প্রচ্ছদ রাজনীতি *কৃষক লীগ ও কমি’টি বাণিজ্য*

*কৃষক লীগ ও কমি’টি বাণিজ্য*

152
*বিশ্বজুড়ে কৃষক লীগের নজিরবিহীন কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ*

*নজি’রবিহীন ক’মিটি বাণিজ্যের অভি’যোগ মাথায় নিয়ে আগামীকাল বুধবার হতে যাচ্ছে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় স’ম্মেলন। প’দবাণিজ্য, অবৈধ’ভাবে সম্পদ অ’র্জন, কৃষকদের দুঃস’ময়ে পাশে না দাঁড়ানোর অভি’যোগ ছিল দীর্ঘদিনের। কৃষিসংশ্লিষ্ট লোকজনের পরিবর্তে ভিন্ন পেশার মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক’মিটি গঠনসহ নানা বিত’র্কিত কর্ম’কান্ডের জা’লে আ’টকা পড়েছিলেন বর্তমান শীর্ষ নে’তৃত্ব। শুধু কি তাই? বাংলাদেশের কৃষক স্থায়ীভাবে বসবাস না করলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আবুধাবি, কুয়েত, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে দেওয়া হয়েছে ক’মিটি।*

*রাজধানীতে কৃষক না থাকলেও রয়েছে বনানী, গুলশান, বারিধারা, ধানমন্ডিতে কৃষক লীগের ক’মিটি। দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামীকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেল’নকে ঘিরে উৎসবের আমে’জ বিরাজ করছে। ফলে প’দপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎ’সাহ-উদ্দী’পনা বেশি। বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে নিজ নিজ পক্ষে জো’র ল’বিং-তদ’বিরে ব্যস্ত সময় পা’র করছেন আগ্রহীরা। শেষ বেলায় ধর’না দিচ্ছেন মূল দ’ল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নে’তা-মন্ত্রীদের কাছে। সমর্থকদের নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভি’নিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যা’লয়ে শো’ডাউনও করেছেন কেউ কেউ।*

*দলীয় সূত্রমতে, এবারের সম্মে’লনে গঠনতন্ত্রে আনা হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় ক’মিটির আকার ১১১ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ জন করা হচ্ছে। বিদেশ কমি’টি দিয়ে বাণিজ্য কমাতে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ক্ষ’মতা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এখন থেকে বিদেশ ক’মিটি দিতে হলে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সংসদের এবং পরবর্তীতে সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনু’মোদন লাগবে। গত ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সম্মে’লনের মাধ্যমে মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ সদস্যবিশিষ্ট কমি’টি ঘো’ষণা করা হয়। ওই কমি’টিতে বিভিন্ন প’দে সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজার পটুয়াখালী জেলার রয়েছে ২৬ জন এবং ১১১ জনের মধ্যে ৩৯ জনই আই’নজীবী পেশায়।*

*আ’ইনজীবীরা সংখ্যায় বেশি হওয়ায় শামসুল হক রেজার একটি বলয় ভারী। এ ছাড়া সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার বিরু’দ্ধে অ’বৈধভাবে সম্পদ অর্জন, লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কমি’টিতে প’দ দেওয়াসহ নানা অভি’যোগ আছে। যে কারণে তার বি’রুদ্ধে দুর্নী’তি দমন কমি’শন-দু’দক ত’দন্ত শুরু করেছে। বিদেশ শাখায় ক’মিটি দেওয়া, টাকার বিনিময়ে শিল্পপতি, বিভিন্ন পেশাজীবীকে দেওয়া হয়েছে সংগঠনের সহ-সভাপতি থেকে বিভিন্ন প’দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক লীগের একাধিক নে’তা জানিয়েছেন, মূল কমি’টি লিখিতভাবে ১১১ জনের হলেও অলি’খিতভাবে এর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ ছাড়ি’য়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সভাপতি চিঠিতে স্বা’ক্ষর করে প’দ দিয়েছেন। কারও কারও কাছ থেকে একটি সদ’স্য প’দের বিনিময়ে ৪০ লাখ টাকারও বেশি নেওয়া হয়েছে।*

*এ প্রসঙ্গে কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসি’ভ করেননি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা বলেন, ‘আমার বিরু’দ্ধে যেসব অভি’যোগ আনা হচ্ছে তা সত্য নয়। আইন’জীবীদের আমি নে’তা বানাইনি। আমি সংগঠনে যে পরিমাণ সময় দিয়েছি অন্য কেউ তা দেয়নি।’ বিদেশ কমি’টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরে একটা বিদেশ কমি’টি হয়নি। সুতরাং বিষয়টি বলতে পারব না।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত কমি’টির বাইরে প’দ-পদ’বি দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু প’দ শূন্য ছিল, সে কারণে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’*

*একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কৃষক লীগের এই বিতর্কিত কর্মকা’ন্ডের কারণে মোতাহার হোসেন মোল্লা ও শামসুল হক রেজার নে’তৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না আওয়ামী লীগ প্রধান। খোঁ’জা হচ্ছে নতুন নে’তৃত্ব। দক্ষ সংগঠক, কর্মীবান্ধব, দুঃস’ময়ের কান্ডা’রি ও সাবেক ছাত্রনে’তাদের দেওয়া হবে কৃষক লীগের নতুন দায়িত্ব। সূ’ত্রমতে, সংগঠনের নাম কৃষক লীগ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি নিয়ে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি সংগঠনটির। উল্টো ক্যাসি’নোকান্ডে নাম উঠেছে সংগঠনটির এক কেন্দ্রীয় নে’তার। যার সঙ্গে কৃষির ন্যূনতম সম্পর্কও নেই। তিনি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল আলম ফিরোজ। রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়া’চক্রের চেয়ারম্যান তিনি। ওই ক্রীড়া ক্লা’বটিতে অবৈ’ধ ক্যা’সিনো ব’ন্ধে র‌্যা’বের অভিযা’নের পর গ্রেফতার হয়ে এখন কা’রাগারে তিনি। ফিরোজ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত ১১১ কমি’টিতে ছিলেন না। কৃষক লীগের এমন অনেক নে’তা রয়েছেন, যাদের কৃষির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই কৃষক সংগঠনটিও কৃষির সঙ্গে সম্পর্কহীন হয়ে পড়েছে।*

*নে’তৃত্বে আলোচনায় যারা: কৃষক লীগের সম্মে’লনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প’দে আলোচনায় রয়েছেন প্রায় দেড় ডজন নে’তা। বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা আবারও একই প’দে থাকতে চান। তিনি সেভাবেই ল’বিং ত’দবির শুরু করেছেন। সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা সংগঠনের সভাপতির পদে আসতে চান। এ ছাড়াও এ প’দে আসতে চান বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বদিউজ্জামান বাদশা, হারুনুর রশিদ হাওলাদার, বর্তমান সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ আলী, ওমর ফারুক। এ ছাড়াও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরীও আলো’চনায় রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক প’দে জো’র আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ চন্দ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আবুল হোসেন, আতিকুল হক আতিক, বিশ্বনাথ সরকার বিটু।*

*এ ছাড়া কৃষক লীগের বর্তমান ক’মিটির আরও কয়েকজন শীর্ষ দুই প’দের জন্য ভিতরে ভিতরে ল’বিং করলেও প্রকাশ্যে প্রার্থিতার কথা বলছেন না। এদিকে জাতীয় সম্মে’লনে কাউন্সি’লরদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ক’মিটি গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প’দ দুটিতে স্বচ্ছ ভা’বমূর্তির আস্থাভাজন ত্যা’গী ও দক্ষ নে’তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, কৃষক লীগের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য প’দপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন গোয়ে’ন্দা সং’স্থাসহ নানা মাধ্যমে আদ্যো’পান্ত খোঁ’জ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নে’তাদের।*

*কৃষকের কাচারি ঘরে সম্মে’লন: আগামীকাল কৃষক লীগের জাতীয় সম্মে’লনকে সফল করতে সব ধরনের উদ্যো’গ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মে’লন ঘিরে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। মূলমঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে কৃষকের কাচারি ঘরের আদলে। সরেজমিন দেখা গেছে, ৯০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রস্থ সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত কৃষকের কা’চারি ঘরের আদলেই তৈরি করা হয়েছে এই মঞ্চ। মঞ্চের পাশে রাখা হয়েছে ‘আমার বাড়ি-আমার খামার’র একটি ম’ডেল। এতে দেখা যাচ্ছে, কৃষক তার উৎপাদিত ফসল বাজারে বি’ক্রি করছেন এমন দৃ’শ্য। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গাড়ি থেকে নেমে মঞ্চে আসবেন, সে প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে সবুজ ঘাসে। রাস্তার চারপাশে লাগানো হয়েছে বাঁশবাগান, ফলদি ও ঔষধি গাছ। মোটকথা, কৃষক লীগের সম্মে’লনে কৃষকের বাড়িতে আসবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। সেভাবেই সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।*