প্রচ্ছদ রাজনীতি *তারেকের নে’তৃত্বের প্রতি সি’নিয়র নে’তাদের বিদ্রো’হ, অস’হায় বিএনপি*

*তারেকের নে’তৃত্বের প্রতি সি’নিয়র নে’তাদের বিদ্রো’হ, অস’হায় বিএনপি*

205
*তারেকের নেতৃত্বের প্রতি সিনিয়র নেতাদের বিদ্রোহ, অসহায় বিএনপি*

*কারা’বন্দি খালেদা জিয়ার অনু’পস্থিতিতে বিএনপিতে হঠাৎই ছন্দপতন দেখা দিয়েছে। তাতে বিদ্রো’হের ‘আ’লামত’ও দেখা যাচ্ছে। সাবেক সেনা’প্রধান লে. জে’নারেল (অব) মাহবুবুর রহমান এবং মোরশেদ খানের পদ’ত্যাগ যে একান্ত ব্যক্তিগত কারণ নয়, তা তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। দলের একাধিক নে’তা জানিয়েছেন, ভার’প্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর নীতি’নির্ধারণী পর্যায়ের এবং সি’নিয়র ও মধ্য সা’রির অনেক নে’তাই রু’ষ্ট। দুই নে’তা পদ’ত্যাগের মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন; আরও কয়েকজন সেদিকেই এগোচ্ছেন।*

*দলের নির্ভরযোগ্য সূ’ত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের নানা কর্ম’কাণ্ড ও সিদ্ধা’ন্তে দলের সি’নিয়র নে’তারা ক্ষু’ব্ধ। কারণ অনু’সন্ধানে জানা যায়- চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে রাজপথে দৃশ্যমান আ’ন্দোলন কর্মসূচি না দেওয়া, খালেদা জিয়াকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ‘অকারণে’ মনোনয়ন ব’ঞ্চিত হওয়া ও দল পুনর্গঠনসহ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সি’নিয়র নে’তাদের অব’জ্ঞা, সম্প্রতি অভি’জ্ঞদের বাদ দিয়ে দুই নে’তাকে স্থায়ী কমি’টিতে নিয়োগ দেওয়া। এসব ক্ষো’ভের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টি’কিয়ে রাখা ও মা’মলা-হা’মলা থেকে র’ক্ষা পেতেও কয়েকজন প’দত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।*

*বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘দলে সব সময় সব কিছু আমার অনু’কূলে থাকবে এটি ভাবা ঠিক নয়। প্রতি’কূল অবস্থাও আসবে। এটি মো’কাবিলা করাই রাজনীতি। যারা পদ’ত্যাগ করছেন, তা ব্যক্তিগত স্বার্থে। এখানে আদর্শের কোনো বিষয় নয়। যেমন আমি একাদশ জাতীয় সং’সদ নির্বাচনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারা’গারে রেখে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিরু’দ্ধে ছিলাম। দল তখন আমার কথা শোনেনি, একসময় তো আমার কথা শুনতে পারে। ক্ষো’ভ প্রকা’শ করে পদ’ত্যাগ কোনো সমাধান নয়।’*

*নীতি’নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, বর্তমানের শীর্ষ নেতৃ’ত্বের প্রতি অ’নাস্থা প্রায় সবার। কিন্তু খালেদা জিয়াকে কারা’গারে রেখে দলের বি’পদে এই কঠিন সিদ্ধা’ন্ত নিতে চাচ্ছেন না। বেই’মান তক’মাও লাগাতে চাইছেন না। ওই সব নে’তা বলেন, অ’বস্থা এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, খালেদা জিয়াকে কা’রাগারে রেখে পদ’ত্যাগ করলে নে’তাকর্মী ও দেশের মানুষের কাছে তাদের বে’ইমান হতে হবে। আবার যেভাবে দল চলছে, তাতে সম্মান নিয়ে রাজনীতি করাও ক’ঠিন হয়ে পড়েছে।*

