প্রচ্ছদ জীবন-যাপন *ছাত্রলীগের সা’বেক নে’তা রানার দা’য়িত্ব নিতে চান কাতার প্র’বাসী*

*ছাত্রলীগের সা’বেক নে’তা রানার দা’য়িত্ব নিতে চান কাতার প্র’বাসী*

386
*ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রানার দায়িত্ব নিতে চান কাতার প্রবাসী*

*আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের নে’তাকর্মীরা মোতাহার হোসেন রানার ছ’বি দিয়ে ফেস’বুকে বেশকিছু স্ট্যা’টাস দেন। তুলে ধরেন তার দু’র্দিনের কথা।*
*এদিকে, দলের এ নিবেদিত কর্মীর পাশে এগিয়ে আসার প্রত্য’য় ব্যক্ত করেছেন কাতার প্রবা’সী ও কাতার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমি’টির সাং’গঠনিক সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ রাজ রাজীব।*
*মোতাহারের পরিবারের জন্য আগামী ১০ বছর প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে চান রাজীব। শুধু তাই নয়, ১০ বছর মেয়াদ শেষ হলে তাকে এককালীন কিছু অর্থ প্রদান করবেন বলে কাতার প্রবা’সী সাং’বাদিক আমিন বেপারীর কাছে জানিয়েছেন রাজীব।*
*ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সা’বেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আল আমিনের মাধ্যমে এ টাকা প্রদান করা হবে।*

*ছেঁ’ড়া শার্টে আশাহীন চোখ, দুর্দিনের ছাত্রনেতার অভা’বের জীবন*
*একসময় তার নামডাক ছিল বেশ। দুর্দি’নে আ’গলে রাখতেন দলকে। আজ পরিবার নিয়ে নিত্য অভা’বে ভরা জীবন তার। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সা’বেক নে’তা মোতাহার হোসেন রানা।*
*মোতাহার হোসেন রানা ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ক’মিটির সদ’স্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দিন হল শাখার সাবে’ক সভাপতি। ছিলেন মিরসরাই থানা ছাত্রলীগের সভাপতিও। নব্বইয়ের স্বৈরা’চারবিরোধী আন্দো’লনে তাকে দেখা যেতো মিছি’লের পুরোভাগে।*

*গত ১৬ নভেম্বর ছিল মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবা’র্ষিক সম্মে’লন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন একসময়ের মাঠ’কাঁপানো সাবে’ক ছাত্রলীগ নেতা মোতাহার হোসেন রানা। সভা’মঞ্চে তারই হাতে গড়া কর্মী, সহযোদ্ধা’দের অনেকে থাকলেও মোতাহার ছিলেন দর্শকসারির এক কোণায়। নতুন-পুরনো নে’তাকর্মীদের ভিড়ে জনতার সা’রিতে একাকী বসে ছিলেন দু’র্দিনের ত্যা’গী এই নে’তা। ময়লা ছেঁ’ড়া শার্টে উদ’ভ্রান্ত চোখের মানুষটিকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না এই লোকটিই একসময় ছাত্রলীগের দাপু’টে নে’তা ছিলেন।*

*মোতাহের হোসেন রানার নিজের অবশ্য আক্ষে’প নেই এ নিয়ে। তিনি বললেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে জ’ড়িত ছিলাম। আওয়ামী লীগ আমার র’ক্তে মি’শে আছে। একটা সময় রাজনীতিতে ছিলাম। কতজনকে কতো সাহায্য সহযো’গিতাও করেছি। কিন্তু আমার আজকের এই পরিণ’তি শুধু আমার তক’দিরের জন্য। ১৬ নভেম্বর সভায় আমার অবস্থান আমার তক’দির ছাড়া কিছুই না। কেউ দায়ী নয় আমার এ অব’স্থার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্মান দিয়ে কিছু ভা’তা দেন। প্রধানমন্ত্রী যতদিন ক্ষম’তায় থাকবেন ততদিন ভা’তাগুলো পাবো। তবে এ ভা’তা দিয়ে পরিবার চালাতে পারি না।’*

*কথা বলতে বলতেই কান্না’য় ভে’ঙে পড়েন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, ‘আপা (প্রধানমন্ত্রী) আমার পরিবার নিয়ে চলতে খুব কষ্ট হয়। ৬ ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, আল্লাহ যে কেমনে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমিও জানি না। আপা আমি এম’এ পাশ করেছি, আপনি আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে আপনার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ থাকবো সারাজীবন।’*

*মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় মোতাহের হোসেন রানার বাড়ি। স্ত্রী ও ৬ ছেলেমেয়ে নিয়ে তার বসবাস। তিন ছেলে তিন মেয়ে পড়াশোনা করছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যা’লয় থেকে সামান্য ভা’তা পান মোতাহের হোসেন রানা। অল্প ওই ভা’তায় চলে না তার পরিবারের সদ’স্যদের খাওয়া-দাওয়া ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খ’রচ। তবে অর্থ’কষ্টে থাকলেও রাজনীতির প্রতি নেই তার কোনো ক্ষো’ভ বা আক্ষে’প।*

*সরকার ও রাজনীতিবিদদের প্রতি কোনো আ’ক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে মোতাহের হোসেন রানা বললেন, ‘কী বলেন? আমার ছাত্রলীগ, আমার আওয়ামী লীগ, আমার মাননীয় নেত্রী অনেক বছর পরে ক্ষম’তায় এসেছেন এর চেয়ে সুখের আর কী হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমি চলি। আওয়ামী লীগ আমার র’ক্তে। কার প্রতি আমি ক্ষো’ভ প্রকা’শ করবো? কারো প্রতি আমার কোনো দুঃ’খ নেই। যার ইচ্ছে হবে সে সাহায্য করবে। আমার ভা’গ্য তো আমাকেই বয়ে বেড়াতে হবে। কেনো আমি অন্য কাউকে দুষ’বো। সবসময় আমার বঙ্গবন্ধুর জয় হোক এ কামনা করি।’*

*চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সা’বেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সাকিব ফেস’বুকে লিখেছেন, ‘ক্ষমতার রাজনীতি বড়ই নি’ষ্ঠুর! জ্বি, উনি মোতাহার হোসেন রানা। নব্বইয়ের স্বৈরাচা’রবিরোধী আন্দো’লনের অগ্র’সৈনিক। সাবেক স’দস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বা’হী ক’মিটি। সাবেক সভাপতি, কবি জসিম উদ্দিন হল, ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম।’*

*আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজসেবা উপ-কমি’টির সদ’স্য অধ্যাপক আজিজ আহমদ শরিফ বলেন, ‌‘রানা ভাই আমার খুব কাছের মানুষ। উনি নিজে একসময় অনেক করেছেন ছাত্রলীগের জন্য। কিন্তু আজ উনার টাকা-পয়সাও নেই, দাপ’টও নেই। এখনকার যুগে রাজনীতিগুলো এমনই হয়ে যাচ্ছে। রানা ভাইয়ের এ অবস্থা অথচ আমরা কেউ কিছু করিনি— এটা খুবই ল’জ্জার। আমি সামান্য একজন শিক্ষক। মাঝে মাঝে দেখা হলে টাকা-পয়সা দিই। কিন্তু আমাদের এ দেওয়া তো তার পোষা’য় না। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন।’*
*কান্না’জড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘রানা ভাইয়ের এ অব’স্থা দেখে নিজেকে সাম’লাতে পারিনি। একজন ভালো মানুষ, ত্যাগী নে’তার এমন পরি’ণতি কিন্তু মেনে নেওয়া যায় না। এলাকায় অনেক বড় বড় নে’তা, মন্ত্রীরা আছেন তারা দেখলে হয়তো আজ রানা ভাইয়ের এ অ’বস্থা হতো না।’*

*আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমি’টির সাবেক সহ-সম্পাদক নওশাদ মাহমুদ রানা বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে রানা ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। রানা ভাই ছিলেন মিরসরাই থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমি’টির একজন সদস্য। রাজনীতিতে উনার মতো ত্যা’গী নে’তা আমি আর একজনকেও দেখিনি। যেকোনো ঝামে’লায় ঝাঁ’পিয়ে পড়’তেন তিনি, নিজের চিন্তা করেননি কখনো। শুধু দিয়ে গেছেন ওনার যা ছিলো। অথচ উদ’ভ্রান্ত, ময়’লা ছেঁ’ড়া শা’র্ট পরিহিত ও আশাহীন চোখে তা’কিয়ে থাকা এ মানুষটিকে আজ বড়ই অস’হায়ভাবে বেঁ’চে থাকতে হচ্ছে আমাদের সমাজে। বর্তমান রাজনীতিতে অর্থ-বিত্ত না থাকলে তার দাম নেই। এখন তো রাজনীতিও নেই। রাজনীতিকে সাইন’বোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে কিছু মানুষ টাকা উপার্জ’নের পথ বের করেছে মাত্র।’*