প্রচ্ছদ রাজনীতি *শ্রমিক লীগে নতুনরা নে’তৃত্ব চান, ঝ’রে প’ড়ছেন বয়স্করা*

*শ্রমিক লীগে নতুনরা নে’তৃত্ব চান, ঝ’রে প’ড়ছেন বয়স্করা*

95
*শ্রমিক লীগে নতুনরা নেতৃত্ব চান, ঝরে পড়ছেন বয়স্করা*

*কৃষক লীগের মতো শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নে’তৃত্বে পরি’বর্তন আসছে জাতীয় শ্রমিক লীগেও। একই সঙ্গে গঠ’নতন্ত্রের পরিব’র্তন এনে ক’মিটির মেয়া’দ তিন বছর করা হতে পারে। শনিবার (০৯ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরা’ওয়ার্দী উদ্যা’নে সম্মে’লনের মাধ্যমে নতুন নে’তৃত্ব পাবে সংগঠনটি।*
*দলীয় ঘো’ষণানুসারে শনিবার ১১টায় রাজধানীর সোহ’রাওয়ার্দী উদ্যা’নে জাতীয় শ্রমিক লীগের স’ম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মে’লন উদ্বো’ধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*শ্রমিক লীগ সূ’ত্রে জানা গেছে, সংগঠ’নটি বর্তমান শীর্ষ পর্যা’য়ের প্রায় নে’তারাই আর কর্ম’ক্ষম নেই। তাদের প্রায় সবাই দীর্ঘদিন আগে কর্মজীবন থেকে অব’সরে গেছেন। সংগঠনের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ অব’সরের প্রায় দেড়যুগ পেরিয়েছেন আগেই। সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও প্রায় বছর আট আগে নিজের কর্মজীবন থেকে অ’বসরে গেছেন। শ্রম আইন অনুযায়ী তারা জাতীয় শ্রমিক লীগের ক’মিটিতে থাকতে পারেন না। তারপরও এই মেয়া’দোত্তীর্ণ বয়স্ক নে’তারাই সংগঠনটি নিয়ন্ত্র’ণ করছেন। এবারও তারা একই প’দে বহাল থাকতে চাচ্ছেন।*

*শ্রমিক লীগ সূত্রে জানা যায়, ক্ষম’তাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের এই শীর্ষ দুই নে’তাসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নে’তাদের বিরু’দ্ধে রয়েছে নানা অভি’যোগ। দীর্ঘদিন মূল দল ক্ষমতায় থাকায় শ্রমিক সেক্ট’রে বর্তমানে এই সংগঠনের কোনো ধরনের তৎপরতা নেই বললেই চলে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম। শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই গত সাত বছরে দুর্নীতিতে জড়িয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভি’যোগ উঠেছে। অনেকের নামে দুর্নী’তি দ’মন কমি’শনে (দুদ’ক) মা’মলাও হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ এখন তু’ঙ্গে। সংগঠনকে শক্তিশালী না করা ও গত বছরে কোনো জেলায় সম্মে’লন করে কমিটি দেয়া হয়নি বলে অভি’যোগ রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞ’প্তির মাধ্যমে কমিটি হয়েছে, আবার ভে’ঙে দেয়ারও ঘ’টনা ঘ’টেছে। এক জেলায় একাধিক ক’মিটিও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর নি’র্দেশ সত্ত্বেও শ্রমিক লীগের জাতীয় কমি’টি হয়নি।*

*আওয়ামী লীগের নীতি’নির্ধারণী নে’তারা বলছেন, চলমান শু’দ্ধি অভি’যানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মে’লনের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন নে’তৃত্বের হাতে সংগঠ’নের দা’য়িত্ব দেয়া হবে। কোনো সহযোগী সংগঠনে বিত’র্কিত ও নানা অভিযোগে অভি’যুক্ত কারও ঠাঁই হবে না। তাই সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নে’তাদের বেশির ভাগকে বা’দ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূ’র্তির অধিকারীদের কাঁধে জাতীয় শ্রমিক লীগের নে’তৃত্ব তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ বাস্তবতায় শনিবার শ্রমিক লীগের সম্মে’লন হতে যাচ্ছে।*

