প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *হাজার কো’টির মালিক ক্যা’সিনোর আলী’বাবা কিনেছেন আ’লীগ নে’তার প’দ*

*হাজার কো’টির মালিক ক্যা’সিনোর আলী’বাবা কিনেছেন আ’লীগ নে’তার প’দ*

466
*হাজার কোটির মালিক ক্যাসিনোর আলীবাবা কিনেছেন আ'লীগ নেতার পদ*

*বিশ্বখ্যাত আ’রব্য সাহিত্যের অমরগাথা আ’লীবাবা ও চল্লিশ চো’রের কাহি’নি সর্বজন’বিদিত। হত’দরিদ্র কাঠুরে আলীবা’বার একটি গাধা ও কু’ঠারই ছিল সম্বল। একদা একদিন বনে কাঠ কা’টতে গিয়ে পাহাড়ের গু’হায় চল্লিশ চো’রের লু’কিয়ে রাখা রত্নভাণ্ডার দেখে ফেলেন তিনি। এর পর সবার অগো’চরে সেই বিশাল ভা’ণ্ডার থেকে গাধার পিঠে করে নিয়ে আসেন বি’পুল পরিমাণ হী’রা-জহ’রত ম’ণি-মা’ণিক্য; হত’দরিদ্র আলী’বাবা হঠাৎ করে বনে যান ধনাঢ্য ব্যক্তি। আ’রব্য উপাখ্যা’নের সেই আলী’বাবার সাক্ষাৎ রূপ আলী আহম্মদ। আলী’বাবা একটি ম’ন্ত্র পড়ায় খুলে গিয়েছিল চো’রদের রত্ম’ভাণ্ডার। আর আলী আহম্মদের ম’ন্ত্র হচ্ছে জু’য়া, এর বদৌলতেই তিনি গড়েছেন সম্প’দের পাহা’ড়।*

*অনু’সন্ধানে জানা যায়, টাকা কামানো বেড়ে যাওয়ার পর আলী আহম্মদের স্ত্রীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কাগজে কলমেই অন্তত আটটি বিয়ে করেছেন তিনি। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক রয়েছে এমন দুজন বলেন, আলী আহম্মদের আটটি বিয়ের ঘট’না কেবল জানাজানি হয়েছে। তিনি আরও অন্তত চার থেকে পাঁচটি বিয়ে করেছেন। এসব স্ত্রী ঢাকার বাইরে বসবাস করেন।*

*সূ’ত্রের খবর, এক সময় নিউ’মার্কেট ও বঙ্গ’বাজারে চো’রাই কাপড়ের কারবার ছিল আলী আহম্মদের। ভা’ণ্ডারির ভ’ক্ত হওয়ায় তার নামের শেষেও তিনি ভা’ণ্ডারি ব্যবহার করে থাকেন। এ কারণে অনেকে তাকে ভা’ণ্ডারি বলেও ডাকেন। ১৯৯৫ সাল থেকে গুলিস্তানের মুক্তি’যোদ্ধা ক্লা’বে নেতাদের ফুট-ফর’মায়েশ খা’টতে শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে জাফর মা’স্টার নামের একজন ক্লা’ব পরিচা’লনার ই’জারা পান। তার হয়ে বছর দুই ক্লা’ব পরি’চালনা করেন আলী। তখন অবশ্য ক্লা’বগুলোয় ক্যাসি’নো কারবার শুরু হয়নি। ক্যা’সিনোর ধুন্ধু’মার কারবার শুরু হওয়ার পর, ২০১০ সালে মুক্তি’যোদ্ধা ক্লা’বে আধিপ’ত্যের বিস্তা’র ঘটে আলী আহম্মদের। এর পর মাত্র দশ বছরের ব্যব’ধানে সেই তিনিই এখন হাজা’র কো’টি টাকার মালিক।*

*এ সময়কালেই তিনি অন্তত সাতটি বিয়ে করেছেন। শত শত কোটি টাকা ছাড়াও ৩০টি বা’ড়ি, অর্ধশতাধিক ফ্ল্যা’ট, প্রায় ৩০টি জমির প্ল’ট ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল বিত্ত’বৈভব গড়ে তুলেছেন এক সময় নেতাদের ফর’মায়েশ খাটা আলী। মুক্তি’যোদ্ধা ক্রী’ড়াচক্রে ক্যা’সিনো কারবা’রের মূল হো’তা আলী ক্লা’বটিতে ওয়া’ন-টে’ন, তিন তা’সসহ বিভিন্ন রকম জু’য়ার আ’সর বসান। আর ক্যাসি’নো তো রয়েছেই। এ সবের বদৌলতে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েন তিনি।*

