প্রচ্ছদ আইন-আদালত *আই’সিজেতে রোহিঙ্গা গ’ণহত্যার বি’চার: কী হবে মাম’লার রা’য়?*

*আই’সিজেতে রোহিঙ্গা গ’ণহত্যার বি’চার: কী হবে মাম’লার রা’য়?*

159
*আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার: কী হবে মামলার রায়?*

*নেদার’ল্যান্ডসের হে’গে ইন্টার’ন্যাশনাল কো’র্ট অ’ব জাস্টি’সে তিন দিনের শুনা’নির পর যত দ্রুত সম্ভব এ মাম’লার রা’য় দেওয়ার কথা ঘো’ষণা করেছেন বিচা’রকরা। তবে সেজন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা জানাননি আই’সিজের বিচা’রক প্যা’নেলের প্রধান আবদুলকোই আহমদ ইউসুফ। সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে রা’য় দেওয়ার একটি রীতি আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই। তাই শু’নানি শেষ হওয়া মাত্র বিশ্বব্যাপী জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে কী থাকবে আদা’লতের রা’য়ে। ইন্টারন্যা’শনাল কো’র্ট অ’ব জাস্টি’সের (আই’সিজে) ১৫ বিচা’রকের সঙ্গে প্যা’নেলে আছেন গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের মনোনীত দুই বিচা’রক।*

*সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধা’ন্ত দেবেন। আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আই’সিজের মাম’লাটি করা হয়েছে মিয়ানমারের বি’রুদ্ধে, সু চির বিরু’দ্ধে নয়। আই’সিজে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে সা’জা দিতে পারে না, যেমনটি পারে আন্তর্জা’তিক অপ’রাধ আদা’লত (আ’ইসিসি)। আইসি’সি আলাদাভাবে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি তদ’ন্ত করছে। আই’সিজের বিধি অনুসারে, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এক দেশ অন্য দেশের বিরু’দ্ধে আন্তর্জাতিক আ’ইন ভ’ঙ্গের অভি’যোগ তুলতে পারে। গাম্বিয়ার করা এ মামলায় গ’ণহত্যা প্রতি’রোধ ও এর শা’স্তিবিধানে ১৯৮৪ সালে স্বাক্ষরিত কন’ভেনশন লঙ্ঘনের অভি’যোগ করা হয়েছে মিয়ানমারের বিরু’দ্ধে।*

*১৯৫৬ সালে ওই ‘জেনো’সাইড কন’ভেনশনে’ সই করেছিল মিয়ানমার। গাম্বিয়াও এ কনভেনশ’নে স্বাক্ষ’রকারী দেশ। এ কনভে’নশনের আওতায় দেশগুলো শুধু গ’ণহত্যা থেকে বি’রত থাকাই নয়, বরং এ ধরনের অপ’রাধ প্রতিরো’ধ করা এবং এমন অপ’রাধের জন্য শাস্তি’বিধানেও বাধ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই আদা’লতের সিদ্ধা’ন্ত মানার আ’ইনি বাধ্যবা’ধকতা আছে এবং এর বি’রুদ্ধে আ’পিল করার কোনো সুযোগ নেই। যদিও সিদ্ধা’ন্ত মানতে বাধ্য করার কোনো ক্ষম’তা নেই এ আ’দালতের এবং সিদ্ধা’ন্ত উপেক্ষা করার বহু উদাহরণ রয়েছে। গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে শুনানিতে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও তাদের ন্যায়’বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে কিছু অন্তর্বর্তীকালীন পদ’ক্ষেপ নেওয়ার আরজি জানানো হয়।*

*রোহিঙ্গাদের ওপর নি’পীড়ন ব’ন্ধ করা এবং গণ’হত্যার আলামত সংরক্ষণের আদেশ চাওয়া হয় আই’সিজের কাছে। মিয়ানমার গ’ণহত্যা চালিয়েছে কিনা সে বিষয়ে রায় দিতে হলে আদালতে এটা প্রমাণ হতে হবে যে, রাষ্ট্রটি রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে আংশিক কিংবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বং’স করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করেছে। তবে সেটা যদি প্রমাণও হয় তবু অং সান সু চি কিংবা মিয়ানমারের জেনা’রেলদের গ্রেফতার করা কিংবা তাদেরকে বিচার করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে না আই’সিজে। তবে মিয়ানমারকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত রা’য় দিলে নিষে’ধাজ্ঞা আরো’পের মতো পদ’ক্ষেপ আসতে পারে।*

*এতে মিয়ানমার বিশ্বে ভা’বমূর্তি হারানো এবং অর্থনৈতিক ক্ষ’তির মুখে পড়তে পারে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবা’হিনীর অ’ভিযানে যে ব’র্বরতা চালানো হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে ১৯৮৪ সালের আন্তর্জাতিক গ’ণহত্যা কনভে’নশন ভ’ঙ্গ করার অভি’যোগে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালতে এনেছে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া। গত মঙ্গলবার দ্য হে’গের পি’স প্যালে’সে গাম্বিয়ার পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে এসে দেশটির আইনমন্ত্রী আবুবকর তামবাদু মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন এবং গ’ণহত্যা বন্ধে’র দা’বি জানান।*

*এরপর বুধবার মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য দিতে এসে দেশটির স্টে’ট কাউ’ন্সিলর সু চি গ’ণহত্যার অভি’যোগ অস্বীকার করে দা’বি করেন, রাখাইনের প’রিস্থিতি সম্পর্কে গাম্বিয়া যে চিত্র এ আদালতে উপস্থাপন করেছে তা ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রা’ন্তিকর’। তৃতীয় ও শেষ দিনের শুনা’নিতে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন আই’সিজের ১৭ সদস্যের বিচা’রক প্যা’নেল।*