প্রচ্ছদ রাজনীতি *বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে অবশেষে কি হ’তে চ’লেছে?*

*বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে অবশেষে কি হ’তে চ’লেছে?*

98
*বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে অবশেষে কি হতে চলেছে?*

*ক্যা’সিনো ঝ’ড়ে সংক’টে পড়া আওয়ামী লীগের সহ’যোগী সং’গঠন আওয়ামী যুবলীগের ই’মেজ পুনরু’দ্ধারে সংগঠ’নের দুই শী’র্ষ প’দ গ্রহণ’যোগ্য ও স্মা’র্ট নে’তৃত্বের হা’তে দেও’য়া হতে পারে। আগামীকাল শনিবার রাজধা’নীর সোহ’রাওয়ার্দী উদ্যা’নে সংগ’ঠনের স’প্তম কংগ্রে’সে ‘ই’মেজ’ উদ্ধা’রের দা’য়িত্ব পাচ্ছেন কারা তা নিয়ে সারা দেশে দলী’য় নে’তা-কর্মীদের রয়েছে কৌ’তূহল। ইতোমধ্যে সব ধর’নের প্রস্তু’তি শেষ করা হয়েছে।*

*যুবলীগের নে’তারা বলছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হা’তে গ’ড়া সংগ’ঠনের সপ্তম কংগ্রে’সে এক ঝাঁ’ক সা’বেক ছাত্রলীগ নে’তাসহ সব শ্রেণিপে’শার যুবকদের হাতে দেওয়া হবে এই সংগ’ঠনের নে’তৃত্ব। দীর্ঘ সাত বছর পর অনু’ষ্ঠেয় কং’গ্রেসে প’দ-প’দবি পেতে সক্রি’য় হয়েছেন ক্লি’ন ই’মেজের প্রা’র্থীরা। আর চুপ’সে গেছেন নানাভাবে বিত’র্কিতরা। নে’তৃত্বের বয়সসী’মা ৫৫ বছর নির্ধা’রণ করা হলেও বা’ড়ানোর দা’বি জানি’য়েছেন প’দপ্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, বয়স বা’ড়ানো হলে সং’গঠনের অভি’জ্ঞ নে’তৃত্ব বেরিয়ে আসবে।*

*আওয়ামী লীগের নী’তিনির্ধারণী পর্যা’য়ের একাধিক নে’তা জানিয়েছেন, যুবলীগের নে’তৃত্ব সবস’ময়ই একজন থাকেন বঙ্গবন্ধু পরিবা’রের ঘ’নিষ্ঠ কেউ। সেই বিবে’চনায় গতবার ওই পরিবা’রের জা’মাই হিসেবে ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ার’ম্যান করা হয়। তার নে’তৃত্বে যুবলীগ বিভিন্ন অভি’যোগে অ’ভিযুক্ত হওয়ায় তাকে অব্যা’হতি দেওয়া হয় চেয়ার’ম্যান প’দ থেকে। এবারের সম্মে’লনে পরি’বারের সদ’স্যদের মধ্য থেকেই যুবলীগের শী’র্ষ প’দ দেওয়া হচ্ছে বলে দলের নীতি’নির্ধারণী সূ’ত্র জানিয়েছে। চেয়ার’ম্যান প’দে জো’র আলো’চনায় আছেন সংগঠ’নটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়া’ত শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। প্রতি’ষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের কং’গ্রেসে কখনো ভো’ট হয়নি। সমঝো’তার মাধ্যমে শীর্ষ নে’তৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়ে থাকে।*

*এবারও তাই হবে বলে জানি’য়েছেন সম্মে’লন প্রস্তু’তি ক’মিটির একাধিক নে’তা। দুর্নী’তি ও ক্যাসি’নোকাণ্ডের কারণেই ক্ষম’তাসীন দলের মধ্যে শুরু হওয়া শু’দ্ধি অ’ভিযানে সব থেকে বেশি আ’লোচনায় ছিল যুবলীগের নাম। এরই জে’র ধরে সংগঠ’নটির চেয়ার’ম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যা’হতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাংগঠ’নিক কার্যক্র’ম থেকে বি’রত রাখা হয়েছে প্রেসি’ডিয়াম সদ’স্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ ও নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে। চয়ন ইসলামকে আহ্বা’য়ক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদকে সদ’স্য স’চিব করে সপ্ত’ম জাতীয় সম্মে’লন (কংগ্রে’সের) প্রস্তু’তি সম্প’ন্ন হয়েছে।*

*স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে যুবলীগ গঠ’ন করা হয়। সে সময়ে আহ্বা’য়ক করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভা’গ্নে মুক্তি’যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও সদ’স্য স’চিব করা হয় নূরে আলম সিদ্দিকীকে। ১৯৭৪ সালে যুবলীগের প্রথম কং’গ্রেসে শেখ মণি চেয়ার’ম্যান নির্বা’চিত হন। ওই সময় সাধারণ সম্পাদক নির্বা’চিত হন সৈয়দ আহমেদ। সাংগ’ঠনিক কার্যক্র’মে দ’ক্ষ হিসেবে পরি’চিত মণি পঁচা’ত্তর ট্র্যা’জেডিতে প্রা’ণ হা’রান। তারপর বি’রূপ রাজনৈতিক পরি’স্থিতির মধ্যে ১৯৭৮ সালে যুবলীগের দ্বিতীয় কংগ্রে’সে চেয়া’রম্যানের দায়িত্ব পান আমির হোসেন আমু ও সাধারণ সম্পাদক হন ফকির আবদুর রাজ্জাক।*

*১৯৮৬ সালের তৃতীয় কং’গ্রেসে যুবলীগের চেয়ার’ম্যান নির্বাচিত হন মোস্তফা মহসীন মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক নি’র্বাচিত হন ফলু সরকার। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছেড়ে ১৯৯৩ সালে মন্টু গণফো’রামে যো’গ দিলে যুবলীগের ভা’রপ্রাপ্ত চেয়ার’ম্যানের দা’য়িত্ব নিয়েছিলেন নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। ১৯৯৬ সালের চতুর্থ কংগ্রে’সে যুবলীগের চেয়া’রম্যানের দা’য়িত্বে আসেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক হন কাজী ইকবাল। ২০০৩ সালের প’ঞ্চম কং’গ্রেসে যুবলীগের চে’য়ারম্যান নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক হন মির্জা আজম। নানক-আজমের যুবলীগই সর্ব’শেষ মাঠের সংগ’ঠন হিসেবে রাজ’পথে পরিচিতি পায়।*

*বিএনপি-জামা’য়াতের দুঃশা’সন মোকা’বিলা এবং ১/১১ সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মু’ক্তির আন্দোল’নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি’কা পাল’ন করেন তারা। ২০০৯ সালে নানক আওয়ামী লীগের সাংগ’ঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর যুবলীগের ভারপ্রা’প্ত চেয়া’রম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ২০১২ সালে ষ’ষ্ঠ কংগ্রে’সে আনুষ্ঠা’নিকভাবে চেয়া’রম্যানের দা’য়িত্ব পান শেখ মণি ও শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক নির্বা’চিত হন হারুনুর রশিদ। যুবলীগের সপ্ত’ম কংগ্রে’সকে সামনে রেখে চেয়ার’ম্যান প’দে আলোচনায় রয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডি’য়াম সদ’স্য বেলাল হোসেন, আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন। সাধারণ সম্পাদক প’দে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, মনজুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, ফারুক হাসান তুহিন, প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, আন্তর্জা’তিক সম্পাদক অর্থ’বিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার ও উপ মহি’লা বিষয়’ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা শেফালী, সহসম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ, এন আই আহমেদ সৈকত।*

*এ ছাড়া যুবলীগ ঢাকা মহা’নগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন কেন্দ্রে’র সাধারণ সম্পাদক হতে চান। এ ছাড়াও যুবলীগের শী’র্ষ প’দে সংগঠ’নের সা’বেক এক নে’তা এবং সাধারণ সম্পাদক প’দে ছাত্রলীগের সা’বেক এক নে’তার নাম জো’র আ’লোচনায় আছে। নেতৃ’ত্বের চম’ক হিসেবে তাদেরকেও চেয়ার’ম্যান ও সাধারণ সম্পাদক প’দে দেখা যেতে পারে। যুবলীগের সা’বেক চেয়ার’ম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলের জন্য যারা নি’বেদিত, দলের প্রতি আনু’গত্য, শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা’শীল এমন লোকদের থেকেই নে’তৃত্ব আসবে। নে’ত্রী সি’দ্ধান্ত নিয়েছেন, একটি নির্দিষ্ট বয়সসী’মার মধ্যে যুবলীগকে নিয়ে আসার জন্য। নে’ত্রীর সিদ্ধা’ন্তের বাইরে যাওয়ার সুযো’গ নেই।’*