প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *বিএনপি-জামা’য়াতের পেঁয়াজ সিন্ডি’কেটে সরকার ও কৃষক সংক’টে!*

*বিএনপি-জামা’য়াতের পেঁয়াজ সিন্ডি’কেটে সরকার ও কৃষক সংক’টে!*

162
*বিএনপি-জামায়াতের পেঁয়াজ সিন্ডিকেটে সরকার ও কৃষক সংকটে!*

*সাম্প্রতিক সময়ে পেঁয়াজের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বা’ড়ছে এবং সাধারণ মানুষের নাগা’লের বাইরে চলে গেছে। পেঁয়াজের দাম কোথাও কোথাও তিনশ টাকা ছুঁয়েছে, যা একটা বিশ্বরে’কর্ড। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে আজ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মে’লনের উদ্বোধ’নী অনুষ্ঠানে বক্তৃ’তায় পেঁয়াজের মূল্য সংক’টের পেছনে ষড়’যন্ত্রের কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, এরকম অস্বাভা’বিকভাবে পেঁয়াজের দাম বা’ড়ার কোনও কারণ নেই।*

*একাধিক দা’য়িত্বশীল সূ’ত্র বলছে যে, পেঁয়াজের লাগা’মহীন উর্ধ্বগতির পেছনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেমন সীমাহীন ব্য’র্থতা রয়েছে, তেমনি একটি বিশেষ ম’হল সি’ন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ি’য়েছে। দেখা গেছে যে, বিএনপি-জামা’তের চি’হ্নিত কিছু ব্যবসায়ী যারা পেঁয়াজ আমদানি করেন, ম’জুদ রাখেন কিংবা সারা দেশে পেঁয়াজ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, সেই গ্রু’পটিই পেঁয়াজের দাম কৃত্রি’মভাবে বাড়ানোর ক্ষেত্রে মূল ভূ’মিকা পালন করেছে।*

*অ’নুসন্ধানে দেখা গেছে, মোট ১২ জন ব্যবসায়ী বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়’ন্ত্রণ করে। এই ১২ ব্যবসায়ীর ৯ জনই বিএনপি এবং জামায়াতের স’মর্থক। পেঁয়াজ আম’দানির সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বড় শি’ল্প গ্রু’পগুলো কখনই জ’ড়িত ছিল না। সাধারণত মধ্যস্তরের কৃষি এবং আধাকৃষি বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জ’ড়িত তারাই এর সঙ্গে যু’ক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনমাস আগে পেঁয়াজের সং’কট শুরু হওয়ার একমাস পরে সরকারের উদ্যোগে বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রু’পগুলোকে পেঁয়াজ আম’দানি করার দা’য়িত্ব দেওয়া হয়। এদের মধ্যে এ’স. আলম গ্রু’প অন্যতম। তাদের আম’দানি করা পেঁয়াজ এখন ঢাকায় আসার পথে। তারা মি’শর থেকে পেঁয়াজ আ’মদানি করছে। সরকারের নি’র্দেশে আরও কয়েকটি বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখন পেঁয়াজ আমদা’নির দিকে মনো’নিবেশ করেছে।*

*কৃষি-বাণিজ্য সং’শ্লিষ্ট বিশেষ’জ্ঞরা বলছেন, বিদেশ থেকে যে পেঁয়াজগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আসতে আসতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সেই সময়ের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও বা’ড়ানোর চক্রা’ন্ত হচ্ছে। এদের লক্ষ্য হলো তিনটি-*
*প্রথমত; পেঁয়াজের কৃ’ত্রিম সং’কট তৈরি করে জনমনে একটা অ’স্থিরতা তৈরি করা। সরকারের প্রতি জনগনের মনে অসন্তো’ষ সৃ’ষ্টি করা।*

*দ্বিতীয়ত; পেঁয়াজ হলো এমন একটি পণ্য যেটির দাম যদি বাড়ে তাহলে এর সূত্র ধরে স্ব’য়ংক্রিয়ভাবে আরও অনেক পণ্যের দা’ম বে’ড়ে যায়। যেমন, পেঁয়াজের সঙ্গে সঙ্গে এখন চালের বাজার অ’স্থির হয়ে পড়েছে। অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে।*
*অর্থনীতিতে ‘চেই’ন অ’ব প্রোডা’ক্ট’ বলে একটি কথা আছে। যে পণ্যগুলোর দাম বাড়লে স্বয়ংক্রি’য়ভাবে সংশ্লি’ষ্ট আরও কয়েকটি প’ণ্যের দাম বাড়ে পেঁয়াজ হলো সেরকম একটি পণ্য। কাজেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে পুরো বাজার ব্যব’স্থায় বি’শৃংখলা এবং অস্থি’তিশীলতা তৈরি করার জন্য একটি ম’হল এই চক্রা’ন্ত করছে।*

