প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *‘বাজার-ষড়’যন্ত্র’ ও মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা ও অ’যোগ্যতা*

*‘বাজার-ষড়’যন্ত্র’ ও মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা ও অ’যোগ্যতা*

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

1889
*‘বাজার-ষড়যন্ত্র’ ও মন্ত্রীদের অনভিজ্ঞতা ও অযোগ্যতা*

*সরকার আরো সতর্ক হোক। ২০২০ সাল প্রায় আগত। সরকারের সব কর্ম’কাণ্ড যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী (মুজিব ব’র্ষ) উদ্‌যাপনের জন্য নিয়োজিত, তখন গু’হায় লুকানো পরা’জিত চ’ক্র আবার মাথা তুলেছে সরকারের অপ্রস্তুতির সুযোগে দং’শন করার জন্য। এবার হঠাৎ দ্রব্যমূল্য—বিশেষ করে পেঁয়াজের ঘা’টতি ও দাম বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রীদের অন’ভিজ্ঞতা ও অলস’তাও কাজ করেছে কি না জানি না।*

*পলাশীর যু’দ্ধের সময় হঠাৎ একদিন বৃষ্টি হয়েছিল। মীরজাফর এসে নবাবকে জানালেন, সৈন্যরা যু’দ্ধক্লান্ত। তারা এক দিন যু’দ্ধবিরতি চায়। শত্রু’পক্ষ ইংরেজরাও এক দিন যু’দ্ধবিরতি চায়। তা ছাড়া বৃষ্টির পানিতে কামানের গো’লাবারুদ ভিজে গেছে। এক দিন লাগবে তা শুকাতে। নবাব সিরাজ এক দিনের যু’দ্ধবিরতিতে সম্মতি দেন। মহাকবি নবীনচন্দ্র সেনের ‘পলাশী’ কাব্যগ্রন্থে এই যু’দ্ধবিরতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মীরজাফর সৈন্যদের বলছেন— ‘শোনো শোনো যো’দ্ধৃগণ/ নবাবের অনুমতি কাল হবে র’ণ।’*

*যু’দ্ধক্লান্ত নবাবের সৈন্যরা যুদ্ধবিরতির খবর পেয়ে আনন্দিত মনে অনেক আমোদ-ফূ’র্তির পর শি’বিরে ঘুমাতে গেছে। ঠিক এই সময় মীরজাফরের ইঙ্গিত পেয়ে ক্লা’ইভের সৈন্যরা ঘুমন্ত নবাবের সৈন্যদের ওপর ঝাঁ’পিয়ে পড়ে। নবাবের অনুগত সেনাপতি মোহনলাল ও মীর মদন মুষ্টিমেয় সৈ’ন্য নিয়ে যু’দ্ধ করে নিহ’ত হন। বাকি জেগে উঠা সৈ’ন্যরা মীরজাফরের হু’কুমে আর যু’দ্ধ করেনি। এভাবে ৫৬ হাজার সৈ’ন্য থাকা সত্ত্বেও নবাব সিরাজ তথাকথিত পরা’জয় বর’ণ করেন।*

*নবাবের এই অ’সতর্কতার দাম দিতে হয়েছে সারা বাংলাদেশকে দুই শ বছরের পরা’ধীনতার জোয়াল কাঁধে নিয়ে। বর্তমানেও একই অশনি’সংকেত যেন দেখছি বাংলাদেশের আকাশে। এবার সরকার অ’সতর্ক নয় চক্রা’ন্তকারীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে। কিন্তু মুজিব ব’র্ষ পালনের মহাযজ্ঞের দিকে এখন তাদের সব দৃষ্টি নিবদ্ধ। এই সুযোগ নিতে চাচ্ছে ষড়য’ন্ত্রকারীরা।*

*দেশের রাজনীতিতে এখন একটা lull period বা নিষ্ক’র্মা সময় চলছে। বি’রোধী শি’বিরে কোনো তৎপরতাই নেই। বিএনপি-জামা’য়াত শিবিরে তো নেই-ই। গণতন্ত্রের সোল এ’জেন্ট ড. কামাল হোসেনের ভাঙা শিবিরেও নেই। আন্দো’লন করার ক্ষম’তা তাঁদের এখন নেই এ কথা সত্য। কিন্তু দু-একটি নন ই’স্যুকে ই’স্যু করে রাস্তায় দু-একটি ছোটখাটো মি’ছিল করে নিজেদের অস্তিত্বের জানানও তাঁরা দিচ্ছেন না। এর অর্থ কি সরকারকে দেখানো আমরা একেবারেই নিষ্ক্রিয়। তোমাদের যা খুশি করো অথবা পলাশীতে নবাবের সৈ’ন্যদের মতো ঘুমাও।*

