প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *মতিন জেলে বসেই নিষিদ্ধ সংগঠন চালাচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে সরকারী কর্মকর্তারা*

*মতিন জেলে বসেই নিষিদ্ধ সংগঠন চালাচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে সরকারী কর্মকর্তারা*

93
*মতিন জেলে বসেই নিষিদ্ধ সংগঠন চালাচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে সরকারী কর্মকর্তারা*

*নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের প্রধান সংগঠক  ১৩ বছর ধরে কারাবন্দি। বন্দিদশায় থেকেই নতুন করে গুছিয়ে সুসংগঠিত করেছেন সংগঠনটি; কোটি কোটি টাকার তহবিলও সংগ্রহ করেছেন। জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ৬ নভেম্বর ‘দেশের শান্তিশৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা’ ও ‘জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হওয়ায় আল্লাহর দল/আল্লাহর সরকারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।*

*সম্প্রতি র‌্যাবের টানা অভিযানে সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতাসহ কয়েক ডজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে এলিট ফোর্স র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে করা বেশ কয়েকটি মামলার মধ্যে একটি মামলায় আল্লাহর দলের প্রধান মতিন মেহেদীকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে কারাগারে বসে জঙ্গি সংগঠন গোছানো ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মতিন মেহেদীর অনুপস্থিতিতে আব্রাহিম আহমেদ হিরো আল্লাহর দলের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনিই কারাগারে গিয়ে মতিন মেহেদীর সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে আসতেন। মতিন মেহেদীর নির্দেশনাতেই সংগঠনের কার্যক্রম চলত।*

*এ ছাড়া যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও মতিন মেহেদী নির্দেশনা দিতেন বাইরে থাকা সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এভাবে গত ১৩ বছরে সারাদেশে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং অর্থদাতা তৈরি করেন ফাঁসির দ-প্রাপ্ত মতিন মেহেদী।*
*গত ১৯ আগস্ট রাজধানী থেকে তিন সহযোগীসহ আব্রাহিম আহমেদ হিরোকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তিনিই র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কারাবন্দি মতিন মেহেদীর নির্দেশনাতেই এখনো চলছে তাদের সংগঠন।*

*আল্লাহর দল সংগঠনটি ১৯৯৫ সালে জাতীয় সংসদের তৎকালীন প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবদুল মতিন মেহেদী ওরফে মুমিনুল ইসলাম ওরফে মহিত মাহবুব ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে মতিনুল হকের নেতৃত্বে গঠিত হয়। ২০১৪ সালে কারাগারে বসে মতিন মেহেদী সংগঠনের নাম পাল্টে ‘আল্লাহর সরকার’ নামকরণ করেন। প্রথম দিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্যাহপুর থানা এলাকা থেকে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ করা হয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে আল্লাহর দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ-র‌্যাব। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ধানমন্ডির গ্রিন রোডস্থ সরকারি কোয়ার্টার থেকে মতিন মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মতিন মেহেদী ঢাকার বাইরের কয়েকটি কারাগার ঘুরে এখন কাশিমপুর কারাগারে বন্দি।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারাগারে বসে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে সচ্ছল করার কাজও করেছেন মতিন মেহেদী। তদন্তে নেমে বিভিন্ন ব্যাংকের বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে আল্লাহর দলের নামে কোটি কোটি টাকার সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। নিজে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় আর্থিক অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি মতিন মেহেদীর। এ সংগঠনকে আর্থিকভাবে সহায়তা (ইয়ানত) প্রদান করা ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে সম্ভাব্য হামলার অংশ হিসেবে অস্ত্র কেনারও পরিকল্পনা ছিল সংগঠনটির।*

*এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম আমাদের সময়কে বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অনুকূল পরিবেশে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতায় লিপ্ত হয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করা। এর মাধ্যমে শান্তিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার বড় ধরনের নীলনকশা ছিল জঙ্গিদের। তাদের নিজেদের কাঠামো অনুযায়ী দেশের শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল সংগঠনটির। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে এবং ধর্মের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন ও ভ্রান্ত ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের সব ধরনের কার্যক্রম নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।*

*আল্লাহর দলের সদস্যরা মনে করেন, বর্তমানে দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে। তাই তারা ঈদ, কোরবানি, হজ ইত্যাদি পালন করেন না। জুমার নামাজ আদায় করেন না। প্রতি ওয়াক্তে শুধু দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। ‘গ্রাম নায়ক’, ‘অধিনায়ক’সহ বিভিন্ন পদবি রয়েছে সংগঠনটির নেতাদের জন্য।*
*গত বুধবার ঢাকার একটি আদালতে হলি আর্টিজান মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামি রিগ্যান আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি পরে আদালতে আসেন। মূলত এর পরই কারাবন্দি জঙ্গিদের বাইরের জগতের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনার পর জঙ্গিবাদ দমনে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নব্য জেএমবির নেতারা কারাগারে বসে দল পরিচালনা করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা ইন্টারনেট সংযুক্ত মোবাইল ফোনে বাইরে থাকা জঙ্গিদের কাছে নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছেন।*