*তৃতীয়ত, পেঁয়াজের বাজারে অস্থি’রতার ফলে বি’পুল পরি’মাণ বিদেশি পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে। এখন মিয়ানমার মিশরসহ আরও কয়েকটি দেশের পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসছে। অথচ মাত্র ২০-৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠবে। বিদেশে থেকে যখন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসবে তখন দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজে ন্যায্য মূল্য পাবে না চাষীরা। ফলে কৃষকদের ওপর আরেকটি আ’ঘাত আসবে। যারা ক’ষ্ট করে পেঁয়াজের উৎপা’দন করেছে তারাই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চি’ত হবেন। সেটার ক্ষো’ভও সরকারের উপর প’ড়বে।*
*অথাৎ এই ত্রিমু’খী চক্রা’ন্ত বাস্তবায়’নের জন্যই কৃত্রি’মভাবে পেঁয়াজের মূল্য সং’কট তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি পরিক’ল্পিত সংক’ট বলে জানা গেছে।*

*একোধিক গো’য়েন্দা সং’স্থা অনুস’ন্ধান করে দেখেছে যে, কিছু কিছু গুদামে পেঁয়াজ পঁচিয়ে ফেলা হচ্ছে। অথাৎ শুধুমাত্র মুনাফা অর্জ’নই এই পেঁয়াজ সং’কটের একমাত্র কারণ নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ষড়’যন্ত্র রয়েছে বলেও আ’ইন প্রয়ো’গকারী সং’স্থা মনে করছে। কারণ যদি মুনা’ফা অর্জ’নই সংক’টের মূ’ল কারণ হতো তাহলে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ পঁচতে দিত না। বিভিন্ন গণ’মাধ্যমে প্রকা’শিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে যে চট্টগ্রামে একাধিক গুদা’মে পেঁয়াজে পঁচন ধরেছে। তারপরও সেই পঁচা পেঁয়াজগুলো বাজারে দেওয়া হচ্ছে বা ফে’লে দেওয়া হচ্ছে।*

*একাধিক সূ’ত্র বলছে, যদি শুধুমাত্র মানুা’ফা অর্জ’নের জন্য পেঁয়াজ গুদামে রাখা হতো, তাহলে সেগুলো পঁচার আগেই বাজারে দেওয়া হতো এবং বেশি মূল্যে বিক্রি করা হতো। কিন্তু এখন যে টন-কে টন পেঁয়াজ পঁচিয়ে ফেলা হচ্ছে সেটার পিছনে একটা রাজনৈতিক উদ্দে’শ্য রয়েছে। আর এই রাজনৈতিক উদ্দে’শ্যটা দৃশ্য’মান। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্য’র্থতাও অস্বী’কার করা যায় না। যখন থেকে পেঁয়াজের দাম বৃ’দ্ধি হয়ে ১০০ টাকায় পৌঁছে যায়, তখনও বাণিজ্য মন্ত্রণায়লয় এ বিষয়ে তেমন কোনো পদ’ক্ষেপ নেয়নি। এটার পিছনে যারা ক’লকাঠি নাড়ছে, যারা ষ’ড়যন্ত্র করছে এবং যারা রাজনৈতিক ফা’য়দা লো’টার জন্য পেঁয়াজের দা’ম বৃ’দ্ধি করছে তাদের বিরু’দ্ধে ব্যব’স্থা গ্রহণের কোনো নি’র্দেশনা দেয়নি। যে কারণে যারা এই সি’ন্ডিকেট করেছে সেই সিন্ডি’কেটের সদস্যরা অবা’ধে তাদের কার্য’ক্রম পরিচা’লনা করেছে। শুরুতেই যদি এখানে গো’য়েন্দা এবং আইন’প্রয়োগকারী সং’স্থার নজ’রদারির ব্যব’স্থা করা হতো, তাহলে এই অ’শুভ চক্রা’ন্ত হতো না বলেও বিশ্লে’ষকরা মনে করেন। এখন পেঁয়াজ রাজনীতি শেষপর্যন্ত সরকার কীভাবে সা’মাল দেয় সেটাই দেখার বিষয়।*