*বর্তমান সরকার যে ঘুমোচ্ছে তা নয়। কিন্তু তাদের সব কর্মতৎপরতা এখন মুজিব ব’র্ষ উদ্যাপনে কেন্দ্রীভূত। ঠিক এই সময়টাই বেছে নিয়েছে পরাজিত শ’ত্রুপক্ষ। আমার বিশ্বাস, এই শ’ত্রুপক্ষ তাদের অনুগত পুরনো ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেটগুলোর সাহায্য নিয়ে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কৃ’ত্রিম সংক’ট সৃ’ষ্টি এবং দাম বাড়িয়ে জন-অস’ন্তোষ তৈরি করে সরকারের পত’ন ঘ’টাতে চায়। স্বাভাবিক পথে অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষম’তা থেকে হ’টানো যাবে না বলেই এই সময়ে এই চক্রা’ন্ত। বিএনপির বহুরূপী নে’তা ব্যারিস্টার মওদুদের কানে চুয়াত্তরের দুর্ভি’ক্ষের প’দধ্বনি শোনা একেবারে তাৎ’পর্যহীন কথা নয়।*

*১৯৭৪ সালে ঠিক এই পরি’স্থিতি ঘ’টানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর প্রথম বি’প্লব স্বাধীনতার যু’দ্ধে জয়ী হওয়ার পর তাঁর অর্থনৈতিক মু’ক্তির যু’দ্ধ শুরু করতে যাচ্ছেন, পুরনো আ’মলাতান্ত্রিক শাস’নব্যবস্থা ভেঙে তাঁর গণ’মুখী শাসন’ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যাচ্ছেন, তখনই অস’তর্ক নয় ও অপ্রস্তুত সরকারের ওপর আ’ঘাত হা’না হয়। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তি’যুদ্ধের অংশীদার দলগুলো তখন সম্পূর্ণ ব্যস্ত ছিল নতুন শাসনকাঠামো গড়ে তোলার কাজে। নতুন শাসনকাঠামো তখনো আ’ঘাত স’হ্য করার মতো শক্ত হয়নি। ঠিক এই সময় ঘটানো হয় ১৫ই আ’গস্টের নার’কীয় হ’ত্যাকাণ্ড।*

*এই চক্রান্ত’কারীরা জানত নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ মুজিবকে ক্ষ’মতা থেকে হটা’নো যাবে না। ১৯৭২ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই শিক্ষা তারা লাভ করে। ফলে তারা ঢাকার পুরনো মোগলটুলী, মৌলভীবাজার, শ্যামবাজারের মুসলিম লী’গপন্থী ব্যবসায়ী সি’ন্ডিকেটগুলোর সাহায্য গ্রহণ করে। এটা আমার কথা নয়, ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মা’র্কিন দলি’লপত্র থেকেই এসব বিবরণ এখন বেরিয়ে আসছে। এদের গো’পন বৈঠক বসত কখনো আহসান ম’ঞ্জিল ও নবাব’বাড়ির অন্য কোনো দালা’নে। কখনো গভীর রাতে আগা’মসি লেনে খন্দকার মোশতাকের বাসায়। এসব বৈঠকে মাঝেমধ্যে মার্কি’ন রাষ্ট্র’দূত বো’স্টার সাহেবেরও আনাগোনা ছিল। সম্প্রতি মৃ’ত্যুর আগে এসব কথা স্বীকার করে গেছেন বো’স্টার।*