*নে’তাদের কয়েকজন বলেন, জ্যেষ্ঠ নে’তাদের প্রতি তারেক রহমানের অব’জ্ঞা, তাদের গুরুত্ব না দেওয়া এবং নিজের মতো সি’দ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তারা খুবই ক্ষু’ব্ধ। তা ছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার নিজ বলয়ের বাইরে কাউকে গুরুত্ব দেন না, বরং নানাভাবে অ’পদস্থ করছেন।*
*জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারা’বন্দি হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরা’ম জাতীয় স্থায়ী ক’মিটির যৌথ নে’তৃত্বে দলের যে কোনো সি’দ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। এখানে তারেক রহমান এককভাবে কোনো সিদ্ধা’ন্ত নেননি। সেখানে কেউ যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপর অহেতুক দো’ষ চাপা’ন সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।*

*অবশ্য সি’নিয়র নে’তাদের পদত্যা’গে ‘অখুশি’ নন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, তারেক রহমান মনে করেন, সিনিয়র অনেক নে’তার মধ্যে রাজনৈতিক কমি’টমেন্টের অভাব আছে।*
*জানতে চাইলে নীতি’নির্ধারণী পর্যা’য়ের গুরুত্বপূর্ণ এক নে’তা বলেন, মাহবুবুর রহমান ও মোরশেদ খান সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মাহবুবুর রহমান সাবেক সেনাপ্রধান হওয়ায় সেনা’বাহিনীতে তার মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক। চীনের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই নিবিড়। মোরশেদ খানের সঙ্গে ভারত ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর যোগাযোগ বেশ ভালো। যারা দল ছেড়ে যাচ্ছেন অথবা যেতে চাচ্ছেন, দেশে ও বিদেশে তাদের গুরুত্ব পরিচিতি আছে। এভাবে তারা দল ছেড়ে গেলে তারেক রহমান ও দলের জন্য কোনো শুভ বার্তা নয়। শুধু নিজের লোক দিয়ে রাজনীতি হয় না, যোগ্য লোকেরও প্রয়োজন আছে।*

*দলীয় সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত সিনি’য়র নেতাদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শোক রানার মতো গুরুত্বপূর্ণ নে’তা পদ’ত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিএনপি ছাড়েন ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, তারপর দিন দুই মাস আগে পদ’ত্যাগপত্র দেওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান মাহবুবুর রহমান।*
*চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, একাদশ জাতীয় সং’সদ নির্বাচনে মোরশেদ খানকে মনো’নয়নবঞ্চিত করা হয়। এর পর দল পুনর্গঠনে তার অনুসারী নে’তাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব কারণেই তার ক্ষো’ভ। মোরশেদ খান বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল, এখন তা নেই। তার পরিবার ও দলের চাটু’কাররা দলে বিভা’জন তৈরি করছে। দলে গণতন্ত্র বলতে কিছু নেই।*

*মাস দুই আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যা’গপত্র দিয়ে বিএনপি ছেড়েছেন দলের নীতিনি’র্ধারণী ফো’রাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সে’নাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান। কিন্তু বিষয়টি এ পর্যন্ত দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধা’ন্ত অনুযায়ী লোকচক্ষুর অ’ন্তরালে ছিল। কিন্তু গত বুধবার গণমাধ্যমে মাহবুবুর রহমান নিজেই ফাঁ’স করে দেন।*
*দলীয় নীতি’নির্ধারণী ফো’রামের নে’তারা জানান, দুই মাস আগে লন্ডনে এক সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা উল্লেখ করে উপস্থিত নে’তাকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেন এবং তাদের সমর্থন চান।*

