প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *২৮৬ নারীকে বি’য়ে করেন প্র’তারক জাকির যে কৌ’শলে*

*২৮৬ নারীকে বি’য়ে করেন প্র’তারক জাকির যে কৌ’শলে*

430
*২৮৬ নারীকে বিয়ে করেন প্রতারক জাকির যে কৌশলে*

*বিভিন্ন সময় প্রতা’রণার আশ্র’য় নিয়ে ২৮৬ নারীকে বিয়ে করা লালমনিরহাটের যুবক জাকির হোসেনের নাকি ৭শ’ বি’য়ের করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু গত বুধবার তেজগাঁও থানায় এক ছাত্রীর ধ’র্ষণের মাম’লায় গ্রেফতার হওয়ায় তার সেই বাস’না থম’কে গেছে। যদিও ২৮৬ নারীকে তার বিয়ে করা নিয়ে দেশ’জুড়ে চলছে আ’লোচনা-স’মালোচনা। দেশবাসীর মনে প্রশ্ন কিভাবে এতগুলো নারীকে একজন যুবকের পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব হলো?*

*জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমাজের উচ্চবিত্ত, আত্মনির্ভরশীল, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী নারীদেরকে টা’র্গেট করতেন প্রতা’রক জাকির হোসেন। এরপর ভু’য়া নাম দিয়ে ফে’সবুক একা’উন্ট খুলে তাদের ফ্রে’ন্ড রিকু’য়েস্ট পাঠাতেন। এক্ষেত্রে তাদের দৃ’ষ্টি আ’কর্ষণ করতে নিজেকে বেস’রকারি অফি’সের বড় কর্মক’র্তা, আবার কখনো বড় ব্যবসায়ীর মতো মিথ্যা ত’থ্য দিয়ে প্রলু’ব্ধ করতেন। কখনো নিজের এসব মিথ্যা তথ্য সম্বলিত ফে’সবুকে পাত্রী চাই বি’জ্ঞাপন দিতেন। এসব দেখে অনেক নারী নিজে থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। আবার কোনো টা’র্গেট নারী তার ফ্রে’ন্ড রিকু’য়েস্ট এ’কসেপ্ট না করলে তার মেসে’ঞ্জারে মেসে’জ দিতেন।*

*একবার কোনো নারীর সঙ্গে কোনো ভাবে যোগাযোগ করতে পারলেই ধীরে ধীরে সেটা প্রেমের আলাপে নিয়ে যেতেন। এরপর তার মো’বাইল ন’ম্বর চাইতেন। তখন মো’বাইলে দিন-রাত কথা বলা শুরু করতেন। মিষ্টি কথা বলে তার প্রতি দুর্ব’ল করতেন নারীদের। পরবর্তীতে নিজের মিথ্যা আভিজাত্য তুলে ধরতে দামি পোশাক পরিধান আর দামি গা’ড়ি নিয়ে এসব নারীদের সঙ্গে দেখা করতেন। খাওয়া দাওয়া করতেন দামি রে’স্তরাঁয়। নারীদের কাছে কখনো কখনো নিজেকে এতি’ম বলে দা’বি করতেন, বিয়ের সময় বাবা-মায়ের ঝামেলায় যেতে না হয়। বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে নারীদের বলতেন তার ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা প্ল’ট ও ফ্ল্যা’ট আছে। এরপর যখন বুঝতে পারতেন নারীরা তার প্রতি পুরো দু’র্বল হয়ে গেছেন তখন কৌশ’লে বিয়ের প্রস্তাব দিতে বসতেন।*

*একপর্যায়ে ভু’য়া কাজী দিয়ে মি’থ্যা কাবিননা’মায় বি’য়ে করতেন। কিন্তু বিয়ের পরই তার আসল চেহারা বেরিয়ে আসতো। একের পর এক ফ’ন্দি এঁ’টে নববধূ ও তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণা’লঙ্কার হা’তিয়ে নিতেন। প্রাথমিক কৌশ’ল হিসেবে ওই নারীর বাবা মায়ের কাছে বিয়ে পরবর্তী দোয়া নেয়ার জন্য দেখা করতে যেতেন। জানতেন নতুন জামাইকে বরণ করে তার শশুর-শাশুড়ি নানা উপহার দিবেন। তাই হয়তো নগদ টাকা, স্ব’র্ণের আং’টি, গলার চে’ইনসহ নানা উপহার পেতেন। এরপর কৌশলে স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো অন্ত’রঙ্গ মূহুর্তের ছবি বা ভি’ডিও ধারণ করে রাখতেন। কিছু দিন যাবার পর সেই ছবি দিয়ে স্ত্রীকে ব্ল্যা’কমেইল করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁ’স করার ভ’য় দেখিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য চা’প প্র’য়োগ করতেন।*

*জানা গেছে, পরিচয় থেকে শুরু করে প্রেম, বিয়ে এবং ছাড়াছাড়ি সবকিছুতে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে করতেন। তার কৌশ’লের কাছে সহজ-সরল নারীরা হার মানতেন। যখন বুঝতে পারতেন বা ধরা পড়তো তার প্রতা’রণা তখন হয়তো অনেক দেরী হয়ে যেত। মান সম্মানের ভয়ে অনেক নারীই তাদের পরিবার এমনকি থানা পুলিশের কাছে এসব বিষয়ে অভি’যোগ করতেন না।*

*পুলিশ জানায়, প্রতা’রণার ফাঁ’দ পেতে তরুণীদের সর্বস্ব লু’টে নিতে জাকির হোসেনের রয়েছে এক সিন্ডি’কেট চ’ক্র। সং’ঘবদ্ধ ওই চ’ক্রে রয়েছে নক’ল কাজী ও মৌলভি। এ ছাড়া চক্রের কিছু নারী-পুরুষ নিজের মা-বাবা ও ভাইবোন বানিয়ে জাকির তরুণীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এভাবে বিয়ের নামে গত দুই বছরে জাকির ২২ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী নারীকে ধ’র্ষণ করেছেন।*

*প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও থা’নায় মাম’লা করেন মণিপুরি পাড়ার একটি ছাত্রী হো’স্টেলের ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী। অভি’যোগের ভিত্তিতে সে দিনই জাকির ও তার সহযোগী জায়েদা আক্তার শাপলাকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার মামলার তদ’ন্ত কর্ম’কর্তা এস’আই তৌফিক আহমেদ জাকিরের ৫ দিনের রিমা’ন্ড চাইলে আদালত তার ২ দিনের রি’মান্ড মঞ্জু’র করেন। রি’মান্ড না চাওয়ায় শাপলাকে কারা’গারে পাঠানোর নি’র্দেশ দেন আদাল’ত।*