প্রচ্ছদ স্পটলাইট *এ সময়ের ব্য’র্থ মন্ত্রী যারা, ব্যর্থ’তার দা’য় কে নেবে?*

*এ সময়ের ব্য’র্থ মন্ত্রী যারা, ব্যর্থ’তার দা’য় কে নেবে?*

781
*এ সময়ের ব্যর্থ মন্ত্রী যারা, ব্যর্থতার দায় কে নেবে?*

*টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষম’তায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরু’দ্ধে ব্য’র্থতার অভি’যোগ উঠেছে। এই অভি’যোগ যে বিরোধী পক্ষ থেকে উঠেছে, তা নয়। সাধারণ মানুষ, এমনকি খো’দ আওয়ামী লীগ থেকেও তারা সমালোচ’নায় বি’দ্ধ হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নে’তাকর্মীরা তাদের ঘরোয়া আড্ডায় বলছে যে, এই ব্যর্থ মন্ত্রীদের জন্যই আওয়ামী লীগ চা’পের মুখে পড়েছে এবং গত ১১ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার এরকম চাপের মুখে আগে কখনো পড়েনি।*

*আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকেই মন্ত্রীরা দা’য়িত্ব পালনে কতটুকু যোগ্য, সেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, তারা মন্ত্রণা’লয়ের কাজকর্ম ভালোভাবে বুঝছেন না এবং তাদের ব্যর্থতার কারণেই পরি’স্থিতি নাগা’লের বাইরে চলে যাচ্ছে। যাদের নিয়ে এই সমা’লোচনাগুলো হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন:*

*বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি: গত তিনমাস ধরেই পেঁয়াজের বাজারে আ’গুন জ্ব’লছে এবং পেঁয়াজের লা’গামহীন উর্ধ্ব’গতিতে মানুষের নাভি’শ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে এখন যখন টি’সিবি খোলা বাজারে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে, সেই পেঁয়াজের জন্য মানুষের লা’ইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সরকার তীব্র সমা’লোচনার মুখে পড়ছে পেঁয়াজের জন্য। মনে করা হচ্ছে যে, বাণিজ্য মন্ত্র’ণালয় এই পেঁয়াজ সংক’ট মোকাবে’লায় যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ পারেনি।*

*বাণিজ্য মন্ত্রণা’লয়ের ব্যর্থ’তার মধ্যে রয়েছে বাজার নিয়ন্ত্র’ণ করতে না পারা, পেঁয়াজের কতো মজুদ এবং কতো চাহিদা রয়েছে- সে ব্যাপারে সামঞ্জস্য বিধান করতে না পারা, যখন পেঁয়াজের সংক’ট দেখা দিলো, তখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়া।*
*সরকার, বিরোধী দল মনে করছে পেঁয়াজ সংক’টের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রী তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্য’র্থ হয়েছে। এমনকি যখন পেঁয়াজ সংক’ট চলছে, তখন তিনি অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছেন। এটা নিয়েও দলে এবং দলের বাইরে তাকে নিয়ে সমা’লোচনা হচ্ছে।*

*রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন: দ্বিতীয় তালি’কায় রয়েছেন রে’লমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনিও আওয়ামী লীগের নে’তাকর্মীদের কাছে ব্য’র্থ মন্ত্রী হিসেবে চি’হ্নিত হচ্ছেন। একের পর এক রে’ল দুর্ঘ’টনা ঘ’টছে। যদিও এই দুর্ঘট’নার প্রেক্ষিতে কিছু ত’দন্ত ক’মিটি গঠন করা হচ্ছে। কিন্তু এই তদ’ন্ত ক’মিটিগুলো কি প্রতি’বেদন দিচ্ছে, কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এই নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রে’লযাত্রা এখন সাধারণ মানুষের কাছে বিপ’জ্জনক হয়ে উঠেছে। রে’লের ব্যাপারে জনগণের কাছে আস্থাহী’নতা বেড়েছে।*

*পরররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন: সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে টানা’পোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কূট’নৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে পশ্চিমবঙ্গে কিছু সংখ্যক বাঙালিকে আ’টক এবং তাদেরকে বাংলাদেশে পুশ’ইন করানোর আনুষ্ঠানিক ঘো’ষণা, সারা ভারতজুড়ে বাংলাদেশিদের খুঁ’জে বের করার জন্য নাগরি’কপঞ্জী করার ঘোষ’ণা এবং বিজে’পির অনেক নে’তারা যখন বলছেন যে বাংলাদেশি যারা অনু’প্রবেশকারী রয়েছে, তাদের ভারতে থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে- এই অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে একটি না’জুক অবস্থার তৈরি হয়েছে। এটা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ব্যা’খ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।*

*গড় মেয়াদে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে উচ্চতায় উঠেছিল, এখন ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়াও মিয়ানমার ই’স্যুতেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি করছে তা নিয়ে জনমনে নানারকম প্রশ্ন রয়েছে।*
*সবচেয়ে বড় মানবিক বিষয় হলো সৌদি আরব থেকে যে একের পর এক নারী কর্মীদেরকে নির্যা’তন নি’পীড়ন করে দেশে পাঠানো হচ্ছে, তাদের ব্যাপারেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি মোকা’বেলা করছে না বলেও কূট’নৈতিক ম’হল মনে করছে। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিষয়গুলোর গভীরে যেতে ব্য’র্থ হচ্ছেন এবং বিষয়গুলোর গুরুত্ব অ’নুধাবন করতে পারছেন না।*

*খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার: পেঁয়াজের পরে চালের বাজারও এখন অস্থির হয়ে উঠছে। চালের বাজার অস্থির হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রীকে নিয়েও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার একের পর এক বক্তৃতা, বি’বৃতি জনমনে বি’রক্তির উদ্রেক করছে। মনে করা হচ্ছে যে, পেঁয়াজের পর যদি চালের দাম লাগামহীন হয়ে যায়, তাহলে মানুষের অস্বস্তি অস’ন্তোষের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।*

*আওয়ামী লীগের অনেক নে’তাকর্মীরই এখন প্রশ্ন যে, ব্য’র্থ মন্ত্রীদের দায় এখন কে নেবে? এই দায় কি আওয়ামী লীগ নেবে নাকি সরকার নেবে? অবশ্য আওয়ামী লীগের তিন বছরের মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যখন কোনো মন্ত্রী সম’স্যায় পড়েন বা দা’য়িত্ব পালনে ব্য’র্থ হন, তখনই তাকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো নজির নেই। বরং সেই মন্ত্রীকে সাহায্য সহযোগীতা করার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী অনুসরণ করেন। সেই দৃষ্টা’ন্ত অনু’সরণ করে এই মন্ত্রীরা থাকবেন নাকি পরি’স্থিতি মোকা’বেলার জন্য তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে, সেটা এখন একটা কোটি টাকার প্রশ্ন।*

*আওয়ামী লীগের অনেক নে’তাই মনে করেন যে, এই ব্য’র্থ মন্ত্রীদের স’রিয়ে দিয়ে যোগ্যদের দায়িত্ব দিলে পরিস্থি’তির উন্নতি হবে। তবে আওয়ামী লীগের নী’তিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ এইরকম চিন্তার সঙ্গে তারার সহমত পো’ষণ করেন না। বরং তারা মনে করছে, সরকারের বি’রুদ্ধে যে একটি পরিক’ল্পিত ষড়’যন্ত্র হচ্ছে, সেটাকে সম্মি’লিতভাবে মো’কাবেলা করতে হবে। কোনো মন্ত্রীকে বা’দ দিলে সম’স্যার সমাধান হবে না।*