*চুয়া’ত্তরের দু’র্ভিক্ষ যে ছিল মেন মেই’ড ফে’মিন—মানুষের সৃ’ষ্ট দুর্ভি’ক্ষ এবং মুজিব সরকারকে উ’চ্ছেদের লক্ষ্যে কৃত্রি’ম খাদ্য সং’কট সৃ’ষ্টি করে লক্ষাধিক মানুষকে অনা’হারে মা’রা হয়—এ কথাটা মৃ’ত্যুশয্যায় শুয়ে বো’স্টার স্বীকার করে গেছেন মার্কিন সাংবাদিক লিক’ত্সুজের কাছে। সে সময়েও এই দুর্ভি’ক্ষ সৃষ্টির সাহায্যকারী ছিল কিছু খাদ্য ব্যবসায়ী। বিদেশ থেকে আসা রি’লিফদ্রব্য পর্যন্ত নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে অভাবী মানুষের হাতে না পৌঁছায়। কেন, ‘ম্যান’সেরু মিয়া’র’ তখনকার রহ’স্যকাহিনি আমরা কি এরই মধ্যেই ভুলে গেছি?*

*এবার ব্যা’রিস্টার মওদুদের মুখে চুয়াত্ত’রের পদ’ধ্বনির কথা শুনেই আমার মনে হয়েছে, তাঁরা আবার একটি চুয়াত্তর ঘটা’নোর ষড়’যন্ত্র আঁটছেন। এবার হয়তো বিদেশি সংযোগ এই ষড়’যন্ত্রে নেই। কিন্তু ‘দেশের পুরনো ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেটগুলো যে আছে তাতে আমার সন্দে’হ নেই। পেঁয়াজ সংক’ট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সংক’ট সৃ’ষ্টির চক্রান্ত’কারী কারা, তিনি তার খোঁ’জ নেবেন। সত্যি যদি তিনি খোঁ’জ নেন, তাহলে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে কেন বেড়েছে, কারা চক্রা’ন্ত করে বাড়িয়েছে, তার সন্ধা’ন পাবেন।*

*পেঁয়াজ সমস্যায় অবশ্য সরকারের গাফি’লতিও রয়েছে। আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এবার ভারতেই পেঁয়াজ সং’কট দেখা দেওয়ায় তারা বাংলাদেশসহ সর্বত্র পেঁয়াজ রপ্তানি ব’ন্ধ করে দিয়েছে। এ কথাটা সরকারের আগেই জানা ছিল। এ সম্পর্কে তাদের আগেই সত’র্ক হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল। তারা সম্ভবত সমস্যা’টিকে গু’রুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেনি। যখন গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে, তখন বহু দেরি হয়ে গেছে।*

*অ’সাধু ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেট এর সুযোগ নিয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের ঘা’টতি দেখা দিতেই তারা তাদের পেঁয়াজের স্ট’ক গুদা’মে লুকিয়ে ফেলেছে। না লুকিয়ে ফেললে পরে কয়েক টন পচা পেঁয়াজের স’ন্ধান মিলত না। পেঁয়াজের ঘা’টতি দেখা দিতেই মওদুদ সাহেবদের পেঁয়াজ বিজনেস সিন্ডি’কেটগুলো ই’শারা পেয়ে অন্যান্য দ্রব্যেরও দাম বাড়াতে শুরু করে, এমনকি চাল-ডালেরও। এ সময় নতুন ধান বাজারে উঠার আগে দাম একটু বাড়েই। অসাধু ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যাবসায়িক অতি লাভের জন্য নয়, অসাধু রাজনীতিকদের ইশা’রায়ও এ কাজটি করেছে। এ কথা বিশ্বাস করতাম না যদি লবণ নিয়েও কৃত্রিম সং’কট সৃ’ষ্টির জন্য বাজারে গুজ’ব প্রচার করা না হতো। সরকার অবশ্য এই গুজ’ব সময় থাকতে ব’ন্ধ করতে পেরেছে।*

*বর্তমান সরকার একটানা ১১ বছর ক্ষ’মতায় থেকেও পুরনো ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেটগুলো ভা’ঙতে পারেনি; বরং তোয়াজ করে দলে টানার চেষ্টা করেছে। তাতে কোনো লাভ হয়নি। এরা পুরনো অভ্যাসেরই দা’সত্ব করছে এবং সুযোগ পেলেই সরকার’বিরোধী ষড়’যন্ত্রে সাহায্য জোগায়। ২০০৪ সালে আমি কলকাতায় গিয়েছিলাম। স্টেটস’ম্যানের সম্পাদক তখন ছিলেন মানস ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসে তাঁকে তাড়িয়েছেন। সে কথা এখানে থাক। মানস ঘোষের কক্ষে বসে আছি। কলকাতার এক ব্যবসায়ী এলেন মানস বাবুর সঙ্গে দেখা করতে।*

