প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *পু’লিশ-মা’দককা’রবারী কি মা’সতুত ভাই?*

*পু’লিশ-মা’দককা’রবারী কি মা’সতুত ভাই?*

126
*পুলিশ-মাদক কারবারী কি মাসতুত ভাই?*

*#সবাই তো রে’ড দিতাছে তোমার বাসায়। #এখন রে’ড দিতাছে ভাই? #দিবে, আমরা ক্যা’ম্পে ঢু’কতেছি। #আচ্ছা ভাই আমি দেখতেছি।*
*এগুলো রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনে’ভা ক্যা’ম্পের চি’হ্নিত এক মা’দককার’বারির সঙ্গে পুলিশের উপপরিদর্শক (এস’আই) হাসানুর রহমানের মো’বাইল ফো’নে কথো’পকথনের অংশবিশেষ। মোহাম্মদপুর থানাপুলিশের কতিপয় এস’আই অভিযা’নের খবর মা’দককারবারিদের আগেই জানিয়ে দিতেন। পুলিশের এসব কর্ম’কর্তা নিয়মিত নির্ধারিত হারে মাসো’হারা নেন তাদের কাছ থেকে- দীর্ঘ অনু’সন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।*

*রাজধানীর অন্যতম বড় মাদ’ক স্প’ট মোহাম্মদপুরের জে’নেভা ক্যা’ম্প। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা’কারী বা’হিনীর কর্ম’কর্তাদেরও মা’থাব্যথার কারণ স্পট’টি। গত বছর দেশব্যাপী মাদ’কবিরোধী বিশেষ অভি’যান শুরু হলে জে’নেভা ক্যা’ম্পেও নিয়মিত অ’ভিযান চালায় র‌্যা’ব-পুলিশ; গ্রেপ্তার করা হয় চিহ্নি’তসহ কয়েকশ মাদ’ককারবারিকে। এতকিছুর পরও জে’নেভা ক্যা’ম্পে মা’দকের কারবার নির্মূ’ল করা যায়নি। ক্যা’ম্পের সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, মাদ’কবিরোধী বিশেষ অভি’যানের ফলে ক্যা’ম্পে মা’দকের বেচাকেনা আগের চেয়ে কমেছে। তবে ব’ন্ধ হয়নি। এজন্য তারা পুলিশের এক শ্রেণির অ’সাধু কর্ম’কর্তা এবং স্থানীয় প্রভা’বশালীদের যোগ’সাজশকে দা’য়ী করছেন।*

*এমন প্রেক্ষা’পটে জে’নেভা ক্যা’ম্পের মা’দক পরিস্থিতি নিয়ে অনু’সন্ধানে নেমে পাওয়া যায় চাঞ্চ’ল্যকর তথ্য-প্রমাণ। মাদক’কারবারিদের সঙ্গে কতিপয় পুলিশ ক’র্মকর্তার অ’নৈতিক অন্ত’রঙ্গ সম্পর্ক এবং অভিযা’নের খবর আগেভাবে মাদ’ককারবারিদের জানিয়ে দেওয়ার চিত্র উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অনুস’ন্ধানে। এ সময়কালে বিভিন্ন কৌ’শলে বেশকিছু মো’বাইল ফো’নের ক’ল রে’কর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার এস’আই রাজীব মিয়া ও মাদক’কারবারি মনিরের একটি কথোপ’কথনের রেক’র্ডের অংশবিশেষ-*

