প্রচ্ছদ স্পটলাইট *এবার তৃণমূলে শু’দ্ধি অভি’যানের তো’ড়জোড়*

*এবার তৃণমূলে শু’দ্ধি অভি’যানের তো’ড়জোড়*

99
*এবার তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযানের তোড়জোড়*

*একাদশ সং’সদ নির্বাচনের ইশতে’হারেই দুর্নী’তির প্রশ্নে ‘জি’রো টলারে’ন্সে’র অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর খানিকটা গুছিয়ে নিয়েই তিনি মনোযোগ দেন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে। সবার আগে নিজ দলের দূনী’তিবাজ ও বি’তর্কিত নে’তাদের বিরু’দ্ধেই তার নি’র্দেশে শুরু হয় অভি’যান। চাঁদা’বাজি, টে’ন্ডারবাজিসহ নানা অপ’রাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযো’গে দলীয় নে’তাদের চি’হ্নিত করে তাদের বি’রুদ্ধে ব্যব’স্থা গ্রহণের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে এক নজিরবি’হীন ঘট’না। তবে এ মুহূর্তে ইতিবাচক এই অ’ভিযান অনেকটাই স্থবির। এতে দুর্নী’তি বি’রোধী শু’দ্ধি অভি’যানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।*

*আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে কা’উন্সিলকেন্দ্রিক ব্যস্ততা থাকায় আপাতত বড় কোন অভি’যান হচ্ছে না। কাউন্সি’লের পর ফের জো’রদার হবে দু’র্নীতি বি’রোধী শু’দ্ধি অভি’যান, আর তা শুরু হবে তৃণমূল থেকে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ক’ড়া নির্দে’শনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দেশের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তিনি চিঠিও পাঠিয়েছেন। এতে জেলা সম্মে’লনের মধ্য দিয়ে গড়া নতুন কমিটিতে বিত’র্কিত ও অনু’প্রবেশকারীদের পদায়নের বিষয়ে সত’র্ক থাকার তাগি’দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সত’র্ক করা হয়েছে, কোনো দূর্নী’তিবাজকেই ছা’ড় দেওয়া হবে না।*

*সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে দেড় হাজার জনের একটি তা’লিকা করে তা বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই অন্য রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অবৈ’ধ কর্ম’কাণ্ডের মাধ্যমে বি’পুল বিত্তে’র মালিক হয়েছেন। কারও কারও বি’রুদ্ধে আছে সংগঠন বি’রোধী কাজ করার অভি’যোগ। আবার কেউবা দলের ত্যাগী নে’তাদের বা’দ দিয়ে নিজস্ব সম্রাজ্য গড়েছেন। অভি’যান চলমান থাকায় বিভিন্ন মাধ্যমে অভি’যুক্ত নে’তাদের আরো নাম আসছে। অভি’যুক্ত এসব নে’তাদের বিষয়ে যাচাই বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।*

*দলীয় সূত্র জানায়, চলতি মাসে সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউ’ন্সিল শেষ হবে। ডিসেম্বর হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউ’ন্সিল। এই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের কাউ’ন্সিল প্রক্রিয়াও চলবে। তৃণমূলের কাউন্সি’লে যাতে বি’তর্কিত নে’তারা স্থান না পান সেজন্য আগেই তাদের তা’লিকা কেন্দ্র থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যেসব নে’তার নাম তা’লিকায় আছে তারা দলীয় শা’স্তির অংশ হিসেবেই আসন্ন কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। স্ব স্ব জেলা ও থানা কমিটি গঠনের পর তা’লিকায় থাকা বিত’র্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।*

*দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে শু’দ্ধি অভি’যান এখনও শুরু হয়নি। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মে’লন। ওই সম্মেল’নের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনি’য়ন এবং ও’য়ার্ড সম্মে’লন হবে। এ জন্য ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁ’ধে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি সাংগঠনিক জেলার সম্মে’লনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যসব জেলার দিনক্ষণও দ্রুতই ঠিক করা হবে। আর এ সম্মে’লন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে বি’তর্কিত ও অনুপ্রবে’শকারীদের বা’দ দেওয়া হবে। কেননা, কাউন্সি’লের আগে তাদের বি’রুদ্ধে অভি’যান চালালে বা সাং’গঠনিক কঠো’র ব্য’বস্থা নেয়া হলে তারা বিশৃঙ্খ’লা সৃষ্টির চে’ষ্টা করতে পারে। এছাড়া বিগত সময়ে তারা নিজস্ব যে ব’লয় তৈরি করেছে তার অপ্র’য়োগ করতে পারে। এজন্য সম্মে’লন প্রক্রিয়ার পরই তাদের বি’রুদ্ধে সর্বা’ত্মক অভিযা’ন চালানো হতে পারে।*

