প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *’হুমায়ুনের বউ বুড়া বয়সে বিয়া করছে, তাতেও হাত্তালির সীমা নাই’*

*’হুমায়ুনের বউ বুড়া বয়সে বিয়া করছে, তাতেও হাত্তালির সীমা নাই’*

তসলিমা নাসরিন

193
'হুমায়ুনের বউ বুড়া বয়সে বিয়া করছে, তাতেও হাত্তালির সীমা নাই'

*ফেসবুক হুমায়ুনে টইটম্বুর। হুমায়ুনের বউ বুড়া বয়সে বিয়া করছে, তাতেও হাত্তালির সীমা নাই। আমার বয়সও তার মতই, কিন্তু আমি যদি এখন বিয়া করছি ঘোষণা দেই, আমার চামড়া ছি’ইল্ল্যা মাইনষে লবন লা’গাইবো, আর আমারে জ্যা’ন্ত কব্ব’র দিবো, ফেসবুক ভাসাইয়া ফেলবো খাপ’সা গা’লি দিয়া, আমারে কু’ত্তা দিয়া কী করবো কইয়া আর আমার ইন’বক্স গা’ন্ধা বানাইবো তাগোর ইয়ের ছবি পাঠাইয়া। হুমায়ুন তার বউরে তালা’ক দিয়া কচি একটা ছেড়িরে বিয়া কইরা দূরে চইলা গেসে, আমোদে আহ্লা’দে রাজার জীবন যাপন করছে, খরচপাতি দেয় নাই, বউ এক্লা এক্লা পুলাপান মানুষ করছে, -এই কারণে বউয়ের লাইগ্যা মাইষের করু’ণা জন্ম নিসে। এত সে’ক্রিফাইস যে করছে স্বামীর জন্য, স্বামী মই’রা যাওয়ার পর, পুলাপান মানুষ হইয়া যাওয়ার পর না হয় তার একটু সাধ আ’হ্লাদ মিটাক। অভিনন্দন ওই করু’ণা থেইকাই আসতাসে।*

*তার বয়সী অন্য কোনও মহিলা, যে মহিলা স্বামীর জন্য সেক্রি’ফাইস করে নাই, পুলা’পানের কথা ভাইবা নিজের সাধ আহ্লাদ বিসর্জন দেয় নাই, তার মতো বুড়া বয়সে বিয়া একবার করতে চাক না- গাই’ল্যাইয়া গু’স্টি উদ্ধা’র করবো মাইনষে। কু’ত্তা দিয়া করাইবো।*
*এক মহিলার বুড়া বয়সের বিয়া মাইনা নিসে সমাজ। তার মানে কিন্তু মেয়ে-মহিলারা যা ইচ্ছা তাই করনের সুযোগ পাইয়া গেসে তা না। পাইয়া গেসে ভাইব্যা সুখ পাওয়ার কিছু নাই।*
*বিয়া করাডার নাম নারী স্বাধীনতা না। বরং উল্টা। বিয়া না কইরা, ত্যাগ না কইরা, মাইনষের করু’ণার পাত্রী না হইয়া, পর’নির্ভর না হইয়া, মাথা উচা কইরা বাঁচার নাম নারী স্বাধীনতা। ভুইলা গেলে চলবে না বিয়া জিনিস্টাই নারী বি’রোধী।*

*২. নবনীতা দেবসেনের মৃ’ত্যুর খবর শুনে বড় বি’ষণ্ন আমি। তাঁর সংগে আমার সখ্য ছিল না খুব। তবে মাঝে মধ্যে দেখা হয়েছে। একবার তাঁর বাড়ি আমি গিয়েছি, একবার তিনি এসেছেন আমার বাড়ি। ওই একবারই। অম্ল মধুর একটা সম্পর্ক ছিল আমাদের । নবনীতা দেবসেনের সংগে সবচেয়ে চমতকার যে সময়টি কাটিয়েছি আমি, সেটি কোনও জলে নয়, স্থলে নয়, সেটি অন্তরীক্ষে। দিল্লিতে নারীবাদী এক অনুষ্ঠান শেষ করে দুজনে একসংগে ফিরেছিলাম কলকাতায়। দিল্লি থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে পাশাপাশি বসেছিলাম। নবনীতা দেবসেন তাঁর জীবনের অনেক গল্পই সেদিন আমাকে বলেছেন। গল্পের উপস্থাপনায়, বর্ণনায় এত সূক্ষ্ম কারুকাজ, এত প্রচণ্ড রসবোধ- অসাধারণ প্রতিভা থাকলেই সম্ভব। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমি। প্রাণ খুলে হেসেছি।*

*আমরা এক এক করে সবাই পৃথিবী ছাড়বো। এমন নয় যে তিনি একাই চলে গেছেন। নবনীতা দেবসেন জীবনে স্নেহ শ্রদ্ধা ভালোবাসা প্রচুর পেয়েছেন। নিজের মতো করে জীবন তিনি যাপন করেছেন। মৃ’ত্যুর সময় পাশে প্রিয় প্রিয় মানুষদের পেয়েছেন। সার্থক জনম তাঁর।*

*আমারই শুধু একটু আক্ষেপ রয়ে গেল। এমন প্রচন্ড রসবোধ যাঁর, তাঁর সংগে আমার সখ্য হয়নি। কলকাতায় সাড়ে তিন বছর বাস করেছি। কত কত মানুষের সংগে বন্ধুত্ব হয়েছে। তাঁর সংগে হলে সমৃদ্ধ হতে পারতাম আরও। আমাকে আরও একটু জানলে, আরও একটু বুঝলে তিনি হয়তো আরও একটু ভালোবাসতে পারতেন, আরও একটু কাছে আসতেন আমার। যা হয়নি, তা হয়নি। একটু আ’ক্ষেপ না হয় থেকেই যাক।*

*৩. আমি বিচা’রপতি হইলে অযোধ্যার রা’য়টা অন্যভাবে দিতাম। ২.৭৭ একর জমি যেইখানে রা’ম মন্দি’র বানানির অনুমতি দেওয়া হইছে সেইটা সরকারকে দিতাম আধুনিক একটা বিজ্ঞা’ন স্কুল বানানির জন্য । আর যে ৫ এ’কর জমি দেওয়া হবে মস’জিদ বানানির জন্য, সেই ৫ একর জমিও আমি সরকারকে দিতাম একটা আধুনিক হাস’পাতাল আর চিকি’ৎসা গবেষণা’কেন্দ্র বানানির জন্য। আধুনিক বিজ্ঞা’ন স্কুলে পুলা’পানেরা ফ্রি পড়বে। আধুনিক হাসপা’তালেও সবাই ফ্রি চি’কিৎসা পাবে।*