*জানা গেছে, মুক্তি’যোদ্ধা ক্লা’বের প্রকৃত ইজা’রাদার ছিলেন হারুনুর রশিদ। কিন্তু ২০১০ সালের দিকে তার বিরুদ্ধে কূট’কৌশলে নানা অভি’যোগ তোলা হয়। ফলে তার ক্যা’সিনো কারবার আপা’তত ব’ন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে হারুনুর রশিদ মা’রা যান। এর পর ই’জারা পান রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ইজা’রা-সং’ক্রান্ত এ নির্দে’শ অগ্রাহ্য করে অগঠন’তান্ত্রিকভাবে একটি প্রভা’বশালী চ’ক্র ক্যা’সিনো ও ক্লা’ব পরিচালনার ভার তুলে দেয় আলী আহম্মদের হাতে।*

*এ ক্ষেত্রে আগে ইজা’রাপ্রাপ্ত হারুনুর রশিদের স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে জনৈক হোসনে আরা বিউটির নামে ক্লা’বটির ইজা’রা নেন আলী আহম্মদ। অনুসন্ধা’নের ত’থ্য বলছে, এই নারী প্রকৃতপক্ষে মৃ’ত হারুনুর রশিদের স্ত্রী নন; তার স্ত্রীর নাম রুবিনা খাতুন, বসবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। নথি’পত্র জা’লিয়াতির মাধ্যমে বিউটিকে হারুনের স্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়। যদিও পরে আলী আহম্মদ নিজেই তাকে স্ত্রী করে ঘরে তোলেন।*

*হারুনের মৃ’ত্যুর পর ইজারা পাওয়া রফিকুল ইসলাম বলেন, কাগজে কলমে ইজা’রা পেলেও কোনোদিন আমি ক্লা’বে প্রবেশ করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বলা হয়, ওই হারুনের কথিত স্ত্রী বিউটিকে ক্লা’বের ইজা’রা প্রদান অ’বৈধ। এতেও কাজ হয়নি। ক্লা’বটি কব্জায় নিয়ে আলী আহম্মদ এটিকে ক্যা’সিনো কারবারের আ’খড়া বানিয়ে ফেলেন। এহেন কর্মে নে’পথ্য থেকে তার সঙ্গে যোগ’সাজশ ছিল যুবলীগ নে’তা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের।*

*আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না আলী। শাসক এ দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রভাবশালী এক নে’তার সুপা’রিশে শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির প’দ পান তিনি। এ জন্য ওই নে’তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ উৎ’কোচ হিসেবে দিয়েছিলেন আলী; দিয়েছিলেন নানা স্বর্ণালঙ্কারও। শাহবাগ থানা কমি’টির শীর্ষ এক নে’তাকেও এভাবে বাগে আনেন তিনি। বি’স্ময়কর বিষয় হচ্ছে, মুক্তি’যোদ্ধা না হয়েও টাকার জো’রে নব্য মুক্তি’যোদ্ধা বনে যান আলী আহম্মদ, নিজের নামের আগে যু’ক্ত করেন ‘বীর মুক্তি’যোদ্ধা’।*

*আলী আহম্মদের প্রথম স্ত্রী মনোয়ারা এবং সন্তান শফিক ও রানার নামেও রয়েছে অ’গাধ সম্পদ। কার্যত তাদের কোনো ব্যবসাই নেই। এসব সম্পদের উৎস বাবার ক্যা’সিনো কারবার। যে ক্লা’বে ক্যাসি’নো কারবার চালিয়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আলী আহম্মদ, সেই মুক্তি’যোদ্ধা ক্রীড়া’চক্র পর্যন্ত তার কাছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাওনা। কতি’পয় নে’তার ছায়া থাকায় এ অর্থ পরি’শোধ করতে হয়নি তার।*
*সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে আলী আহম্মদের ৩০টি বা’ড়ি, অর্ধশত ফ্ল্যা’ট ও ১৫টি প্ল’ট রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বিপুল সম্পদ।*

*জানা যায়, ঢাকার জুরাইনে ‘আনিকা ভিলা’ নামে দশতলা একটি বিলা’সবহুল বা’ড়ি, মাতুয়াইলের স্বপন মৃধা রোডে ‘সাজেদা ভিলা’ নামে সাততলা বা’ড়ি, একই রোডে স্ত্রী লাভলীর নামে ৬টি ফ্ল্যা’ট, রূপগঞ্জের ছনপাড়ায় একটি বাড়ি, টঙ্গীর তুরাগে ৩টি বা’ড়ি, মানিকনগর ওয়াসা রোডে ২টি ফ্ল্যা’ট, কাল’ভার্ট রো’ডে একটি ফ্ল্যা’ট, এলিফ্যান্ট রোডে ২টি ফ্ল্যা’ট, সাইনবো’র্ডের গিরিধারা এলাকায় একটি বা’ড়ি, সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ের টাই’লস মা’র্কেটে ৪টি দোকান, টঙ্গী বি’সিক শিল্প এলাকায় ১৫ কাঠার প্ল’ট, শ্যামপুর কমিশনার রো’ডে একটি বাড়ি, শনিরআখড়ায় একটি বা’ড়ি ও ২টি ফ্ল্যা’ট, আফতাবনগর প্রজেক্টে ৩টি প্ল’ট, মানিকনগর পুকুরপাড়ে একটি বা’ড়ি, উত্তরায় নির্মাণাধীন ২টি বা’ড়ি, চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডারি এলাকায় একটি সুরম্য আটতলা বা’ড়ি নির্মাণ করেছেন আলী আহম্মদ।*