*চলমান অভি’যান ক্যাসি’নো নিয়ে শুরু হলেও এখন অ’নিয়ম দুর্নী’তিতে জড়ি’তদের বি’রুদ্ধে তা চলছে। আইন শৃঙ্খলা বাহি’নী তাদের গ্রেপ্তার করছে, সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে দুর্নী’তি দ’মন কমি’শনও এসব ব্যক্তিদের বিরু’দ্ধে ব্যব’স্থা নিচ্ছে। বিরো’ধী প’ক্ষ এই অভি’যানকে আইও’য়াশ বলে প্রচারণা চালালেও সরকারের তরফে বলা হচ্ছে দুর্নী’তি অনিয়’মের বিষয়ে সরকারের কঠো’র নীতির অংশ হিসেবেই এ অভি’যান চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে দলের লোক বা আত্মীয় কাউকে ছা’ড় দেয়া হচ্ছে না। তবে পরি’স্থিতি দেখে অনেকে বলছেন, এই মুহূর্তে অ’ভিযান স্তিমিত বলে মনে হচ্ছে। সামনে এটি চলবে কিনা এ নিয়েও সন্দি’হান অনেকে।*

*এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের নে’তারা বলছেন, দুর্নী’তির বিরু’দ্ধে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে জি’রো টলা’রেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতেই চলমান শু’দ্ধি অভি’যান আরো জোর’দার করা হবে। তবে এখন নিয়’মিত অভি’যান চলবে। এ বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’কে নির্দেশনা দেয়া আছে।*

*রাজধানীতে ক্যাসি’নো বিরো’ধী অভি’যান শুরুর মাধ্যমেই মাঠ পর্যায়ে শু’দ্ধি অভি’যান শুরু হয়। যদিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁ’দা দা’বির অভি’যোগ আসায় তাদেরকে সংগঠন থেকে বহি’স্কার করার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ’না বাস্তবা’য়নের শুরু। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের পর এ সংক্রান্ত তথ্য বের হতে থাকে। পরে গ্রেপ্তার হন ওই শাখা যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।*

*গ্রেপ্তারের পর যুবলীগের এই দুই নে’তার দেয়া ত’থ্যে সংগঠনের চেয়ারম্যানসহ অনেকের নাম বেরিয়ে আসে। নাম আসে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের। তালিকা’য় নাম আসে ঢাকা সি’টি করপো’রেশনের বেশ কয়েকজন কাউ’ন্সিলরের। তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। গা-ঢাকা দিয়ে আছেন আরো কয়েকজন। বি’তর্কিত কা’ণ্ডে নাম আসায় ইতিমধ্যে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ তিন নে’তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বা’দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া টেন্ডার কিং বলে খ্যাত কথিত যুবলীগ নে’তা জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনিও কিছু নে’তার নাম প্রকাশ করেন যারা সরাসরি সুবিধাভোগী ছিলেন।*

*দলীয় নে’তারা বলছেন, দলের অনুপ্রবেশ’কারীদের আনা’গোনা শুরু হয় মূলত ২০০৯ সাল থেকে। ওই বছরের শুরুতে মহাজোট সরকার গঠন হওয়ার পর অন্য দলের সুবিধা’বাদীরা নানা ছুঁতোয় আওয়ামী লীগের ছাতায় আসতে থাকে। পরে আরও দুই দফা সরকার গঠন করায় তৃণমুল পর্যায়ে নানা দলের সুবিধা’বাদীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে যোগ দেন।*

*রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তিশালী বিরো’ধী দল না থাকা ও সরকারি দলের একক আধি’পত্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনুপ্র’বেশের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে একই নে’তৃত্ব থাকায় দুর্বৃত্তা’য়নে বিস্তৃতি ঘটে’ছে। এসব সংগঠনের শীর্ষ প’দে থাকা ব্যক্তিরা সংগঠনের চাইতে নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন বেশি। দলীয় ও গোয়েন্দা সংস্থার তর’ফে এসব তথ্য জমা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।*

*ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব সূত্রের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করেই ব্যবস্থা নেয়ার নি’র্দেশ দেন। শু’দ্ধি অভি’যানের বিষয়টি সরাসরি তিনি দেখভাল করছেন। এ পর্যন্ত যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সাধুবাদও এসেছে। এ অবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দলের ত্যা’গি ও দুর্নী’তিমুক্ত নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সভাপতিও দল থেকে দূর্নীতিবাজদের নির্মূলের সিদ্ধা’ন্তে দৃঢ় রয়েছেন।*

সম্পাদক/এসএ