*নে’তাকর্মীরা তারেক রহমানের ওই প্রস্তাবে সমর্থনও দেন। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এলে এ বিষয়ে দ্বি’মত পোষণ করে দেশের একটি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন মাহবুবুর রহমান। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দলের স্থায়ী কমি’টির এক বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। এর সঙ্গে যুক্ত হন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান। ওই বৈঠকে মাহবুবুর রহমানকে অব্যা’হতি দেওয়ারও প্র’স্তাব করা হয়। কিন্তু ক’ঠোর সিদ্ধা’ন্ত নেওয়ার আগে তার কাছে দলের স্থায়ী কমি’টির সদস্য নজরুল ইসলামকে পাঠানো হয়। কিন্তু মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যের পক্ষে অনড় থাকার সি’দ্ধান্ত দেন। এর পরই তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তার পদত্যা’গপত্র দেন।*

*বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, মাহবুবুর রহমান সব সময়ই তারেক রহমানের সরাসরি বি’রোধিতা করতেন। গত জানুয়ারিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মাহবুবুর রহমান অভি’যোগ করেন, একাদশ নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি ভুল করেছে। যদি দলের নে’তৃত্ব দিতে হয়, তারেক রহমানকে দেশে আসতে হবে। দেশে এসেই তাকে নে’তৃত্ব দিতে হবে। বিদেশ থেকে দলের নে’তৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় ফো’রামে বিভক্তি ছিল। খালেদা জিয়াকে কারা’গারে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার বিরু’দ্ধে দলীয় ফো’রাম ছাড়াও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন গয়েশ্বরচন্দ্র রায়।*

*মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি সে’নাপ্রধান ছিলাম, আমি যা বলি তা তো ফেরত নিতে পারব না। তাই পদ’ত্যাগ করেছি, সেটি অস্বীকারও করব না। দলে রাজনীতি বলতে কিছু নেই। তারেক রহমান বিদেশে বসে স্বে’চ্ছাচারী করছেন। দলে গণতন্ত্র নেই। এভাবে একটি দল চলতে পারে না। তাই রাজনীতি থেকে সরে এসেছি।’*
*বিএনপির সিনিয়র নে’তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘একাদশ নির্বাচনের পর তারেক রহমানসহ বর্তমানে যারা দল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত, তারা প’দপদবি ধরে রাখতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দৃশ্যমান রাজপথে কোনো কর্মসূচি না দিয়ে গা বাঁচিয়ে চলছেন। এটি খালেদা জিয়ার প্রতি চরম অপ’মান।’*

*দীর্ঘদিন থেকে দল পরিচালনায় স্থায়ী কমি’টির নে’তা ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয় না। বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দলের কোনো সি’দ্ধান্তই জানতে পারি না। প্রতিদিন শুনতে পাই নয়াপল্টনে স্কা’ইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে ডেকে ডেকে কথা বলেন। কী বলেন, কী সিদ্ধা’ন্ত নেন তাও জানি না। দলে আছি কী নেই তাও জানি না। এ অবস্থায় চারদিকে গুঞ্জ’ন ছড়িয়ে পড়েছে, বিএনপি থেকে ভা’ইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওপর বীর’উত্তম, মে’জর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বী’রবিক্রম, এয়া’র ভাই’স মার্শা’ল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বেশ কিছু সিনিয়র নে’তা যে কোনো সময় পদত্যা’গ করছেন। যদিও এসব নে’তার মধ্যে বেশ কয়েকজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় কর্মসূচিতে দেখা গেছে।*

*‘আপনিসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপি ছাড়ছেন এমন গু’ঞ্জন বিষয়ে’ আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আরও অনেক সাংবাদিক আমাকে ফো’ন দিয়েছিলেন। এরপর আমি নিজে থেকে অনেক নে’তার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই বলেছে- এটি ভু’য়া খবর।’*
*দলের মধ্যে যে ক্ষো’ভ বিরাজ করছে তা কীভাবে দূর করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষো’ভ দূর করা সম্ভব নয়; ক্ষো’ভের কারণ দূর করতে হবে।*
*সম্প্রতি এক মামলায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি আদা’লত থেকে জা’মিনেও মুক্ত হন। এর পর এক অনুষ্ঠানে তিনি অভি’যোগ করে বলেন, রিজভী (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী) ছাড়া কেউ তার অথবা তার পরিবারের খোঁ’জ নেননি।*