*গাজীপুরের মাওনায় সাড়ে আটবিঘা জমিতে বানিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন বাগানবা’ড়ি। এ বা’ড়িতে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশুপাখি পালনের পাশাপাশি মাছ চাষও হয়। এ ছাড়া কক্সবাজার ও ময়মনসিংহেও তার বা’ড়ি-ফ্ল্যা’ট ও জমির প্ল’ট রয়েছে।*
*সূত্রমতে, নব্বইয়ের দশকে প্রথম বিয়ে করেন মনোয়ারা বেগম ববিকে। এ স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে-শফিক ও রানা। আলী আহম্মদের অধিকাংশ সম্পত্তি দেখভালের দায়ি’ত্বও ছিল এ দুই সন্তানের ওপর। অন্যান্য স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করলেও নিয়মিত যাতায়াত নেই। তবে সবাইকেই তিনি কিনে দিয়েছেন একাধিক ফ্ল্যা’ট, প্ল’ট ও বা’ড়ি।*

*জানা যায়, প্রথম স্ত্রী মনোয়ারা ও তার সন্তানেরা বেশিরভাগ সময় থাকেন এলিফ্যা’ন্ট রো’ডের ফ্ল্যা’টে। এর বাইরে গাজীপুরের মাওনায়ও তারা মাঝেমধ্যে থাকেন। এ স্ত্রীর ঘরে দুই সন্তান মুক্তি’যোদ্ধা ক্লা’বের ক্যাসি’নো বাণিজ্যও দেখাশোনা করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিদা বেগমের জন্য রয়েছে ছনপাড়ায় বাড়ি ও ফ্ল্যা’ট। তৃতীয় স্ত্রী সাজেদা থাকেন মাতুয়াইলের সাজেদা ভি’লায়। চতুর্থ স্ত্রী লাভলীর জন্য স্বপন মৃধা রো’ডে কিনে দিয়েছেন চারটি ফ্ল্যা’ট ও একটি প্ল’ট। তিনি সেখানেই থাকেন। পঞ্চম স্ত্রী রোকেয়ার জন্য উত্তরায় বা’ড়ি করে দিয়েছেন। ষষ্ঠ স্ত্রী হোসনে আরা বিউটি থাকেন মানিকনগরে। সেখানে তার জন্য রয়েছে একাধিক ফ্ল্যা’ট। সপ্তম স্ত্রী স্বপ্নাহারের জন্য ফ্ল্যা’ট রয়েছে শ্যামপুরে। আর কাগজে কলমে সর্বশেষ স্ত্রী বরিশালে রুমনের বোন নামে পরিচিত শিল্পী। গত এক বছর ধরে তার সঙ্গেই দাম্পত্য জীবনের অধিকাংশ সময় কাটাচ্ছেন আলী আহম্মদ।*

*স্বামী সম্পর্কে আলী আহম্মদের ষষ্ঠ স্ত্রী হোসনে আরা বিউটি বলেন, তার (স্বামী) এসব ত’থ্য আমি জানতাম না। পরে শুনেছি তিনি অনেকগুলো বিয়ে করেছেন। তবে আমার সঙ্গে এখন আর যোগাযোগ নেই। দ্বিতীয় স্ত্রী রাশিদা ও তৃতীয় স্ত্রী সাজেদাকে ফো’ন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তারা আর মুখ খো’লেননি।*
*এসব বিষয় নিয়ে আলী আহম্মদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি কারণ তিনি এখন গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তার মোবা’ইল ফো’ন নম্ব’রে কল করলে নম্বরটি ব’ন্ধ পাওয়া যায়। তার বেশ কয়েকটি বা’ড়িতে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বাড়ির কেয়ার’টেকাররা তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাতে অপার’গতা প্রকাশ করেন।*

*শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম আতিকুর রহমান বলেন, আলী আহম্মদ শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাগজে কলমে। আমরা তাকে চিনতাম না। তাকে নে’তা বানানোর জন্য আমি কোনো সুপা’রিশও করিনি। কমিটি প্রকাশের পর সেখানে তার নাম দেখেছি। তিনি জানান, আলী আহম্মদকে বহিষ্কা’র করতে হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নির্দেশ’না লাগবে, নতুবা সম্ভব নয়। তাই তার কিছু করার নেই।*