প্রচ্ছদ রাজনীতি *তারেকের ‘ক্যা’শিয়ার’ আবদুল আউয়াল মিন্টুও বিএনপি ছা’ড়ছেন?*

*তারেকের ‘ক্যা’শিয়ার’ আবদুল আউয়াল মিন্টুও বিএনপি ছা’ড়ছেন?*

451
*তারেকের ‘ক্যাশিয়ার’ আবদুল আউয়াল মিন্টুও বিএনপি ছাড়ছেন?*

*বিএনপির অর্থ সহা’য়তা দান’কারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এম মোর্শেদ খান। তিনি সম্প্রতি বিএনপি থেকে পদ’ত্যাগ করেছেন। মোর্শেদ খানের পদ’ত্যাগের পর বিএনপিতে গু’ঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে এবার আবদুল আউয়াল মিন্টুও বিএনপি ছাড়ছেন কিনা।*
*আবদুল আউয়াল মিন্টু গত তিন মাস ধরে দলের সব ধরনের ক’র্মকাণ্ড থেকে অনুপস্থিত। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ অনেক বেড়েছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, মিন্টু এখন বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের নে’তাকর্মীদের সঙ্গেই বেশি মেলামেশা করছেন বলেই খবর পাওয়া গেছে। মোর্শেদ খানের পরেই তিনি বিএনপির অন্যতম অর্থ সহায়তা দানকারী ছিলেন। তারেক রহমানের ‘ক্যাশি’য়ার’ বলা হতো তাকে।*
*মোর্শেদ খানের পর মিন্টুও যদি বিএনপি ছে’ড়ে চলে যান, তাহলে বিএনপি বড়’সড় একটি অর্থ সংক’টে পড়তে পারে বলে বিএনপির অনেক নে’তাই মনে করছেন। তবে অনেক নে’তা আবার বলছেন যে, আবদুল আউয়াল মিন্টু এমনিতেই নিজেকে গু’টিয়ে নিয়েছেন। তার বিএনপি ছাড়ার কোনো ত’থ্য তাদের কাছে এখনো নেই।*

*মাহবুবুর রহমানের দ’ল ত্যা’গ নিয়ে যা বললেন জমির উদ্দিন*
*রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। তিনি দলের সব ধরনের পদ থেকে অব্যা’হতি চেয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বরাবরে লেখা চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে।*
*সাবেক এই সে’নাপ্রধান বুধবার রাতে যুগান্তরকে পদ’ত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। দু মাস আগেই তিনি মহা’সচিবকে পদ’ত্যাগের চিঠি দিয়েছেন বলে জানান মাহবুব।*

*মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমি রাজনীতি থেকে সরে এসেছি। আমি রি’জাইন করেছি দল থেকে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদ’স্যপদ প্রত্যা’হার করে নিয়েছি দেড়-দু’মাস আগে।*
*কী কারণে পদ’ত্যাগ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারণ আমি বয়স্ক মানুষ। সামনের ডিসেম্বরে ৮০ বছর পূর্ণ হবে। রাজনীতিতে কন’ট্রিবিউট করার মতো আমার কিছু নেই।*
*মাহবুবুর রহমান পদ’ত্যাগের কারণ হিসেবে বয়সের কথা বললেও এর নে’পথ্যে আরও কারণ রয়েছে। মূলত বিএনপির ভারপ্রা’প্ত চেয়ারম্যানের মতের সঙ্গে তার মত মিলছিল না। বিদেশ থেকে তারেক রহমানের দল পরিচালনার সমা’লোচক তিনি। এছাড়া একাদশ জাতীয় সং’সদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিরো’ধী ছিলেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা।*

*বিএনপির জোটের রাজনীতির সমা’লোচকও মাহবুব। তিনি জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট মেনে নিতে পারছিলেন না। এসব কারণে গত কয়েক মাস ধরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কিমিটির সভায় অনিয়মিত ছিলেন। এরই ধারবাহিকতায় দল ছাড়েন মাহবুব।*
*মাহবুবুর রহমানের পদ’ত্যাগের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমি’টির সদ’স্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘তার শরীর খা’রাপ। তিনি পদত্যা’গের কোনো চিঠি দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি অ’সুস্থ বলে মাঝে মাঝে স্থায়ী ক’মিটির বৈঠকে আসতে পারেন না।’*
*বিএনপির স্থায়ী কমি’টির একাধিক সদস্যদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নে’তাদের পদ’ত্যাগের পেছনে ভিন্ন কোনো গো’ষ্ঠীর সম্পর্ক থাকতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থি’তি অস্থি’তিশীল থাকলে যাদের সুবিধা, ওই পক্ষেরই কোনো না কোনো চা’পে নে’তারা পদ’ত্যাগের সিদ্ধা’ন্ত নিচ্ছেন।*

