প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *‘ডা’ন্স বা’রের’ নামে যেভাবে পা’চার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণীরা*

*‘ডা’ন্স বা’রের’ নামে যেভাবে পা’চার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণীরা*

103
*‘ডান্স বারের' নামে যেভাবে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণীরা*

*ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করতেন পারুল আকতার (ছদ্মনাম)। দরিদ্র পরিবারের সন্তান পারুল আক্তার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর জীবিকার তাগিদে নাচকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে নাচতে গেলে তার সঙ্গে দেখা হয় এক ব্যক্তির। সেই ব্যক্তি দু’বাইয়ের একটি ডা’ন্স বা’রের এজে’ন্ট।*
*পারুল আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ওই লোক আমাকে বলছে, তুমি তো ভালোই নাচ। দু’বাই যাইবা? ওইখানে স্টে’জে নাচলে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পাইবা। টাকার কথা শুনে আমি রাজি হইলাম।’*

*দু’বাই যেতে পারুল আক্তারের কোনো টাকা খরচ হয়নি। কিন্তু এই বিষয়টিও তার মনে কোনো স’ন্দেহ তৈরি করেনি।*
*দু’বাই গিয়ে ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় পারুলকে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে ডা’ন্সের কথা বইলা নিয়া যাইত। পরে ওইখানে ছেলেদের রুমে পাঠানো হয়। ওখানে পরিস্থিতির শি’কার।’*
*পারুল আক্তারের মতো অনেক মেয়েকে এভাবেই দুবাইয়ের ডা’ন্সবারে চাকরি দেওয়ার নামে জো’র করে দে’হব্যবসায় বা’ধ্য করা হয়েছে।*

*যেভাবে দু’বাইতে পা’চার করা হচ্ছে*
*৯ মাস আগে দু’বাই ফেরত কিছু নারীর অভি’যোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে ত’দন্ত শুরু করে নারায়ণগঞ্জের র‍্যা’পিড অ্যা’কশন ব্যাটা’লিয়ন (র‌্যা’ব)। নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব ১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমরা খবর পাচ্ছিলাম যে এখান থেকে কিছু মেয়ে দু’বাই আসা যাওয়া করছে। আমাদের কাছে কিছু অভি’যোগও এসেছে।’*
*৯ মাস তদন্তের পর র‍্যা’ব কর্মক’র্তা আলেপ উদ্দিনের নেতৃ’ত্বে একটি দল গত রোববার ছয়জনকে আ’টক করেছে। যারা দু’বাইয়ের ‘ডা’ন্স বা’রে’ নারী পা’চারের সঙ্গে জড়িত বলে অভি’যোগ রয়েছে।*

*এই ছয়জনের মধ্যে একজন পাস’পোর্টের দালাল, দুইজন ডা’ন্স বা’রের এ’জেন্ট এবং দুই জন ডা’ন্স বা’রের মালিক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে র‍্যা’ব জানতে পারে, পাঁচটি ধাপে দু’বাইয়ের ডা’ন্স বা’রে নারীদের পা’চার করা হয়।*
*প্রথম ধাপে রয়েছে এ’জেন্ট। তাদের কাজ হচ্ছে মেয়েদের টা’র্গেট করা এবং তাদেরকে প্রলো’ভন দেখানো। এর সঙ্গে দু’বাই ফেরত কিছু নারীও জড়িত রয়েছে। কারণ তাদের মুখে ‘আর্থিক সমৃদ্ধির গল্প’ অন্য নারীদের প্র’লুব্ধ করে।*
*দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে পাস’পোর্ট করিয়ে দেবার দালাল’চক্র। মেয়েদের রাজি করানো সম্ভব হলে দা’লালরা তাদের পাস’পোর্ট পেতে সহায়তা করে। মেয়েদের ছবি পাঠানো হয় দুবাইতে ডা’ন্স বা’রের মালিকদের কাছে। র‍্যা’ব বলছে ছবি দেখে পছন্দ হলে মালিকরা ঢাকায় আসে তাদের দেখার জন্য।*

*তৃতীয় ধাপে রয়েছে ট্রা’ভেল এ’জেন্ট। তাদের কাছে টুরি’স্ট ভি’সা পাঠিয়ে দেয় দুবা’ইয়ের ডা’ন্স বা’রের মালিকরা।
পরবর্তী ধাপে আছে বাংলাদেশের বিমা’নবন্দরে কর্মরত কিছু অসাধু ব্যক্তি। একজন নারী ইমিগ্রে’শন পেরিয়ে দু’বাই যাবার জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘু’ষ দিতে হয়।*
*র‍্যা’ব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন জানান, একজনকে পাঠাতে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। যার পুরোটাই বহন করে ডা’ন্স বা’রের মালিকরা। দু’বাইতে পৌঁছানোর পর একটি হো’টেলে নিয়ে যাওয়া হয় এসব নারীদের। তারপর সেখান থেকে কোনো বা’ড়িতে নিয়ে ব’ন্দী করা হয় এবং দে’হব্যবসায় বা’ধ্য করা হয়।*

*আলেপ উদ্দিন বলেন, ‘ত’দন্তে দেখা গেছে একটি ট্রা’ভেল এ’জেন্সি শুধু চলতি বছরেই ৭২০ জন তরুণীকে দু’বাই এবং মালয়েশিয়া পাঠিয়েছে। এ বিষয়টি র‌্যা’বের কাছে বেশ অ’স্বাভাবিক মনে হয়েছে।’*
*গ্রেপ্তার হওয়া ডা’ন্স বা’রের মালিক এবং এ’জেন্টদের কাছ থেকে র‍্যা’ব জানতে পেরেছে যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর দুই থেকে আড়াই হাজার নারীকে ডা’ন্স বা’রের নামে দু’বাই পা’চার করা হয়।*
*‘একটা মেয়েকে দু’বাই নিয়ে যেতে ডা’ন্স বা’রের মালিকের খরচ হয় দুই লাখ টাকা। অথচ তাদের একজনকে দিয়ে ডা’ন্স বা’রের মালিকরা প্রতিমাসে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করে’, যোগ করেন র‍্যা’ব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন।*