প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *দুই সিটির নির্বাচন মার্চে: প্রার্থী অপরিবর্তিত থাকছে?*

*দুই সিটির নির্বাচন মার্চে: প্রার্থী অপরিবর্তিত থাকছে?*

123
*দুই সিটির নির্বাচন মার্চে: প্রার্থী অপরিবর্তিত থাকছে?*

*জানুয়ারি নয়, আগামী মার্চে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের জন্য তফসিল ঘোষণা করবে। কিন্তু জানা গেছে যে, দুই সিটিতেই সীমানা নিয়ে কিছু বিরোধ রয়েছে। এই সীমানা বিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল যদি নির্বাচন কমিশন ঘোষণাও করে তবে তা আদালতে স্থগিত হয়ে যাবে।*

*উল্লেখ্য এর আগেও ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে তা আদালত কর্তৃক স্থগিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সীমানা বিরোধ নিস্পত্তির পর ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছিলেন।*

*আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সমস্ত সাংগঠনিক তৎপরতা এখন কাউন্সিলকে ঘিরেই। তাই জানুয়ারিতে এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ চায় না। বরং কাউন্সিল অধিবেশনের পর সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে এই নির্বাচনে আগ্রহী আওয়ামী লীগ।*

*অন্যদিকে বিএনপিও জানুয়ারি নয় মার্চে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারণ বিএনপি মনে করছে যে, তারা এখন সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠছে। সময় যত গড়াবে ততই সরকারের সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণাগুলো বাড়বে। সেই প্রেক্ষিতে মার্চে নির্বাচন হলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।*

*অন্য একটি সূত্র বলছে বিএনপি ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়েছে। কাজেই সিটি নির্বাচন যদি এখন করা হয় তাহলে সেই নির্বাচনে ভাটার টান শুরু হবে। আর এ কারণেই বিএনপি এখন নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে। এই বাস্তবতায় হয়তো আগামী মার্চেই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।*

*ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণের সম্মেলন এবং নেতৃত্বের পর একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ হয়তো নাটকীয় কিছু না ঘটলে এবার প্রার্থীতায় পরিবর্তন আনছে না। কারণ দুই সিটিতে যারা দলীয় কোন্দল এবং মেয়য়ের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করত তারাই এবার নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সিটি নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলে অভ্যন্তরীন কোন্দল যাতে বৃদ্ধি না পায় সেই চিন্তা থেকেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*

*এই বিবেচনা থেকে ঢাকার যে দুই মেয়র উত্তরে আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে সাঈদ খোকন দুইজনেই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, মেয়র নির্বাচন হতে এখনো অনেক সময় আছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এবং বাস্তবতা অনুযায়ী অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। তবে দুই মেয়রই ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তার ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য তারা দল থেকে সুবজ সংকেত পেয়েছে।*

*বিশেষ করে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে চট্টগ্রামের মেয়র মহিউদ্দীন কিভাবে সিটি কর্পোরেশনকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন সে ব্যাপারে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই ঘটনা থেকে অনেকেই সরল সমীকরণ টানছে। শেষ পর্যন্ত আতিককে হয়তো আরো একবার মনোনয়ন দেওয়া হবে।*

*পাশাপাশি যেহেতু আতিকুল ইসলাম যেহেতু এক বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে একজন মেয়রের জন্য কোনো পরিবর্তন করার জন্য যথেষ্ট সময় নয় বলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মনে করে। এই বিবেচনা থেকে তাকে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি।*
*অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যাপারে নানা সমালোচনা থাকলেও এই মুহূর্তে তার কোনো বিকল্প নেই বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ এখন একটি নেতৃত্ব শূন্য অবস্থায় রয়েছে। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে এমন কোনো প্রার্থীও নেই। তাই তাকে মন্দের ভালো বলেই মনে করা হচ্ছে।*

*সাইদ খোকনও তার একাধিক ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন আগামী মেয়র নির্বাচনে তিনিই প্রার্থী হচ্ছেন। ইতোমধ্যেই তিনি মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।*
*আওয়ামী লীগ যখন মেয়র পদে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছে না। সেই অবস্থায় বিএনপিও উত্তরের মেয়র পদের প্রার্থীতায় কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। তাবিথ আউয়াল যে বিএনপির ঢাকা উত্তরের প্রার্থী হচ্ছেন এই বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।*

*তবে দক্ষিণে মেয়র প্রার্থীতা নিয়ে নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে। গতবার মেয়র আব্বাসের অযোগ্যতার কারণে আফরোজা আব্বাস মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার যে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন না এটা নিশ্চিত। মেয়র আব্বাসও মেয়র প্রার্থী হবেন না। বরং সদ্য প্রায়াত অখণ্ড ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিএনপির ভেতরে এ নিয়ে একটি ঐক্যমত তৈরি হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।*

*ইশরাক গত ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সে সময় লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছিলেন। ইশরাককে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তারেক। ইশরাকও সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। সাদেক হোসের খোকার মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের ভালোবাসার আবেগকে পুজি করে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি বাজিমাত করতে চায়। সেজন্য তারা ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ইশরাকই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন যখনই হোক দুই দলই নিরবে, মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রচারণা শুরু করেছে।*