প্রচ্ছদ রাজনীতি *ঐক্য’ফ্রন্টের চা’পে বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ স্বীকার করে নিচ্ছে বিএনপি?*

*ঐক্য’ফ্রন্টের চা’পে বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ স্বীকার করে নিচ্ছে বিএনপি?*

1260
ঐক্যফ্রন্টের চাপে বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা' স্বীকার করে নিচ্ছে বিএনপি?

*বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময় জাতীয় নে’তাদেরকে বিরো’ধিতার খাতিরেই বিরো’ধিতা করা হয়। জাতীয় নে’তাদের তুচ্ছ’তাচ্ছিল্য এবং নানা কটূ’ক্তিমূলক বক্তব্যও প্রদান করেন অনেকেই।*
*এর ফলে দেশের জনগণ এবং তরুণ প্রজন্ম জাতীয় নে’তাদের বিষয়ে ভু’ল বার্তা পায়। তবে বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে ইতি’বাচক কিছু বিষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় দুই নে’তা বিএনপিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি, পঁচাত্তরের ১৫ আগ’স্টকে জাতীয় শো’ক দিবস হিসেবে পালন এবং ৩ রা নভেম্বরকে জে’ল হ’ত্যা দি’বস হিসেবে পাল’নের প্র’স্তাব দিয়েছে।*

*জানা গেছে যে, ড. কামাল হোসেনের নে’তৃত্বাধীন গণফোরাম এবং কাদের সিদ্দিকির নেতৃ’ত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্ট্রের অন্য নে’তাদের কাছে বলেছেন যে, ‘নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। বাংলাদেশের রাজনীতি পরিষ্কার করতে গেলে, কতগুলো অমীমাংসিত বিষয় মীমাংসা করা প্রয়োজন।’*

*কাদের সিদ্দিকি বলেন, ‘বিএনপি যে জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্ট গঠন করেছে, এটাই বিএনপির জন্য অনেক পরিবর্তিত একটি অবস্থান। বিএনপি যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বী’কৃতি প্রদান করে, ১৫ আগস্ট’কে শো’ক দিবসের স্বীকৃতি দেয়, ৩ নভেম্বরকে জে’ল হ’ত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধা’ন্ত গ্রহণ করে, তাহলে বিএনপিই লাভবান হবে। বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান মানুষের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং বিএনপি একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণের কাছে সমাদৃত হবে।’*

*কাদের সিদ্দিকি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলেছেন যে, ‘বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে, ১৫ আ’গস্টের তাঁরা কোনো বেনি’ফিসিয়ারি নয়। ১৫ আ’গস্টের ঘট’নার সঙ্গে তাঁরা জড়িত না এবং ১৫ই আগ’স্টকে জাতীয় শো’ক দিবস হিসেবে পালন করার ঘো’ষণা দিতে হবে।’*
*আজ মঙ্গলবার অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্টের একাদশ জাতীয় সং’সদ নির্বাচনের ইশ’তেহারের মুল বক্তব্য কি হবে এসব নিয়ে আলো’চনার পরিপ্রেক্ষিতে কাদের সিদ্দিকি বীর’উত্তম এই বক্তব্য রাখেন। জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন কাদের সিদ্দিকির এই বক্ত’ব্যকে সমর্থন জানান।*

*কাদের সিদ্দিকি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐ’ক্যফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচা’রণা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবং জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের মধ্যেও শুরু হতে পারে। জাতীয় নে’তাদের সম্মান করার মধ্য কোনো ক্ষ’তি নাই।’*
*বিএনপির একাধিক নে’তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে তাঁরা জানান, এই প্রস্তাবটা কাদের সিদ্দিকির কাছ থেকে এসেছে সত্য। কিন্তু এই বিষয়টা একটা নীতি নির্ধারণী সি’দ্ধান্ত। বিএনপিতে এই ধরনের সিদ্ধা’ন্তগুলো নেওয়ার ক্ষমতা বিএনপির স্থায়ী ক’মিটির নাই, জাতীয় নির্বাহী ক’মিটি ছাড়া এই সি’দ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষ’মতা কারও নাই।*

*নির্বাচনের আগে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এই বিষয়ে বিএনপি সি’দ্ধান্ত নিতে পারবে বলে মনে হয় না। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চা’প দেওয়া হয়েছে যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বী’কৃতি দেওয়া, ১৫ আগস্ট শোক দিবস পা’লন করা এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান পর্যন্ত সকল জাতীয় নে’তাকে সম্মান দেখানোর সংস্কৃতি চালু করা হয়। এই চা’প সামলে বিএনপি জাতীয় ঐক্য’ফ্রন্টে তাঁদের রাজনীতিকে কীভাবে টি’কিয়ে রা’খবে সেটাই এখন একটা বড় প্রশ্ন।*

*বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার নেতৃ’ত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। শুধু দেশের মানুষই নয় বিদেশিরাও তাকে বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে জানে এবং মানে। কিন্তু বিএনপি কখনই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকার করে না। শুধু তাই নয় ১৫ আগ’স্ট জাতির পিতা সপরিবারে নি’হত হন।*

*এই দিন সারাদেশে শোকের আবহ থাকলেও, এই দিনকে জাতীয় শো’ক দিবস হিসেবে পালন করে না বিএনপি। বাঙালি জাতির শো’কাবহ ১৫ আগ’স্টে তাঁরা কেক কে’টে বি’তর্কিত জন্মদিন পালন করেছে বছরের পর বছর। বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নিতেও তাঁদের অ’নীহা ও লজ্জা’বোধ।*

*রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের জাতীয় নে’তাদের অসম্মা’ন করার মধ্যে যেমন কোনো বীরত্ব নেই, তেমনি জাতীয় নেতাদেরকে স’ম্মান দিলেও কারও কোনো ক্ষতি বা অসম্মান হয় না। বরং তাঁদেরকে সম্মান করার মধ্যে দিয়ে দেশ ও জাতিকে সম্মানিত করা হয়।*
*বাংলাদেশের সকল জাতীয় নে’তাকে বি’তর্কের উর্ধ্বে রেখে তাদেরকে সম্মান করার সংস্কৃতি যদি দেশের রাজনীতিতে চালু হয়, তাহলে সেটি হবে একটি দৃষ্টান্ত।*

সম্পাদক/এসএ