প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *বাংলাদেশ ক্রিকে’টে সম্ভাবনাময় তা’রকারা কোথায় হারান?*

*বাংলাদেশ ক্রিকে’টে সম্ভাবনাময় তা’রকারা কোথায় হারান?*

98
*বাংলাদেশ ক্রিকেটে সম্ভাবনাময় তারকারা কোথায় হারান?*

*দেশের ক্রি’কেটে সম্ভাবনার মশাল জ্বালিয়ে ক্রিকে’টারদের আগমনের তালি’কাটা দীর্ঘ। শত আঁধারের ভীড়ে কেউ কেউ জানান দিয়েছিলেন, আলোর মশাল জ্বা’লাতে আসছেন তারা। তাতে অপেক্ষায় বসেছেন সবাই, উড়িয়েছেন প্রত্যাশার ফা’নুস। দিনশেষে বিনিময়ে পেয়েছেন কেবলই হতা’শা। তা কাটাতে কেউ এসে যদি মাঝে মধ্যে বাড়িয়ে দেন নির্ভরতার হাত। ক’দিন বাদে তিনিও হারি’য়ে যান হেলা’য়।*

*এভাবেই চলেছে, চলছে, হয়তো চলবেও। টে’স্ট আঙিনায় কুড়ি বছর পার করেও তাই শুনতে হচ্ছে ‘শিক্ষা’র তত্ত্ব। নতুন করে জেগে উঠার আশা। তাও হচ্ছে না। কদিন বাদেই টের পাওয়া যাচ্ছে এসব কেবলই দৃষ্টি এড়ানোর কৌশ’লী কথা-বার্তা। সেসবে বুদ যারা হন না তাদের হাপি’ত্যেশ ছুঁটে হরহা’মেশাই। কোথায় হারান আমাদের সম্ভাবনাময় তারকারা?*

*গত অর্ধযুগে বেশ ক’জন সম্ভাবনাময় ক্রি’কেটারের আগমন ঘটেছিল বাংলাদেশের ক্রি’কেটে। যাদের মধ্যে দুই জন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। বেশ কয়েক বার নিজেদের ব্যা’টে প্রমাণ করেছেন হতে পারেন আগামীর ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে যে আফ’সোস, সেই তামিমের সঙ্গী। কিন্তু তা আর হলো কই!*
*জাতীয় দলের হয়ে দুই বিশ্বকাপ খেলেছেন সৌম্য এরপর তার বর্তমান ঠিকানা ইমা’র্জিং দলের হয়ে এস’এ গেম’স। প্রতিপক্ষের নাম শুনে যেখানে চমকে যান অনেকে। বলে উঠেন আরে, নেপাল-ভুটানও কী ক্রিকেট খেলে নাকি! খেলে। তাদের বিরুদ্ধে খেলতে দল পাঠায় না ভারত ও পাকিস্তান। আমাদের দলে থাকেন দুই বিশ্ব’কাপ খেলা সৌম্য সরকার। তা নিজের ফ’র্মের কারণেই।*

*লিটন দাসকে ভাবা হয় এ যাবতকালে বাংলাদেশের ক্রি’কেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যা’টসম্যান। সে সামর্থ্যে তিনি প্রমাণ করেছেন কয়েক বার, দেখিয়েছেন প্রতিভার ঝলক। তার ব্যাটিং কে বোধ হয় বিশেষায়িত করার জন্য যথেষ্ট ইয়া’ন বিশা’পের ওই বাক্যেটাই, ‘লিটন দাস ইজ পে’ইন্টিং মোনা’লিসা, হিয়া’র ই’ন টন’টন টু’ডে’। কিন্তু তিনিই বা কী করলেন!*
*প্রতিভার ঝলক দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাতীয় দলে পার করেছেন প্রায় অর্ধযুগ, এতদিনেও হতে পারেননি ধারাবাহিক। এতটুকু বুঝে উঠতে পারেননি প্রতিভা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যায় ঠিকই, ম্যা’চটা জিততে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিকতার।*

*দেশের ক্রি’কেটের সবচেয়ে বড় আফ’সোসের নামটা বোধ হয় হতে চলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মায়াবী কাটারের জা’দুতে ব্যাট’সম্যানদের স্টা’ম্প উপড়ে ফেলেছেন যিনি, তিনি এখন খুঁজে ফেরেন রান কম দেয়ার রাস্তা। তাতে ব্যর্থই হন বেশির ভাগ সময়। তাও উপযুক্ত বিকল্পের অভাবে খেলে যান ম্যাচের পর ম্যাচ।*
*তাসকিন আহমেদ সাম্প্রতিক সময়ে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি বুঝতে পেরেছেন আবেগের আসলে খাওয়া নেই। তার বয়স ফু’রিয়ে যায়নি এখনো, অনেক দেয়ার আছে দেশকে। তবে তার এই উপলব্ধিটা যদি হতো খানিক আগে, আদতে উপকৃত হতো দেশের ক্রি’কেটই।*

*সৌম্য-লিটন-মুস্তাফিজ-তাসকিনরা কেবল নিদর্শন মাত্র। দেশের প্রায় সব উঠতি তারকাদের চিত্রটাই এমন। যার পেছনে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা মানসিকতায়। কেবল জাতীয় দলই যে গন্তব্য নয়, সেটা বুঝতে না পারায়। মাঠ ও মাঠের বাইরে নিজের জীবনে নিয়ন্ত্রণ এনে কীভাবে রাজত্ব করা যাবে পুরো বিশ্ব ক্রি’কেটে, সে স্বপ্ন আছে ক’জনার? এমন প্রশ্ন ছুঁড়লে হয়তো বলে দেয়া যাবে হাতের কড় গুনে।*

*দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ঘরোয়া ক্রি’কেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর বিপি’এল। আসছে বছরই টি-টোয়ে’ন্টি বিশ্বকা’প। শত প্রতিকূলতার ভীড়েও আশা নিয়ে অনেকে বসবেন নতুন তারকা দেখার অপেক্ষায়। সঙ্গে আরও একটা প্রার্থনা জুড়ে দেয়া যায়, এমনভাবে যেন তার’কারা না হারায়।*