*‘মোরশেদ খানের পদ’ত্যাগের নেপ’থ্যে অন্য কারণ আছে’*
*বিএনপির ভাই’স চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান দল থেকে প’দত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প’দত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান মোরশেদ খান।*
*বিএনপির স্থায়ী কমি’টির সদস্য ব্যা’রিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মনে করেন, মোরশেদ খানের প’দত্যাগের পেছনে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন, তা দৃশ্যত কারণ। এর নে’পথ্যে অন্য কারণ আছে।*

*সাবেক এই স্পি’কার বলেন, ‘দেশের অবস্থা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগের মধ্যেও অ’স্থিরতা, এখন বিএনপির মধ্যে অস্থি’রতা সৃ’ষ্টি করতে চায় একটি মহল।’ এর অংশ হিসেবেই এসব পদ’ত্যাগ বলে দা’বি করেন তিনি।*
*জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘মোরশেদ খান যেসব কথা বলেছেন, এগুলো বলার কথা। দলের প্রতি তার যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা আছে। দলের প্রতি আমাদের পা’র্টির যারা আছেন, সবারই শ্রদ্ধা আছে। তারপর কেউ কেউ কিছু স্টেট’মেন্ট দিচ্ছে। দেশের অবস্থা কী, আপনারা বুঝতে পারছেন না।’*

*এর আগে বুধবার পদত্যা’গপত্র জমা দেয়ার বিষয়ে মোরশেদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরাবর লেখা পদত্যা’গপত্র আমার ব্যক্তিগত সহকারীর (পি’এস) মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পাঠিয়েছি।*
*ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ’ত্যাগ করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মোরশেদ খান। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও চট্টগ্রাম বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ নয়, মূলত ক্ষো’ভ-অ’ভিমান থেকেই দল ছে’ড়েছেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দল করে আসা এই নে’তা। মোরশেদ খানের পদ’ত্যাগপত্রে সেদিকে কিছুটা ইঙ্গি’তও দেয়া হয়েছে।*

*পদত্যা’গপত্রে মোরশেদ খান লেখেন- ‘মানুষের জীবনে কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সি’দ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্র’ভাব সুদূরপ্র’সারী। আমার বিবেচনায় সেই ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃ’খ ও বেদ’নাক্লান্ত হৃদয়ে পদ’ত্যাগের এ চিঠি।’*
*মোরশেদ খান আরও লেখেন, ‘রাজনীতির অঙ্গনে আমার পদ’চারণা দীর্ঘকালের। কিন্তু দেশের রাজনীতি এবং দলের অগ্রগতিতে নতুন কিছু সংযোজন করার মতো সঙ্গতি নেই। তাই ব্যক্তিগত কারণহেতু আমার উপলব্ধি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবস’র নেয়ার এখনই সময়। বহুবিধ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আমি অ’বিলম্বে আজ (মঙ্গলবার) বিএনপির রাজনীতি থেকে অ’বসর নেয়ার সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদ’স্যপদ প্রত্যা’হারসহ বর্তমানে অলঙ্কৃত ভাইস চেয়ারম্যানের প’দ থেকেও পদত্যা’গ করছি।’*

*বিএনপি সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সং’সদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষু’ব্ধ ছিলেন মোরশেদ খান। সেখানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনো’নয়ন দেয়া হয়। এর বাইরে চট্টগ্রামে দলের রাজনীতিতে তার অনু’সারীদের বিভিন্ন প’দ থেকে বা’দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কমি’টিগুলোতে সুফিয়ানের অনু’সারীদের গুরুত্ব দেয়া হয়। সবশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় সুফিয়ানকে। এসব নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃ’ত্বের সঙ্গে মোরশেদ খানের দূরত্ব তৈরি হয়।*

*এ নিয়ে চরম ক্ষু’ব্ধ ছিলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। দলের হাই’কমান্ডকে জানানোর পরও কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি পদ’ত্যাগের পথ বেছে নিতে বা’ধ্য হন।*
*পদ’ত্যাগের প্রকৃত কারণ জানিয়েছেন মঞ্জুর মোরশেদ খান। তিনি বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আমি প’দত্যাগ করেছি। অনেক বিচার-বিশ্লে’ষণ করে করে আমার উ’পলব্ধি হয়েছে- এই দলে আমার আর কন’ট্রিবিউশন (অ’বদান) রাখার কিছু নেই। সেজন্য পদত্যা’গ করেছি।’*
*দলের রাজনীতির সমা’লোচনা করে মোরশেদ খান বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন আর রাজনীতি নেই। এরা স্কা’ইপের মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়। এটি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে টি’কে থাকা সম্ভব নয়।*
*বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, শুধু বিএনপি নয়, আমি আর কোনো রাজনেতিক দলের সঙ্গেই থাকব না। সব ধরনের রাজনীতি থেকে অব’সর নেয়ার সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছি।*