প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *দুর্নী’তিবিরোধী যু’দ্ধে শেখ হাসিনার পাশে দেশ*

*দুর্নী’তিবিরোধী যু’দ্ধে শেখ হাসিনার পাশে দেশ*

পীর হাবিবুর রহমান

210
*দুর্নীতিবিরোধী যুদ্ধে শেখ হাসিনার পাশে দেশ*

*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি’বাদ, সন্ত্রা’সবাদ ও মাদ’কের বি’রুদ্ধে সাফল্য অর্জনের পর এবার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দুর্নী’তির বিরুদ্ধে যে যু’দ্ধ ঘোষ’ণা করেছেন, সেখানেও তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশ। সুমহান মুক্তি’যুদ্ধের অসাম্প্র’দায়িক চেতনার সঙ্গে দেশের উন্নয়নে তার নে’তৃত্বে উন্নয়নের মহাক’র্মযজ্ঞের যে বি’প্লবের সূচনা ঘটেছে সেটিই তার রাজনৈতিক শক্তির তুরুপের তাসে পরিণত হয়েছে। টানা ১১ বছরের শাসনামলে দেশের অর্থনীতিতে বিপ্ল’ব ঘটিয়ে মহাশক্তিধর ভারতকে পর্যন্ত পেছনে ফেলে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশে নিয়ে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে বিস্ময়কর উচ্চতায় তুলেছেন। যেখানে ’৭১-এর পরা’জিত পাকিস্তানের নাগরিক সমাজও বলছে, বাংলাদেশকেই রো’ল ম’ডেল করে অগ্রসর হতে। সেখানে পশ্চিমাদের কাছেও মুজিবকন্যার এই উন্নয়ন ব্যাপকহারে প্রশংসিত হচ্ছে।*

*আমাদের সুমহান মুক্তি’যুদ্ধে সবচেয়ে পরম বন্ধু বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিশ্বাস ও উষ্ণতা সম্পর্ক রেখে সীমান্ত সমস্যাসহ অনেক সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমের দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়নের বন্ধুত্ব জো’রদার করেছেন। ইতিমধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ প্রায় চলে গেছে। যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ছাড়াই নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতুসহ নানা মেগা উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত শেষ হতে চলেছে। একসময় আমরা খাবারের জন্য আর্ত’নাদ করেছি। দুর্ভি’ক্ষ ও ম’ঙ্গার সঙ্গে ল’ড়াই করেছি। আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ভে’জালের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধে নেমেছি।*

*অভি’যান নিয়মিত চলছে বলেই খাবারে ভে’জালের ভ’য়াবহতা উঠে আসছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত খাদ্যের ভে’জাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প’দ-প’দবির লো’ভ দৌড়ঝাঁপ-দুর্নী’তির বিরুদ্ধে নিরন্তর কথা বলছেন। গোটা দেশকে সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্রপটে নিয়ে যাওয়ার পথে এই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই কোনো অপরা’ধের সঙ্গে দলের কেউ জড়ি’ত থাকলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন। অপ’রাধী অপ’রাধীই। কে কোন দলের সেটি দেখার বিষয় নয়- এ কথা অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করছেন। দলের বিতর্কি’তদের বিদায় দিয়ে অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে নেতৃ’ত্বের পরিবর্তন আনছেন।*

*অনেককে নানা অপ’রাধে জড়ি’ত থাকার অভিযোগে আইনের আওতায় এনেছেন। ছাত্রলীগের নে’তা-কর্মীরা বুয়েটের আবরার হত্যা’কান্ডে জ’ড়িত থাকার অভি’যোগে গ্রেফতার হয়েছেন। বিচারের কাঠ’গড়ায় দাঁড়িয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। নুসরাত হত্যা’র ঘ’টনায় মা’মলার দ্রুত বিচার শেষ করে অপ’রাধীদের বি’রুদ্ধে আ’দালত ফাঁ’সির রায় দিয়েছেন। সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।*

*বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা হঠাৎ করে রাজনীতি বা ক্ষমতায় আসেননি। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ নৃ’শংস হত্যা’কান্ডের মধ্য দিয়ে মুক্তি’যুদ্ধের অর্জিত সব আদর্শ ও ইতিহাস সংবিধান থেকে সব পর্যায়ের মু’ছে ফে’লে, সামরিক শাসনের বুটের তলায় বাংলাদেশকে অন্ধকার যুগে নিয়ে গিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করে মানুষের সব অধিকার হরণ করা হয়েছিল। সেই দুঃসময়ের অন্ধ’কারে আগ’স্ট হত্যা’কান্ডে বিদেশ থাকায় বেঁ’চে যাওয়া মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা দিল্লির নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আলোর বাতি জ্বা’লিয়েছিলেন গণতন্ত্রের সংগ্রামের নেত্রী হয়ে। তার ৩৯ বছরের রাজনৈতিক জীবন আন্দোলন-সংগ্রাম উত্থা’ন-পত’ন কা’রাদহন, বুলে’টের আ’ঘাত কখনো বা গ্রে’নেডের ভয়া’বহ আক্রমণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে এসে বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।*

*রুখে দাঁড়িয়েছেন। উপমহাদেশে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গণমুখী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কাণ্ডারিই নন, মুক্তি’যুদ্ধের আদর্শের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করা অসাম্প্র’দায়িক শক্তির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে জাতীয় ও আন্ত’র্জাতিক অঙ্গনে নিজের দৃঢ় নে’তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বারবার তার জীবনের ওপর যেমন আ’ঘাত এসেছে তেমনি নানা সময় তার বিরু’দ্ধে নানা ষ’ড়যন্ত্রের জাল বিস্তার হয়েছে। ষড়’যন্ত্র কখনো শেষ হয়ে যায়নি। সাম্প্রতিককালে নানা ঘটনাপ্রবাহে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়’যন্ত্রে নানা আ’লামতে সরকারকে অশান্ত-অস্থির করে তোলার জন্য নানামুখী গু’জব ও ঘট’না দৃশ্যপটে এসেছে।*

*আওয়ামী লীগ নে’তা-কর্মীরা স্লো’গান তুলেছিলেন, ‘যতক্ষণ শেখ হাসিনার হাতে দেশ, ততক্ষণ পথ হারাবে না বাংলাদেশ’। আজ দেশের সব মহল নানা ত্রুটি’বিচ্যুতি থাকলেও সেটিই বিশ্বাস করেন। শেখ হাসিনা একদিন ক্ষমতায় না থাকলে দেশে যে রক্ত’পাত ও সহিংসতা নৈ’রাজ্য এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির মহাউত্থান ঘটবে সেই আশঙ্কা সবাই লালন করেন। তাই সবাই মনে করেন, শেখ হাসিনার হাত ধরেই উন্নয়নের মহাসড়কের পথে সুশাসন নিশ্চিত এবং দুর্নী’তির বিরু’দ্ধে চলমান যুদ্ধে পাশে থাকাই উত্তম। শেখ হাসিনা যে দুর্নী’তির বিরু’দ্ধে যু’দ্ধ শুরু করেছেন, এই মহা দুর্নী’তির বিস্তীর্ণ শেকড় ও বটবৃক্ষ দান’বের রূপ একদিনে নেয়নি। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ আজকের এই অবস্থা নিয়েছে। যেখানে শুধু রাজনৈতিক বাণিজ্যিকীকরণের পথে রাজদুর্নী’তির অভি’শপ্ত গ্রহণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষই জড়িয়ে গেছে।*

