প্রচ্ছদ রাজনীতি *আওয়ামী লীগে সংস্কা’রপন্থীরা রাজনীতিতে সক্রি’য় হচ্ছেন যারা*

*আওয়ামী লীগে সংস্কা’রপন্থীরা রাজনীতিতে সক্রি’য় হচ্ছেন যারা*

279
*আওয়ামী লীগে সংস্কারপন্থীরা রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন যারা*

*ও’য়ান ইলে’ভেন আওয়ামী লীগের জন্য একটি অ’গ্নিপরীক্ষা ছিল। ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নে’তৃত্বে সে’না সমর্থিত অনির্বাচিত সরকার দা’য়িত্ব গ্রহণ করার পর আওয়ামী লীগের ওপর অনেক নি’র্যাতন এবং নি’পীড়ন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও তথাকথিত দুর্নী’তির অভি’যোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষনে’তারাও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, আবার অনেকে সং’স্কারপন্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। এই সংস্কা’রপন্থীরা শেখ হাসিনাকে মাই’নাস করার জন্য প্রকাশ্যে বক্তব্য বি’বৃতি দিয়েছিলেন।*

*তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার একক দক্ষ’তায় ওয়া’ন ইলে’ভেন সং’কট কা’টিয়ে ওঠেন, তৃণমূল নে’তাদের সমর্থন নিয়ে ২০০৮ এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষ’মতায় আসে। সেই থেকে আওয়ামী লীগ টানা ৩ বার ক্ষম’তা গ্রহণ করেছেন।*
*২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পরেই এই সংস্কা’রপন্থীরা দলের মধ্যে কো’ণঠাসা হয়ে পড়েন। অধ্যাপক আবু সাইয়িদসহ বিভিন্ন সংস্কা’রপন্থী দল’ত্যাগও করেন।*

*কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগে যারা সং’স্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারা আবার লাই’মলাইটে আসছেন। তাদের তৎপ’রতা লক্ষ’ণীয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনাই বিভিন্ন কাজে তাদের ব্যবহার করছেন। আওয়ামী লীগের মধ্যে যখন অ’নুপ্রবেশকারীদের বিরু’দ্ধে তী’ব্র ক্ষো’ভ এবং বহি’রাগতদের নিয়ে নানা অনু’যোগ, তখন আবার সংস্কা’রপন্থীরা আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগে জাঁ’কিয়ে বসছেন বলে অভি’যোগ উঠেছে নে’তাকর্মীদের পক্ষ থেকে।*

*এ সমস্ত সংস্কা’রপন্থীদের তৎপ’রতা সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি ওয়া’ন ইলে’ভেনের সময়ে সংস্কা’রপন্থী ছিলেন এবং অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে সংস্কা’রের পক্ষে সো’চ্চার ছিলেন। শেখ হাসিনাকে যারা মাই’নাস করতে চেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও তিনি বি’এমএ’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি রাজনীতির মাঠে তাকে তৎ’পর দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের সম্মে’লনকে ঘিরে তিনি বেশ ত’ৎপর।*
*মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, শেখ হাসিনার সঙ্গেও তার আগের চেয়ে যোগাযোগ বেড়েছে। তাদের মতে ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি বা মেয়র পদের জন্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন চে’ষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।*

*তালি’কার দ্বিতীয়তে রয়েছেন মুকুল বোস। ও’য়ান ইলে’ভেনের সময়ে তিনি সংস্কা’রপন্থী ছিলেন, শেখ হাসিনাকে যারা মাই’নাস করতে চেয়েছেন তাদের অন্যতম ছিলেন এই মুকুল বোস। দলের কার্য’নির্বাহী কমি’টির বৈঠকেও শেখ হাসিনার নেতৃ’ত্বকে চ্যা’লেঞ্জ করেছিলেন বলেও অভি’যোগ রয়েছে। সেই মুকুল বোস ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর কিছুটা দূরে ছিলেন। কিন্তু আস্তে আস্তে তিনিও লাইম’লাইটে আসছেন। তাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা’মণ্ডলীর স’দস্য করা হয়েছে। এখন দলের কাউন্সি’লকে ঘিরে তাকে রাজনীতির মাঠে অত্যন্ত সর’ব এবং তৎ’পর দেখা যাচ্ছে। সূত্রমতে, মুকুল বোস উপদে’ষ্টামণ্ডলী প’দে আগ্রহী নন। বরং তিনি প্রেসি’ডিয়াম বা কার্যনি’র্বাহী সংস’দের কোনো একটি প’দের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্য সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে তার যোগাযোগ বেড়েছে।*

*এরপর আসে ডাকসুর সাবেক ভি’পি আখতারুজ্জামানের নাম। তিনি বাসদ থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনি’র্বাহী কমি’টির স’দস্য তিনি। ওয়া’ন ইলে’ভেনের সময়ে তিনি সংস্কা’রপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ থেকে কোনো নির্বাচনের তিনি মনোনয়ন পাননি, তার আসনে মেহের আফরোজ চুমকি মনোনয়ন পান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাকে এলাকায় এবং দলের কার্যক্রমে তৎ’পর দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শু’দ্ধি অভিযা’নের পর থেকে আখতারুজ্জামান অনেক বেশি সর’ব। দলীয় বিভিন্ন কর্ম’কাণ্ডে তার উপ’স্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, শেখ হাসিনাও সম্প্রতি তাকে ডেকেছেন, কথা বলেছেন। এই প্রেক্ষা’পটেই আবার চা’ঙা হয়েছেন আখতারুজ্জামান।*

*এরা ছাড়াও যারা আওয়ামী লীগের মধ্যে সং’স্কারপন্থী হিসেবে দূরে স’রে গিয়েছিলেন, তারা শু’দ্ধি অভি’যানের পরে আওয়ামী লীগের মূলধারায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চে’ষ্টা করছেন। অনেকেই দলের সভাপতি বা উর্ধ্বতন নে’তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আওয়ামী লীগের একজন নে’তা বলেছেন, বহি’রাগত, হা’ইব্রিড, জামায়াত-শিবিরের চেয়ে সংস্কার’পন্থীরা ভালো। এরকম একটা চিন্তা’ভাবনা আওয়ামী লীগের নীতি’নির্ধারকদের মধ্যে এসেছে। তাই সংস্কারপ’ন্থীরা আবার মাথাচা’ড়া দিয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।*