস, অপরজন লন্ডনে আত্মগোপনে থাকা জিসান। সংশ্লিষ্টরা বলছে, কিলার আব্বাস এবং জিসান এ মুহূর্তে আন্ডারওয়ার্ল্ডে সবচেয়ে বেশি তৎপর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ক্যাসিনো নিয়ে যে ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে, তা প্রকৃত অর্থে শেষ হয়নি। শিগগিরই সর্বাত্মক অভিযান আবারও শুরু হবে। আর এ অভিযানটি হবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিরুদ্ধে।*

*বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক অভিযান চলতেই থাকবে। এমন টার্গেট রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো সন্ত্রাসী যাতে সক্রিয় না হতে পারে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কোনো ধরনের অপতৎপরতার সুযোগ নিচ্ছে কিনা সে বিষয়েও তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বেআইনি কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না। কারও বিরুদ্ধে কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, মাস্তানির ব্যাপারে অবহিত করলে আমরা যথাযথভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।*

*সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডের হাতবদল করতে এক বছর ধরেই টপটেররদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। নানা সমীকরণ দেখা দেয় তাদের মধ্যে। দীর্ঘদিনের পলাতক ও দেশান্তরী শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ঢাকার নিয়ন্ত্রণে বিদেশে বসেই তৎপরতা চালাতে থাকে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মহড়া শুরু করে। চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে তার অনুসারীদের সক্রিয় রাখে। দুবাইয়ে থেকেই সে তার পরিকল্পনা মতো কাজ চালানোর চেষ্টা করতে থাকে। ক্যাসিনোকান্ডের আগে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদার ঠিকাদার জি কে শামীমসহ বেশ কয়েকজন ঢাকার গডফাদার দুবাই গিয়ে তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎও করেন। নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে আসতেন। আর কারাবন্দী কিলার আব্বাস ইতিমধ্যে ঢাকার মিরপুর, কাফরুল, ভাষানটেক, আগারগাঁও, শেওড়াপাড়াসহ উত্তরের বিরাট অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি টেন্ডারসহ সেখানকার চাঁদাবাজিও এখন তার নিয়ন্ত্রণে। জেলে থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণ করছে তার লোকজন দিয়ে। এখন সে পুরো ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জিসানও রয়েছে সর্বাত্মক চেষ্টার মধ্যে।*

*সূত্রমতে, লন্ডনে থেকে পুনরায় দুবাই ফেরত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের দুই সহযোগীকে দুটি একে-২২ এবং গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একজন ঠিকাদার একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার টার্গেটে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল জিসানের সহযোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করলেও ভাগাভাগি নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধকে কেন্দ্র করে কিলিং মিশনের সিদ্ধান্ত নেয় জিসান। আর এই মিশন সাকসেস করতেই এই শক্তিশালী দুটি অস্ত্র ঢাকায় আনা হয়। নেতৃত্বদানকারী ললাট নামের একজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জিসান গ্রুপের অন্তত অর্ধশতাধিক ক্যাডার। সূত্র জানায়, ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে কোনো বাহিনীর সদস্যই আর মাঠে থাকে না। দেড় মাস ধরে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড অনিয়ন্ত্রণ অবস্থায় রয়েছে। এ সুযোগটি কাজে নেওয়ার চেষ্টা করছে শীর্ষ অপরাধীরা।*

*ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান আবদুল বাতেন বলেন, বিদেশ পলাতক এবং কারাবন্দী সন্ত্রাসীরা মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আমাদের দৃষ্টির বাইরে কেউ নয়।*
*এর আগে অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম কারাগার থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল। গত বছর তার বের হওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় গোয়েন্দা তৎপরতায়। সব মামলায় খালাস পেলেও একটি মামলায় তিনি আটকে থাকেন। ঢাকার পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় বের হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয় তাকে। সূত্রমতে, বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন সুব্রত বাইনের সেকেন্ড ইন কমান্ড মোল্লা মাসুদ ভারতের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। ছয় মাস আগে তিনি কলকাতার একটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই ঢাকায় যোগাযোগ করতে শুরু করেন। সুব্রত বাইনের চাঁদাবাজির পকেটগুলো সক্রিয় রাখতে মোল্লা মাসুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। কিন্তু ক্যাসিনো অভিযানে পিছিয়ে যায় মোল্লা মাসুদ।*

*এদিকে ক্যাসিনো অভিযানে গ্রেফতার জি কে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রানা মোল্লা এবং রনক, পলাশ আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। শামীমের বিভিন্ন প্রকল্পে সরবরাহ করেছেন এমন অনেককে বকেয়া পাওনা চাইতে গেলে তারা মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় জিএম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক ইমাম আজম তালুকদার নামের এক ভুক্তভোগী ৩ ডিসেম্বর পল্টন থানায় জি কে শামীমের পার্টনার দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক ফজলুর করীম চৌধুরীর নামে ৫৫ লাখ টাকার একটি প্রতারণা মামলা করেছেন। ইমাম আজম এ প্রতিবেদককে বলেন, স্বপন আমার দেওয়া বিলের বাউচার টেম্পারিং করে আমার ৫৫ লাখ টাকা মেরে দিতে চাইছে। উল্টো ১০ লাখ টাকা দাবি করছে। মাঝে কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলেও তারা এখন সক্রিয়। আমার দেওয়া বিলের কাগজ টেম্পারিং করে তারা দাবি করছে উল্টো ১০ লাখ টাকা পাবে।*

*জানা গেছে, জি কে শামীমের সেকেন্ড ইন কমান্ড রানা মোল্লা এবং রনকের নেতৃত্বে তার ক্যাডাররা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। প্রচার করছেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এলাকায় ফিরেছেন। মাঝে মাঝেই তাদের দেখা যায় কারাবন্দী কালা ফিরোজের অফিসে এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায়। ২০০৮ সালে মিরপুরের কাজীপাড়ায় এ্যাপোলোকে হত্যা করেই আলোচনায় আসেন রানা মোল্লা। এরপর তার কদর বাড়ে মতিঝিল এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে। সর্বশেষ তাকে বেছে নেন জি কে শামীম। সূত্রমতে, থাইল্যান্ড থেকে মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, কল্যাণপুর এলাকায় সক্রিয় নবী উল্লাহ নবীর ক্যাডার জাহিদ, সেন্টু, মিন্টু। কিছু দিন আগে গোপনে দেশে আসে তারা। সম্প্রতি নবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জহিরের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকায় ওলি নামের এক পরিবহন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে। এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী কাইল্যা বাদল মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এবং ঢাকা উদ্যান ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় ইমন সক্রিয় হলেও তাদের দিকে নজর দিচ্ছে অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা।*

*২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে আটজন। মারা গেছে চারজন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পায় দুজন। পলাতক নয়জন। পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন মোল্লা মাসুদ। জিসান দুবাই, তানভীরুল ইসলাম জয় থাইল্যান্ডে, তাজগীর মালয়েশিয়া, প্রকাশ, বিকাশ ফ্রান্সে। লেদার লিটন নেপালে। কারওয়ানবাজারের আশিক ভারতে, মগবাজারের রনি দুবাইয়ে, গলা কাটা নাছির ইতালি, মশিউর রহমান কচি ভারতে রয়েছেন। শাহাদাত ভারতে থাকলেও বেশ কিছু দিন পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ইন্দোনেশিয়ায় চলে যান।*
*র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক, লে. কর্নেল মাহবুবুল আলম বলেন, অপরাধী সব সময় অপরাধী। সে যেই হোক না কেন। আমরা আমাদের কাজটা করে যাচ্ছি। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় নেই।*