*কী উদ্দেশ্যে তিনি এসেছিলেন তা জানি না। আমার সঙ্গে পরিচয় হতেই বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা উঠতেই তিনি বললেন, বাবু, হাসিনা সরকার যে ক্ষম’তায় এসে ক্ষম’তায় বেশি দিন থাকতে পারে না (তখন বাংলাদেশে বিএন’পি-জামা’য়াত ক্ষম’তায়) তার কারণ কি জানেন? পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশে তাদের বড় ব্যবসা’য়ীদের এ’জেন্ট হিসেবে কিছু বাঙালি ব্যবসায়ী গ্রুপ তৈরি করে গেছে। এরা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষ’মতায় দেখতে চায় না, শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে না। শেখ হাসিনা যদি এদের শিং ভে’ঙে না দেন, তাহলে ক্ষম’তায় যেতে পারবেন না। ক্ষম’তায় গেলেও থাকা মুশকিল হবে। আমরা তো এদের সঙ্গেই ব্যবসা-বাণিজ্য করি। তাই সব খবর রাখি।*

*কলকাতার ব্যবসায়ীর এ কথাগুলো আমার মনে ছিল। তাই ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষম’তায় ফিরে আসতেই ২০১০ সালে আমার এক কলামে লিখেছিলাম, মনে হয় হাসিনা সরকার বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক ধাঁ’চের (মি’শ্র) অর্থনীতিতে আর ফিরে যেতে পারবে না। কারণ বিশ্বে সমা’জতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরাট বিপ’র্যয় সৃ’ষ্টি হয়েছে। তবে হাসিনা সরকার যদি বাজার অর্থনীতির দাবি মেনে দেশ চালাতে চায়, তাহলে পুরনো কায়েমি স্বার্থের ভিত ভাঙার জন্য পুরনো ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেটগুলো ভাঙ’তে হবে, নয়তো নতুন ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেট তৈরি করে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাবসায়িক প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিয়ে একটি সিন্ডি’কেটের মনো’পলি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। না হলে এরাই অর্থনীতির রা’শ নিয়ন্ত্র’ণ করবে। তাদের স্বা’র্থের অনুকূলে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ে খেলা করবে।*

*সরকার আমার সাবধান’বাণীতে কান দেয়নি। তারা অশুভ রাজনৈতিক সি’ন্ডিকেট, ছাত্ররাজনীতিতে অ’শুভ সিন্ডিকে’টগুলো ভা’ঙার বদলে পোষণ করেছে। তারই পরিণতি ক্যা’সিনো কা’ণ্ড, বুয়েট হ’ত্যা, পুরনো ব্যবসায়ী সিন্ডি’কেটও সরকার ভা’ঙেনি। নতুন সিন্ডি’কেটও গড়ে তোলেনি, পুরনো সিন্ডিকে’টগুলোই সরকারের এক শ্রেণির মন্ত্রী ও আমলাদের পৃষ্ঠপোষ’কতায় ফু’লেফেঁপে উঠে এতই প্রভাবশালী হয়েছে, এখন তারা শুধু অর্থনীতি নয়, রাজনীতিও নিয়’ন্ত্রণ করতে চায়। দেশে বিরো’ধী দলের কোনো কর্ম’কাণ্ড নেই দেখে সরকার উত্ফুল্ল হতে পারে; কিন্তু কিছু ব্যব’সায়ী সিন্ডি’কেট বিরো’ধী দলের হয়ে সরকারের বিপ’দ ঘ’টানোর জন্য কিভাবে বাজার চক্রা’ন্ত (Market conspiracy) শুরু করতে পারে তা সম্ভবত এখন বুঝতে পেরেছে।*
*সরকার এই চ’ক্রান্ত সম্পর্কে অবহি’ত আছে এবং সত’র্কও আছে তা জানি; কিন্তু চক্রা’ন্ত ব্য’র্থ করার প্রস্তুতি তাদের আছে কি?*
*লেখক: আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, লন্ডন, ২৪ নভেম্বর, রবিবার, ২০১৯।*