*সম্মে’লকে সামনে রেখে, শেষবেলায়ও দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ প’দে আসীন হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন প’দপ্রত্যাশীরা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কা’র্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কা’র্যালয়ের সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডা’উন করছেন। নিজের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা নানা ভাবে।*

*শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর মেয়াদের হলেও সম্মে’লন না হওয়ায় এর বয়স দাঁড়িয়েছে ৭ বছরে। এবারের সম্মে’লনে শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে কমিটির মেয়াদ তিন বছর করার প্রস্তাব করা হবে। তবে কে’ন্দ্রীয় ক’মিটির কলেবর ৩৫ সদস্যই থাকছে। শ্রম আইন অনুযায়ী কমি’টির কলেবর বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে সংগঠন সূত্রে জানা যায়।*
*সূত্র জানায়, দেশের বৃহৎ শ্রমিক সংগঠনের ৭৮টি জেলা ইউ’নিট ছাড়াও এর রয়েছে অনেক শাখা সংগঠন। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বি’দ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিএ’ডিসি, ওয়া’সা সি’বিএ, বিসি’আইসি, ঘাট শ্রমিক লীগ, চা-শ্রমিক লীগ, রিক’শা-ভ্যা’ন, মোটর-শ্রমিক, বাস পরিবহন, ট্রা’ক-ল’রি, ভূমিসহ আরও বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন। এসব সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের নিয়’ন্ত্রণে।*

*নানা অভি’যোগ থাকা সত্ত্বেও সংগঠনের বর্তমান সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর মাহমুদ ও সিরাজুল ইসলাম পুনরায় একই প’দে থাকতে চান। তবে এই প’দে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান কার্যকরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু। এই প’দে আসতে আরও আগ্রহী সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ। সাধারণ সম্পাদক প’দ পেতে আগ্রহী বর্তমান ক’মিটির সহ সভাপতি আমিনুল হক ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।*

*জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বলেন, তার এই মেয়াদে শ্রমিক লীগকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আবার সভাপতি নির্বাচিত হলে যথাযথভাবেই সে দায়িত্ব পালন করবেন।*
*কার্যকরী সহ সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, ঊনসত্তর-সত্তর সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর নির্দে’শে বায়াত্তর সালে ছাত্রলীগ থেকে জাতীয় শ্রমিক লীগে যোগ দেই। মুক্তি’যুদ্ধ করেছি। দায়িত্ব পেলে যথাযথভাবে পালন করব।*

*সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি দৃঢ়’তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দা’য়িত্ব পালন করেছি। আমাকে যদি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়, কাজ করব। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও সংগঠনের জন্য একইভাবে নিজেকে উৎসর্গ করব। এক প্রশ্নের জবাবে কোনো অনিয়’ম দুর্নী’তির সঙ্গে তিনি কখনই জ’ড়িত ছিলেন না বলে তিনি দা’বি করেন।*
*অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে উদ্দে’শ্যমূলকভাবে আমার বিরু’দ্ধে অপ’প্রচার চালানো হচ্ছে।*

*যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ফারুক বলেন, ১৯৮৭ সালে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্পাদকমণ্ডলীতে দায়িত্ব পাই। এরপর সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দা’য়িত্ব পালন করছি। আমি মনে করি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সময় আমার হয়েছে।*
*অ্যা’ডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রা’তৃপ্রতিম সংগঠনে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্বচ্ছ ভা’বমূর্তির নে’তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। আমি একাধিকবার জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছি। তাই স্বাভাবিকভাবে এই পদটি প্রত্যাশা করি।*

*উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সর্বশেষ সম্মে’লনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমি’টি গঠিত হয়। ঐসময়ে ৪৫টি সাংগ’ঠনিক জেলার কমি’টি করা হয়েছে।*