প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা *এবার ফে’লে দেয়া প’চা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামে*

*এবার ফে’লে দেয়া প’চা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামে*

102
*এবার ফেলে দেয়া পচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামে*

*চট্টগ্রামে এবার ফে’লে দেয়া প’চা পেঁয়াজ বিক্রি চলছে। খাল-নদী ও ময়’লার ভা’গাড় থেকে কু’ড়িয়ে রোদে শুকিয়ে এসব পেঁয়াজ বিক্রয় করছে খেটে খাওয়া মানুষ, যা খেলে জনস্বা’স্থ্যে মারা’ত্মক বি’ষক্রিয়ার সৃষ্টি’ করতে পারে বলে শ’ঙ্কা স্বা’স্থ্য বিশেষ’জ্ঞদের।*
*চট্টগ্রাম মে’ডিকেল ক’লেজের সাবে’ক অধ্যা’পক ও লি’ভার বিশে’ষজ্ঞ আবদুল কাদের বলেন, পেঁয়াজে ভিটা’মিন সি, বি পটা’শিয়াম, খনি’জ, অ্যান্টিঅক্সি’ডেন্টসহ আরও অনেক পু’ষ্টি উপাদান আছে। পেঁয়াজে অ্যা’লার্জি আছে এমন ব্যক্তিদের ত্ব’ক ও চোখের লা’লচে ভাব, চুল’কানি, শ্বা’স নিতে অসু’বিধা, মুখের ফো’লা ভা’বসহ র’ক্তচাপ কমে যেতে পারে।*

*তবে পেঁয়াজের অতি’রিক্ত ব্যবহার ক্ষ’তিকর। অ’ন্ত্রের গ্যা’স, পে’ট ফুলে যাওয়া, ফ্রু’কটোজের সমস্যাসহ অ’তিরিক্ত পেঁয়াজ গর্ভ’বতী নারীরা হৃদ’রোগের ঝুঁ’কিতে পড়তে পারেন। প’চা পেঁয়া’জে ব্যাপ’কহারে অ্যামো’নিয়া সৃ’ষ্টি হয়। এতে জন’স্বাস্থ্যে মারা’ত্মক বিষ’ক্রিয়া দেখা দিতে পারে।*
*শুধু তা-ই নয়, পচা পেঁয়াজ কর্ণফুলীতে নি’ক্ষেপের ফলে অ্যা’মোনিয়া গ্যা’সের পরিমা’ণ বাড়বে। ফলে অক্সিজে’নের মা’ত্রা কমে যাবে। এ পরিস্থিতি যেকোনো প্রাণীকুল ও জীব’বৈচিত্রের জন্য মারা’ত্মক ক্ষ’তিকর বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নদী বিশে’ষজ্ঞ মনজুরুল কিবরিয়া।*

*অনুস’ন্ধানে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাতের আঁধারে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ভোগ্য’পণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের ময়’লার ভাগা’ড়, কর্ণফুলী নদী ও চাক্তাই খালে প্রচুর পরিমাণে প’চা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে একশ্রেণির খে’টে খা’ওয়া মানুষ ও টোকা’ইরা সাধ্যমতো কু’ড়িয়ে নিয়ে যায় পেঁয়াজ। অবশ্য এসব পেঁয়াজ সি’টি করপো’রেশনের গাড়িতে সরি’য়ে নেয়া হয়।*

*সিটি করপোরেশনের পরি’চ্ছন্ন পরি’দর্শক আহমদ ছফা জানান, খাতুনগঞ্জের ময়’লার ভা’গাড় থেকে শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত অন্তত ১৬ টন প’চা পেঁয়াজ বায়েজিদ এলাকার আরেফিন নগর ময়’লার ভা’গাড়ে সরি’য়ে নেয়া হয়েছে। এই ফাঁ’কে ৪-৫ টনেরও বেশি পেঁয়াজ বেছে বেছে নিয়ে গেছে খে’টে খাওয়া মানুষগুলো। এছাড়া হামিদুল্লাহ মার্কে’টের সাম’নের রাস্তা’য়, চান মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তা’ই এলাকায় প’চা পেঁয়াজ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে চার ট্রা’ক সরিয়ে নিতে পেরেছি। সেখান থেকেও বেশ কিছু পেঁয়াজ কুড়িয়ে নিয়ে গেছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। এছাড়া চাক্তা’ই খালের পানি থেকেও পেঁয়া’জ কু’ড়িয়ে নেয়া হয়েছে, যেগুলো রোদে শুকাতে দেখা গেছে।*

*স্থানীয় লোকজন জানান, ময়’লার ভা’গাড়, খাল ও নদী থেকে কু’ড়ানো পেঁয়াজ শুকিয়ে তুলনামূলক ভালো পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় স্থানীয় হো’টেল-রেস্টু’রেন্টে বি’ক্রি করে দেয়া হচ্ছে। অনেকে ভ্যান’গাড়িতে করে বিক্রির জন্য নগরীর বিভিন্ন আ’বাসিক এলাকা ও অলি’গলিতে নিয়ে গেছে।’*
*নগরীর ফিরি’ঙ্গিবাজারে ভ্যা’নে করে প’চা পেঁয়াজ বিক্রয় করছিলেন আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, অতি মুনাফার লোভে গুদামজাত করা পেঁয়াজ প’চে গেছে। ফে’লে দেয়া পেঁয়াজ থেকে বেছে বেছে ভালোগুলো বিক্রি করছি অনেক কম দামে।*
*তিনি বলেন, আড়’তের ভালো পেঁয়াজ এখন কে’জি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। সে হিসেবে ১৫০ টাকা কে’জি বিক্রি করছি কুড়ি’য়ে আনা পেঁয়াজ। দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন বলে জানান তিনি।*

*পেঁয়াজ কিনতে আসা গৃহিণী কামরুন নাহার বলেন, পেঁয়াজের যে দাম বাজারে, তার চেয়ে ভ্যা’নগাড়িতে একটু কম আছে। পেঁয়াজগুলো একটু প’চা এই আর কি। প’চা আর ভালো পেঁয়াজ দিয়ে কী হবে, খেতে পারলেই তো হলো!*
*খাতুনগঞ্জ আড়’তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ জানান, যেসব পেঁয়াজ ময়লার ভা’গাড় ও নদীতে ফে’লে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা সেগুলো মি’য়ানমারের পেঁয়াজ। আনার সময় নৌকার তলায় পানি লেগে সেগুলো প’চে ন’ষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত খাতুনগঞ্জের আড়ত’দাররা অন্তত ২০ টন পচা পেঁয়াজ ফে’লে দিয়েছেন। যেগুলোতে অন্তত ২৭-২৮ লাখ টাকার ক্ষ’তি হয়েছে। পচা পেঁয়াজের ক্ষ’তি পোষা’তে ভালো পেঁয়াজগুলো কেনা খর’চের চেয়েও অনেক বে’শি দা’মে বিক্রি করতে হচ্ছে।*