*মনির: আসসালামু আলাইকুম। ভাই আমি তো সব সময় আপনার সাথে আছি। আমি কোন সময় আপনার সাথে নাই ভাই কন? এস’আই রাজীব: আপনি ভদ্রলোক, ভালো লোক। ক্যা’ম্পে আপনার মতো ভালো লোক নাই। মনির: ভাই আমার ভাইরে একটু পাঠাই দেন। আপনি যা কইবেন আমি তাই করব ভাই। এস’আই রাজীব: আমি এক ঘণ্টা খুঁজে ওয়া’রেন্ট বের করলাম। এর মধ্যে যে দারো’গা ধরছে সে মা’মলা দিয়ে চলে গেছে। এর মধ্যে আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কি মনির ভাইর ভাই? মনির: আমি তো ভাই লোক পাঠাই রাখছি অনেক আগে। এস’আই রাজীব: ও তো অনেক আগে আসছে কিন্তু আমাকে বলে নাই। বললেই হতো। আমি দেখতাম দৌড়’ঝাঁপ করতাম। ও তো আমার কাছের ছোট ভাই। মনির: আপনি যা বললেন আমি তা-ই ব্যবস্থা করব ভাই। ওরে বাঁচা’ন। ও তো এইডা করে না ভাই। এস’আই রাজীব: হ্যাঁ আমি তো জানি ও করে না। আমি তো কিছু করি নাই। এখন নতুন নতুন অফিসাররা আসছে, এরা কথাও বোঝে না। উল্টা’পাল্টা কাজ করে বসে থাকে। আমি কি আগে আপনার উপকার করিনি? মনির: হ্যাঁ ভাই আপনি আগে অনেক উপকার করছেন ভাই।*

*এসআই হাসানের সঙ্গে একই মা’দক কা’রবারির আরেকটি ফোনো’কথন-*
*মনির: আমার ভাই (মনিরের ভাই হীরা) ওর তো মামলা নাই। ওকে তো নিয়ে গেছে। একটু দেখেন ভাই। এস’আই হাসান: ওর তো ও’য়ারেন্ট আছে। মনির: না ভাই ওয়া’রেন্ট নাই। এস’আই হাসান: দেখি স্যারদের সাথে কথা বলে দেখি। মনির: দেখেন ভাই আর এ জন্য কি করতে হবে আমি করে দিবানি ভাই। এস’আই হাসান: তোমার তো কথা ঠিক থাকে না। আচ্ছা আমি থানায় গিয়ে দেখি।*
*এ অভি’যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এস’আই হাসানুর রহমান বলেন, অ’ভিযোগ সঠিক নয়। আর অভি’যোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এস’আই রাজীবের ভাষ্য পাওয়া যায়নি।*

*অনু’সন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানার এস’আই আল আমিন, এ’সআই রাজীব, এস’আই হাসানসহ অন্তত ৫ জন কর্ম’কর্তা প্রতি সপ্তাহে জে’নেভা ক্যা’ম্পের প্রত্যেকে মাদক’কারবারির কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মা’সোহারা নেন। এ ছাড়া ক্যা’ম্প ও মোহাম্মদপুরের স্থানীয় প্রভাব’শালীদেরও দিতে হতো মোটা অঙ্কের মাসোহা’রা। এর মধ্যে ক্যা’ম্পের এক কথিত নে’তাও রয়েছেন মাসো’হারা নেওয়ার তা’লিকায়।*
*মাদক’কারবারি মনির ও হীরার মা জোহরা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে আমার ছেলেদের বোঝানোর পর তারা এখন মা’দক কার’বার ছেড়ে দিয়েছে। এর পর তিনি আমাদের সময়ের কাছে অভি’যোগ করেন, কিন্তু কিছু প্রভা’বশালী লোকের মাসো’হারা ব’ন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ফের মাদ’ক কা’রবারে নামানোর জন্য আমার ছেলেদের চা’প দিচ্ছে।*

*নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জে’নেভা ক্যা’ম্পের একাধিক মা’দককারবারি এ প্রতিবেদককে জানান, দারিদ্র্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বি’হারিদের মা’দক ব্যবসায় যু’ক্ত করা হয়ে থাকে। আর মা’দক ব্যবসার লা’ভের একটি বড় অংশই প্রভাব’শালীদের দিতে হয়।*
*এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মো’বাইল ফো’নে ক্ষুদে’বার্তা পাঠানো হলেও অপর প্রান্তের সা’ড়া মেলেনি। এর পর যোগাযোগ করা হয় ডি’এমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমি’শনার (ডি’সি) বি’প্লব বিজয় তালুকদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি এখানে যোগ দিয়েছি সাত দিন হলো। আমাকে বরং আপনারা ত’থ্য দিয়ে সাহায্য করুন। পুলিশের বিরু’দ্ধে এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।*