*বৈধ পথ পরিহার করে রাতারাতি অবৈ’ধ পথে দুর্নী’তিতে ডুবে অঢেল টাকা ও সম্পদ গড়ার এক অস’ভ্য অশ্লী’ল প্রতিযোগিতায় এমনভাবে গা ভাসিয়েছে যে, এ দেশের রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সূতিকাগার, মূল্যবোধ ও আদর্শের ওপর দাঁড়ানো মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশ পর্যন্ত এই পা’পের সাগরে ভেসে গেছে। এই দুর্নীতির লড়া’ইয়ে শেখ হাসিনার পাশে সময় ও ধৈর্য নিয়ে দাঁড়াতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দুর্নী’তি করে না। এই দুর্নী’তির সিন্ডি’কেটের সঙ্গে সব পেশার দৃশ্যমান একটি শক্তি জড়িয়ে গেছে। এদের কবল থেকে মুজিবকন্যার নেতৃ’ত্বে দুর্নী’তির বিরু’দ্ধে জঙ্গি’বাদ-সন্ত্রা’সবাদবি’রোধী যু’দ্ধের মতো জয়ী হলে উন্নয়নের তীব্র এই যাত্রাপথে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের তীরে ভিড়তে সময় বেশি লাগবে না।*

*শক্তিশালী সরকারের পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন অপরিহার্য। কিন্তু সেই বি’রোধী দলকেও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে সব বি’তর্ক ও ক’লঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুসরণ করেই ব্যাল’টের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে হয়। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মনে না হলে তার জন্য গণতান্ত্রিক আন্দো’লনের ইতিহাসের নজির রয়েছে। কিন্তু আগু’ন স’ন্ত্রাস ও সহিংস’তা ২০১৪ সাল থেকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে রাজনীতিতে কোথায় দাঁড় করিয়েছে, সেটিও তাদের মূল্যায়ন করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।*

*কোনো সরকারই বি’রোধী দলের আন্দো’লনকে নিজের পতন ডেকে আনার মতো পরিস্থিতি দিতে যেতে চায় না। এ দেশের অতীতের ইতিহাসও তাই। বিশ্ব রাজনীতিতেও একই অবস্থা। আওয়ামী লীগ ’৭৫-উত্তর মা’র্শাল ল’ জমানার কঠিন দুঃশাসনের মধ্যে মি’ডিয়া ক্যু ও ভোট ডাকাতি বা গণরায় ছিনতা’ইয়ের কিংবা প্রহস’নের নির্বাচ’নকে যেমন চ্যা’লেঞ্জ হিসেবে নিতে ভুল করেনি, তেমন আন্দো’লনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহু’ড়োর পথ নেয়নি। সংগঠন শক্তিশালী করা থেকে জনমত পক্ষে টানার মাধ্যমে সময়ের অপেক্ষা করে আন্দো’লনকে যৌক্তিক পরিণ’তির দিকে নিয়ে গেছে।*

*আজকের বিএনপিকেও তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যদি মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে আ’টক রাখা হয়েছে, তাহলে রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথকেই নিতে হবে। কিন্তু তাই বলে গতকাল সর্বোচ্চ আদা’লতের এ’জলাসে দলীয় আইন’জীবীরা যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এ দেশের ইতিহাসে নজি’রবিহীন কল’ঙ্কময়। সর্বোচ্চ আ’দালতের এজ’লাসই নয়, নিম্ন আদা’লতও কারও গু’ন্ডামির জায়গা নয়। এতে আ’ইনের খ’ড়গে যেমন পড়তে হবে, তেমনি জন’বিচ্ছিন্নও হতে হবে। অতীতে অনেক দল হঠ’কারী পথে শেষ হয়েছে। গণতন্ত্রের পথেই বিজয়ী হয়েছে। বিএনপি কোন পথ নেবে-সেটি নির্বাসিত কোনো নেতার সি’দ্ধান্তের ওপর ভর না করে নিজেরা আ’লাপ-আলো’চনার মাধ্যমে রণ’কৌশল নির্ধারণের পথ নিতে পারেন।*
*লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন*