প্রচ্ছদ বিশ্ব *সালমানের ক্রো’ধের শি’কার সৌদি রাজ’কন্যার খোঁ’জ মিলছে না*

*সালমানের ক্রো’ধের শি’কার সৌদি রাজ’কন্যার খোঁ’জ মিলছে না*

57
*সালমানের ক্রোধের শিকার সৌদি রাজকন্যার খোঁজ মিলছে না*

*মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য সুপরিচিত সৌ’দি রা’জকন্যা বা’সমাহ বি’ন্ত সৌ’দি। বেশ কিছু দিন ধরে তার কোনো হ’দিস পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো রকমের আই’নি প্রক্রি’য়া ছা’ড়াই তাকে রিয়াদে গৃহ’বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।*
*রাজকন্যার ঘ’নিষ্ঠ একজন ড’য়চে ভে’লেকে জানিয়েছেন, বাসমাহ চাইলেও তার ব’ক্তব্য প্র’কাশ করতে পারছেন না, কেননা তার সমস্ত যোগাযোগের উপর নজ’র রা’খা হয়েছে। নিরা’পত্তার স্বা’র্থে ওই ব্যক্তি নাম প্র’কাশ করতে চাননি।*

*বা’সমাহ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সাংবিধা’নিক সং’স্কার এবং মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন। তার মতো দেশটির রাজ’তন্ত্রের সমালো’চকরা ক্রাউ’ন প্রি’ন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্রো’ধের শি’কার হচ্ছেন বলে অভি’যোগ রয়েছে। রাজপরি’বারের অনেককেই এজন্য হ’ত্যা, গু’ম, কা’রাবন্দি ও হু’মকির শি’কার হতে হয়েছে।
বাস’মাহর বিষয়ে সৌ’দি কর্তৃ’পক্ষ কোন ম’ন্তব্য করতে রাজি হননি।*

*চিকিৎসার জন্য ভ্রমণ ও সৌদি কর্তৃ’পক্ষের সন্দে’হ: সূ’ত্র অনুযায়ী, রা’জকন্যাকে নিয়ে বিদেশ পা’লিয়ে যেতে পারেন এমন স’ন্দেহে চলতি বছরের মার্চে বাসমাহকে ব’ন্দি করা হয়। চিকিৎ’সার জন্য তার সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা ছিল। ন’থি অনুযায়ী সু’ইস ডা’ক্তারের অনু’রোধের প্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর বা’সমাহ কন্যাসহ জেদ্দা ত্যা’গের ছাড়’পত্র পান। কিন্তু ভ্রমণের দিনই দেশ ত্যা’গে নিষে’ধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং উড়ো’জাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয় বলে জানান তার যুক্তরাষ্ট্র’ভিত্তিক আইন’জীবী লিও’নার্ড বে’নেট।*

*বেনে’টে বলেন, দুই মাস পর থেকে ‘তার আর কোনো খোঁ’জ পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ জানে না তিনি কোথায় আছেন৷ আমরা প্রকৃতপক্ষে খারাপ কিছুর আ’শঙ্কা করছি।’*
*বে’নেট জানান, কয়েক দ’ফা ফো’ন কল করার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি তেমন কিছু বলেননি। বাস’মাহর কথা শুনে মনে হয়েছে তিনি ব’ন্দি অ’বস্থায় রয়েছেন।*
*বেনেট বলেন, বাস’মাহর গন্ত’ব্য সুইজারল্যান্ডের জে’নেভা হলেও, যাওয়ার কথা ছিল তুরস্ক হয়ে। অঙ্কারার সঙ্গে শত্রু’তামূলক সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ বিষয়টিকে দেখেছে সন্দে’হের চোখে।*

*কোথায় আছেন বা’সমাহ?: বাসমাহ’র ঘনিষ্ঠ সূ’ত্রটি জানিয়েছে, (পা’লিয়ে যাওয়ার) অভি’যোগ সত্য কিনা তারা (কর্তৃপক্ষ) সেই ত’দন্ত শেষ করেছে। তারপরও এখন পর্যন্ত কোনো জবা’ব পাওয়া যায়নি।*
*তিনি বলেন, বাস’মাহর বিরু’দ্ধে দেয়া ত’থ্য মি’থ্যা প্রমা’ণিত হয়েছে, কিন্তু কেন এখনো তাকে আ’টকে রাখা হয়েছে সেটি তাদের জানা নেই।*

*কে তাকে গ্রেফতারের নি’র্দেশ দিয়েছে তা পরিস্কার নয় বলে জানিয়েছে এই সূ’ত্র। রাজক’ন্যার নি’খোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাস’মাহর এক বন্ধু এবং ব্যবসায়িক সহকর্মী। নাম প্রকা’শ না করার শ’র্তে তিনি বলেন, শা’সক পরিবার ঠিকই জানে বাসমাহ কোথায় আছেন।*

*তিনি বলেন, দুটি সূ’ত্র অনুযা’য়ী (রাজপ’রিবারের) এক নম্বর ব্যক্তি (মোহাম্মদ বিন সালমান) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে দ্বি’মত পোষণ করছি, তিনি জানেন। আমরাও জানতে চাই সে (বাস’মাহ) কোথায় আছে, কেন তাকে ব’ন্দি করে রাখা হয়েছে?*
*বাস’মাহ নিয়মিত টু’ইটার ব্যবহার করলেও ফেব্রুয়ারির পর থেকে তিনি অফি’সিয়াল অ্যাকা’উন্টে নীরব রয়েছেন। জুলাই অবধি তার কর্মচা’রীরা কিছু ধর্মীয় পো’স্ট দিয়েছেন।*

*রা’জপরিবারের সরব সদস্য: ৫ সন্তানের জননী বাসমাহ ২০০৬ সাল থেকে সৌ’দি গণমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করেন। কিন্ত তার ব্যবসায়িক কর্ম’কাণ্ড ও জনগণের হয়ে কথা বলার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দেশটির শাস’করা।*
*বি’বাহ বিচ্ছে’দের পর ২০১০-২০১১-র দিকে তিনি লন্ড’নে পাড়ি জমান। পরিচিতি পান গণমাধ্যমে। বিভিন্ন আন্তর্জা’তিক ফো’রামে আরব অঞ্চলের দুর্নী’তি, মানবাধিকার এবং সম্পদের বৈষ’ম্য নিয়ে কথা বলে ব্যাপক আলো’চনায় আসেন বাসমাহ। সৌ’দি আরবে ধর্মীয় পুলিশের ক্ষম’তা হ্রা’স, নারীদের অধি’কারসহ বিভিন্ন সাংবি’ধানিক সং’স্কারের দা’বিও জানান তিনি। প্রশা’সনের সমা’লোচনা করলেও রা’জ পরিবারে’র বি’রুদ্ধে অবশ্য কখনো সরাসরি কোনো কথা তাকে বলতে শোনা যায়নি।*

*২০১৫ সালের দিকে সৌ’দি আরবে ফিরে আসেন বাসমাহ। লন্ডনের বেশ কিছু ব্যবসা তিনি গু’টিয়ে ফেলেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিবি’সি অ্যা’রাবিককে দেয়া এক সাক্ষা’ৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধে’র ই’তি টান’তে সৌ’দি আরবের প্রতি আহবান জানান। এরপর থেকে তাকে আর গণমাধ্যমে দেখা যায়নি।*

*রাজপ’রিবারের রাজনীতি: বাস’মাহ সা’বেক সৌ’দি রাজার ১১৫ সন্তানের একজন। এই পরিবারের একটি অংশকে বর্তমান রাজা সালমান ও তার পুত্রের সম্ভাব্য প্রতি’দ্বন্দী বলে মনে করা হতো।*
*বর্তমান সৌ’দি রাজ’পরিবারের মোট ১৪ হাজার সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে ক্ষম’তা বিস্তারের জন্য বেশ কয়েকটি বি’ভাজন রয়েছে।*

*ল’ন্ডন স্কু’ল অ’ব ইকো’নমিকসের সৌ’দি রাজনীতি ও রাজ’পরিবার বিষয়ক বিশে’ষজ্ঞ মা’দাওয়ি আল-রাশিদ বলেন, রাজা আবদুল্লাহর শাস’নকালে রাজ’কন্যারা সব ধরনের আলোচ’নায় অংশ নিতে পারতেন। এটা অনেকটা জনসং’যোগের মতো ছিল। ললো’য়াহ বি’ন্ত ফয়’সাল আ’ল সৌ’দ ছিলেন তেমনই একজন। তিনি বাইরের জনসং’যোগমূলক কর্ম’কাণ্ডের জন্য সৌ’দি রাজ পরিবারের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ছিলেন। রাশিদ বলেন, এখন এই নারী পুরোপুরি নীরব হয়ে গেছেন।*
*সালমান ও তার সন্তান ক্ষম’তার বাইরে থাকা এসব নারীকে একে একে নীরব করে দিতে চাইলে তা অবা’ক করার মতো কিছু হবে না বলেই মনে করেন তিনি। সূত্র: ড’য়চে ভে’লে।*