প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *১৯৬০ থেকে ২০১৯: বাংলাদেশে ভ’য়াবহ যত ঘূর্ণি’ঝড়*

*১৯৬০ থেকে ২০১৯: বাংলাদেশে ভ’য়াবহ যত ঘূর্ণি’ঝড়*

72
*১৯৬০ থেকে ২০১৯: বাংলাদেশে ভয়াবহ যত ঘূর্ণিঝড়*

*নানা সময়ে ভয়া’বহ ঘূর্ণি’ঝড়ের ক’বলে পড়েছে বাংলাদেশ। বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের দুর্যো’গ মোকা’বেলার সক্ষ’মতা বৃ’দ্ধির কারণে ঝ’ড়ে প্রাণহা’নির পরিমাণ কমে এসেছে।*
*সবশেষ চলতি বছরের ৯ নভেম্বর প্রবল ঘূর্ণি’ঝড় ‘বুলবুল’ আঘা’ত হা’নে। এতে মা’রা যায় চারজন। অপরদিকে ভারতে দুজনের মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর আগেও আরো ভয়া’বহ ঘূর্ণি’ঝড় আছ’ড়ে পড়েছে বাংলাদেশে।*
*১৯৬০-২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩টি বড় সাই’ক্লোনের ঘট’নার ত’থ্য পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিক এসব ঘূর্ণি’ঝড় নিয়ে একটি তালি’কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মে’ট্রোলজিক্যাল বিভাগ। এর মধ্যে ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৭ সালে সিডর হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘূর্ণি’ঝড়গুলোকে ‘সিভি’য়ার সাই’ক্লোনিক স্ট’র্ম’ বা প্রবল ঘূর্ণি’ঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।*

*মেট্রো’লজিক্যাল বিভাগের তালি’কার প্রথমে দেখা যায়, ১৯৬০ সালের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামে ঘূর্ণি’ঝড় হয়। যাতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিলো’মিটার। এসময় ১৫ ফুটের মত জলো’চ্ছ্বাস হয়েছিল।*
*১৯৭০ এর ঘূর্ণি’ঝড়:*
*১৯৬০ সালের পর আরো কয়েকটি ঘূর্ণিঝ’ড় আঘা’ত হানে বাংলাদেশে। যেগুলো সবই ছিল প্রবল ঘূর্ণি’ঝড়। তবে ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝ’ড়টি ছিল সবচেয়ে ভ’য়াবহ। সেবার ১২ নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলো’মিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘা’ত হানা এই ঘূর্ণি’ঝড়। ফলে ১০ থেকে ৩৩ ফুট উচ্চতার জলো’চ্ছ্বাস হয়েছিল। অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ি ডু’বে গিয়েছিল। আশ্র’য়হীন হয়ে পড়েছিল লাখ লাখ মানুষ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ১৯৭০ এর সালের ঘূর্ণি’ঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহ’ত হয়েছিল।*

*১৯৮৮ এর ঘূর্ণি’ঝড়ে সৃষ্ট জলো’চ্ছ্বাস:*
*১৯৮৮ সালে হওয়া এই ঘূর্ণিঝ’ড়ের ফলে বাংলাদেশে যে বন্যা হয়, তা ইতিহাসে অন্যতম সর্বনা’শা ব’ন্যা হিসেবে পরিচিত। ১৬০ কিমি. গতিতে ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের স্থলভূমিতে আ’ঘাত করে এটি। ঘূর্ণিঝ’ড়ের কারণে সে সময় বাংলাদেশের পাঁচ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ হারান।*
*১৯৯১ এর ঘূর্ণি’ঝড়:*
*প্রবল এই ঘূর্ণি’ঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলো’মিটার। এটি মূলত চট্টগ্রামে আ’ছড়ে প’ড়েছিল। এতে ১২ থেকে ২২ ফুট উচ্চ’তার জলোচ্ছ্বা’স দেখা দিয়েছিল। ২৯ এপ্রিলের এই ঘূ’র্ণিঝড়কে আখ্যা দেওয়া হয় ‘শতাব্দীর প্রচ’ণ্ডতম ঘূর্ণি’ঝড়’ হিসেবে। এতে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মা’রা গিয়েছিল বলে জানা যায়।*

*এরপর ১৯৯৭ সালের ১৯ মে আরেকটি ঘূর্ণি’ঝড় হয়। এটি ২৩২ বেগে সীতাকুণ্ডে আ’ঘাত হা’নে। এতে ১৫ ফুট উচ্চতার জলো’চ্ছ্বাস হয়। এরপর আরো কয়েকটি প্রবল ঘূর্ণি’ঝড় হয়েছিল। তবে সেগুলো বাতাসের গতিবেগ ছিল কম।*
*ঘূর্ণি’ঝড় সিড’র:*
*২০০৪ সাল পর্যন্ত ঘূর্ণি’ঝড়ের কোনো নামকরণ করা হয়নি। ২০০৭ সালে এসে নামকরণ হয়। এই বছরের ১৫ নভেম্বর যে ঘূর্ণি’ঝড় হয় তার নাম সিডর। ২২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা সিডরের তা’ণ্ডবে খুলনা-বরিশাল উপকূ’লীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় জ’লোচ্ছ্বাস হয়। সিডরে রেড’ক্রসের হিসেবে ১০ হাজার মানুষ মা’রা গেছে বলা হলেও সরকারিভাবে ছয় হাজার বলা হয়।*

*ঘূর্ণি’ঝড় আইলা:*
*পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘা’ত হা’না প্রব’ল ঘূর্ণি’ঝড় হলো ‘আইলা’। এটি ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘা’ত হা’নে। যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।*
*ঘূর্ণিঝ’ড় মহাসিন:*
*ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলে আ’ঘাত হা’নে। এটির গতি ছিল ১০০ কিলোমিটার।*
*ঘূর্ণি’ঝড় কোমেন:*
*ঘূর্ণি’ঝড় কোমেন ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘা’ত হা’নে। বাতাসের গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটার। কোমেনের তাণ্ড’বে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছিল।*

*ঘূর্ণি’ঝড় রোয়ানু:*
*রোয়ানু একটি ছোট ঘূর্নি’ঝড়, যা ২০১৬ সারে ২১ মে বাংলাদেশের উপ’কূল অঞ্চলে এবং ভারতে আংশিক আ’ঘাত হা’নে। ধারনা করা হয় ঘূর্ণি’ঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির।*

*ঘূ’র্ণিঝড় মোরা:*
*উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণি’ঝড় এটি। ২০১৭ সালের ৩০ মে কক্সবাজারে ১৪৬ কিমি. বেগে আ’ঘাত হা’নে ঘূর্ণিঝ’ড় মোরা। এর তাণ্ড’বে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বং’স হয়ে যায়। কক্সবাজারে বিদ্যু’ৎব্যবস্থা বিচ্ছি’ন্ন হয়ে পড়ে। জমির ফসল এবং লবন চাষীদের জমাকৃত লবন ন’ষ্ট হয়ে যায়। দুজন নারীসহ তিনজন মা’রা যায়।*