*দুর্মূ’ল্যের বাজারেও ডাস্ট’বিনে পিয়াজের পচন নিয়ে বিস্ম’য়!*
*গোটা দেশে একদিকে চলছে পিয়াজ সরবরাহের মা’রাত্মক সংক’ট, তার উপর গত প্রায় দেড় মাস ধরে চলছে দু’র্মূল্যের বাজার। এই দুয়ে যখন সাধারণ ক্রেতাদের না’ভিশ্বাস উঠেছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রাম নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন ডাস্ট’বিনে ও ফিরিঙ্গীবা’জার এলাকার কর্ণফুলী নদীতে ব’স্তা ব’স্তা পচা পিয়াজ ভাসছে। এতে নগরের সচেতন ম’হল বি’স্ময় প্রকা’শ করেছেন।*
*চট্টগ্রাম সি’টি কর’পোরেশনের পরি’চ্ছন্ন কর্মীরা জানান, গত তিনদিন ধরে খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কে’টের গু’দাম থেকে ফেলা ১৫ থেকে ১৬ মেট্রি’কটন পচা পিয়াজ তারা অপ’সারণ করেছেন।*

*কনজ্যু’মারস অ্যাসো’সিয়েশন অ’ব বাংলাদেশ (ক্যা’ব) চট্টগ্রাম চ্যাপ’টারের সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে সরবরাহ সংক’ট তৈরি করে দাম বাড়ানোর জন্য অসা’ধু ব্যবসায়ীদের চ’ক্র এসব পিয়াজ মজু’দ করে রেখেছিলেন। মজুদ করা পিঁ’য়াজ পচে যাওয়ায় সেগুলো এখন আবর্জ’নার স্তু’পে ফে’লা হচ্ছে।*
*এদিকে, খাতুনগঞ্জের পিঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের গু’দামে মজু’দকৃত কোনো পিঁয়াজ নেই। মিয়ানমার থেকে যেসব পিঁয়াজের চা’লান এসেছে, সেই চালা’নের পচা পিঁয়াজগুলো ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনো ইচ্ছাকৃত ঘট’না নয়।*

*শনিবার নগরীর খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে পিঁয়াজের গুদা’ম ও পাই’কারি বিক্র’য় প্রতিষ্ঠানে বস্তায়-বস্তায় পচা পিঁয়াজ দেখা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত খাতুনগঞ্জ সং’লগ্ন চা’ক্তাই খালপাড় ও কর্ণফুলী নদীতে এবং পাড়ে ফেলা হয় কয়েক’শ পিঁয়াজের বস্তা। রাতে চট্টগ্রাম সি’টি কর’পোরেশনের পরিচ্ছ’ন্ন কর্মী’রা সেই পিয়াজ নিয়ে বা’য়েজিদ বো’স্তামি থানার আরেফিননগরে আব’র্জনার ভাগা’ড়ে ফে’লে দেন। তারপরও নগরের কোথাও কোথাও ছড়াচ্ছে পচা পিয়াজের দু’র্গন্ধ।*
*নগরীর ৩৫ নম্বর বক্সি’রহাট ও’য়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরি’দর্শক আহমদ ছফা বলেন, ‘খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মা’র্কেট, প্রধান রাস্তা, চাঁন মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তাই এলাকায় পচা পিঁয়াজ পেয়েছি। চারটি ট্রা’কে করে আমরা সেগুলো আরেফিননগরে ময়’লার ভা’গাড়ে ফেলেছি।’*

*হামিদুল্লাহ মার্কেট কাঁচামাল আড়তদার সমি’তির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে পিঁয়াজ আসছে। যেসব পিঁয়াজ নৌকার তলায় থাকে পানি লেগে সেগুলোয় দ্রুত পচন ধরে। গু’দামে আসার পর সেগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে। যেসব পচা পিঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো মিয়ানমারের পিঁয়াজ।’*’
*ক্যা’বের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ‘প্রশাসন ও আই’নশৃঙ্খলা বা’হিনীর যথাযথ ত’দারকির অ’ভাবে সিন্ডি’কেট ব্যবসায়ীরা মজু’তদারির সুযোগ নিয়েছে। মজু’দের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ সংক’ট তৈরি করে বাড়তি মু’নাফা হাতি’য়ে নিচ্ছে তারা। মজুদ করা যেসব পিয়াজ বিক্রি করতে পারেনি, পচে গেছে, সেগুলো এখন ভাগা’ড়ে ফে’লা হচ্ছে।’*