প্রচ্ছদ রাজনীতি *আওয়ামী লীগে স্বচ্ছ নেতৃত্বের নতুন যে বার্তা*

*আওয়ামী লীগে স্বচ্ছ নেতৃত্বের নতুন যে বার্তা*

177
*আওয়ামী লীগে স্বচ্ছ নেতৃত্বের নতুন যে বার্তা*

*টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। নানা উদ্যোগের ফলে দেশে-বিদেশে সরকারের সুখ্যাতি এলেও সংগঠনের কিছু নেতার দলীয় পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। দলীয় পদ বিক্রি, ক্যাসিনোবাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ দখলবাজি ও মাদক কারবারের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে অনেক নেতার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগও শুদ্ধর পথেই হাঁটছে।*

*সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে স্থান দেওয়া হয়েছে তুলনামূলক স্বচ্ছ ইমেজের নেতাদের। অবশ্য কমিটিতে কয়েকজন বিতর্কিত নেতাও স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগরের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন পরীক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা। জাতীয় পর্যায়ে এমন নেতৃত্ব নির্বাচনকে জেলা ও উপজেলা ইউনিটের প্রতি কঠোরবার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনীতি সচেতনরা।*

*চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় যুবলীগ। শুদ্ধি অভিযানে একে একে ধরা পড়েন ঢাকা দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, টেন্ডার মোগল জিকে শামীমসহ দুর্নীতিবাজ নেতারা। যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে। একইভাবে পদ হারান স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে।*

*ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, অনলাইন ক্যাসিনো হোতা সেলিম প্রধানসহ যুবলীগ, কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা। গ্রেপ্তার করা হয় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পদধারী কয়েকজন কাউন্সিলরকেও।*
*দলীয় নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে জিরো টলারেন্স দেখান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) সম্মেলনে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনকে একটি রোগ আখ্যায়িত করে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চুরির টাকা দিয়ে ভোগবিলাসে জীবন কাটানো সরকার সহ্য করবে না। তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে ভোগবিলাসী জীবনযাপন করবেন, আর কেউ সৎভাবে, সাদাসিধে জীবনযাপন করতে গিয়ে কষ্ট পাবেন, এটি হতে পারে না।*

*দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মৎস্যজীবী লীগের কমিটিতে আনা হয়েছে নতুন মুখ।*
*গত ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। এতে সভাপতি হয়েছেন নির্মল রঞ্জন গুহ এবং সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হয়েছেন ইসহাক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম। আর দক্ষিণের সভাপতি হয়েছেন কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ।*

*স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতারা স্থান পেলেও মহানগর উত্তরের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বিতর্কিত আনিসুর রহমান নাঈম। তিনি এর আগে দক্ষিণখান থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। নাঈমের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, প্রকাশ্য অস্ত্রের গুলি ফুটিয়ে বধূবরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুবলীগের সম্মেলনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে এবং পেশায় শিক্ষক। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।*

*গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সম্মেলন। প্রায় সাত বছর পর এ সম্মেলন হয়। নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু। তিনি আগের কমিটিতে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কেএম আজম খসরু। তিনি আগের কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।*

*আজম খসরুর এর আগে ফ্রিডম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে সোনালী ব্যাংকের অফিসার থাকা অবস্থায় তিনি সিবিএর পদ আঁকড়ে ছিলেন।*
*৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কৃষক লীগের সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। আগের কমিটির নেতারা রাজধানীর গুলশান, বনানীসহ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের শাখা কমিটি করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। রাজধানীতে সংগঠনের পদধারী নেতাই আছেন প্রায় ৮ হাজার।*

*সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ গত শুক্রবার সম্মেলনে মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হয়েছেন সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর লস্কর। লস্করের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ে যুক্ত থাকা, অবৈধ পন্থায় স্বল্প সময়ে বিরাট অর্থের মালিক হওয়া, মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং ইতিপূর্বে যুবদল করার অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।*
*সর্বশেষ গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হয়েছেন আবু আহাম্মদ মান্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। আবু আহাম্মদ মান্নাফি ও হুমায়ুন কবির উভয়েই আগের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন।*

*উত্তরের সভাপতি পদে বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে এএসএম মান্নান কচিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বজলুর রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও মোহাম্মদপুর এলাকার একাধিকবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক এএসএম মান্নান কচি এক সময়ের ছাত্রনেতা ও বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।*

*সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলায়ও আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় সম্মেলন কেন্দ্র করে দুগ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়। তবে এই জেলার ঘোষিত কমিটিতে একরামুল করিম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তিনি এর আগেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।*

*একইভাবে যশোর জেলা কমিটিতে আবার সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন বিতর্কিত নেতা হিসেবে পরিচিত শাহিন চাকলাদার। শাহিন চাকলাদারের বিরুদ্ধে দখল, অস্ত্রবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।*
*এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তা প্রমাণ হলে সঙ্গে সঙ্গে বাদ দেওয়া হবে।*