প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ *পাখির জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকায় বা’সা ভা’ড়া করলো সরকার*

*পাখির জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকায় বা’সা ভা’ড়া করলো সরকার*

410
*পাখির জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া করলো সরকার*

*রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের সেই আম বাগানেই স্থায়ী নীড় হচ্ছে বা’ড়ি ছা’ড়ার নো’টিশ পাওয়া শামুকখোল পাখিগুলোর। তাদের হয়ে বা’সা ভা’ড়া দেবে সরকার। তাই যতদিন ইচ্ছা নিরা’পদ নীড়ে থাকতে পারবে পাখিগুলো। আর কেউ তাদের তা’ড়িয়ে দেবে না।*
*এরই মধ্যে তাদের বা’সা ভা’ড়ার টাকা নির্ধা’রণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। সেই আবে’দন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কৃষি মন্ত্রণা’লয়ে। অনুমো’দন পেলে পাখিগুলোর বাসা ভাড়া হিসেবে ক্ষতি’গ্রস্ত আমবাগান ইজারা’দার বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা করে পাবেন। শর্ত একটাই বাসা ভা’ঙা যাবে না।*

*এর মধ্যে দিয়ে কয়েকশ’ বাচ্চা নিয়ে আপন নিবাস হা’রানোর শঙ্কা’য় থাকা শামুকখোল পাখিগুলো নির্ভার হতে চলেছে। তাদের কলকাকলিতে সব সময়ই মুখর হয়ে থাকবে বাঘার প্রত্যন্ত খোর্দ্দ বাউসা গ্রাম। শিগগিরই মন্ত্রণালয় থকে তাদের বাসা ভাড়া টাকা ছাড় পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।*
*পাখিরা বাসা ভাড়ার টাকা পাচ্ছে জানিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা কৃষি সম্প্র’সারণ কর্ম’কর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার পর পরই পাখির বাসা র’ক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে হাই’কোর্ট থেকেও নির্দে’শনা আসে। তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশা’সকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিই সব নি’র্দেশনা দেন। পরে রাজশাহী জেলা প্রশাস’কের নি’র্দেশে ওই আমবাগানে গিয়ে জরি’প চালানো হয়। উপজেলা নির্বা’হী কর্ম’কর্তা শাহীন রেজার নে’তৃত্বে তারা বাগানে গিয়ে দেখেন মোট ৩৮টি আমগাছে বাসা বেঁ’ধেছে শামুকখোল পাখিগুলো। সংশ্লি’ষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পর ত’থ্যগুলো যা’চাই-বা’ছাই করেন।*

*জরি’প শেষে ওই আমগাছগুলো থেকে বছরের সম্ভাব্য আম উৎপাদন ও তার সম্ভাব্য দাম নি’রূপণ করেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষ’তি হতে পারে বাগান মালি’ক বা ইজা’রাদারের। ক্ষ’তির পরিমাণ নি’র্ধারণের পর তারা রাজশাহী জেলা প্রশাস’কের কাছে প্রতি’বেদন দেন। নি’রীক্ষণের পর প্রস্তা’বনাসহ সেই প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলা প্রশা’সক।*

*জেলা প্রশা’সক হামিদুল হক জানান, গত ৫ নভেম্বর পাখিদের জন্য বাসা ভাড়া চেয়ে প্রতি’বেদন মন্ত্রণা’লয়ে পাঠানো হয়েছে। এই টাকা আমবাগানের মা’লিক বা ইজা’রাদারকে দেওয়া হবে। এতে করে আর কেউ পাখিগুলোকে বাসা থেকে তা’ড়াতে পারবেন না। যতদিন ইচ্ছা পাখিরা সেই বাসায় থাকবে। পাখিদের জন্য প্রতি বছর এই ব্যয় বহন করবে সরকার। শিগগিরই বাসা ভা’ড়ার টাকা ছাড় হবে প্রত্যা’শা করেন জেলা প্রশা’সক।*

*এর আগে গ্রামের আমবাগানের কয়েক হাজার শামুকখোল পাখিকে ১৫ দিনের মধ্যে তা’ড়িয়ে দেওয়ার নোটি’শ দেন বাগান ইজা’রাদার আতাউর রহমান। তবে বাধ সাধেন স্থানীয় কিছু পাখিপ্রেমী। এ সংক্রা’ন্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পাখির আাবাসস্থল র’ক্ষার উদ্যো’গ নেয় রাজশাহী জেলা প্র’শাসন। একজন নি’র্বাহী ম্যাজিস্ট্রে’টের নে’তৃত্বে একটি প্রতি’নিধি দল গত ৩০ অক্টোবর বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের ওই আমবাগান পরিদ’র্শনে যান। তারা পাখিদের বাসা ভা’ঙা যাবে না বলে জানান।*

*এছাড়া মহাপরি’চালকের নি’র্দেশে একই দিন ঘট’নাস্থলে যান র‌্যা’ব-৫ এর অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান। এ সময় বাগানে থাকা পাখির বাসা ভা’ঙা যাবে না বলে জানান এবং এখন থেকে র‌্যা’ব বাগানটি পর্যবে’ক্ষণ করবে বলেও জানান। এরই মধ্যে বিষয়টি উচ্চ আদা’লতের ন’জরে আনেন সুপ্রি’ম কো’র্টের আইন’জীবী প্রজ্ঞা পারুমিতা রায়। এরপর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই’কোর্ট বে’ঞ্চ স্বপ্রণো’দিত হয়ে রু’ল জা’রি করে আ’দেশ দেন।*

*খোর্দ্দ বাউসা গ্রামকে কেন অভয়ারণ্য ঘো’ষণা করা হবে না, তা জানতে চান হা’ইকোর্ট। পাশাপাশি অভ’য়ারণ্য ঘো’ষণা করলে ওই আমবাগান ইজারা’দারদের কী পরিমাণ ক্ষ’তিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে তা ৪০ দিনের মধ্যে জানাতে রাজশাহীর জেলা প্রশা’সক ও বাঘা উপজে’লা নি’র্বাহী কর্মক’র্তাকে নি’র্দেশ দেওয়া হয়। এর পর পরই জ’রিপ চালিয়ে প্র’তিবেদন তৈরি করে রাজশাহী জেলা প্রশা’সন।*