প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *ইতিহাসের ৫ রহ’স্য সাদেক হোসেন খোকাকে ঘিরে*

*ইতিহাসের ৫ রহ’স্য সাদেক হোসেন খোকাকে ঘিরে*

1860
*ইতিহাসের ৫ রহস্য সাদেক হোসেন খোকাকে ঘিরে*

*সদ্য প্রয়াত বিএনপির প্রভাবশালী নে’তা সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী হয়েছেন, জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, ক্রীড়া সংগঠক হয়েছেন। এমন অনেক পরিচয় ছাপিয়ে তিনি একজন বীর মু’ক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে একজন রাজনীতিবিদের যা যা অর্জন তার পুরোটাই তিনি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সাবেক হোসেন খোকার এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনেও কিছু রহ’স্য এবং কিন্তু রয়ে গেছে। এই কিন্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম যেসমস্ত রহ’স্য সেগুলো হলো;*

*১. ও’য়ান ইলে’ভেনের ভূমিকা: ২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন আহমেদের আমলে যে সে’না সমর্থিত তত্বাবধায় সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল সেই সময় মাই’নাস ফ’র্মূলা প্রবর্তন করা হয়েছিল। বিএনপির মধ্য থেকেই আব্দুল মান্নান ভূইয়ার নেতৃত্বে একটি অংশ বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মা’ইনাস করার জন্য সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে যারা সংস্কার প্রস্তাবের বিরো’ধীতা করেছেন তাদেরকে কারা’বরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু এই সময় সাদেক হোসেন খোকার ভূমিকা ছিল র’হস্যময়। তিনি তত্বাবধায়ক সরকারের সময় মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে যাননি। যদিও সংস্কারপন্থীদের পুরোধা মান্না ভূইয়ার সঙ্গে তার রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ও’য়ান ইলে’ভেনে তার বি’রুদ্ধে অনেক দুর্নী’তির অভি’যোগ আনা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই বিষয়টি শুধু বিএনপির রাজনীতিতে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও এক রহস্যেময় প্রশ্ন।*

*২. আওয়ামী লীগের শাস’নামলে দুই বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করা: সাদেক হোসেন খোকা ২০০৮ এর নির্বাচনে বিএনপি বিপুলভাবে ধরা’শয়ী হয়। বিএনপি অস্তিত্ব সংক’টে পড়ে। ঢাকা বিভাগে বিএনপি সব আসনে পরা’জিত হয়। এই নির্বাচনের পরও টানা দুই বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খোকা দায়িত্ব পালন করে। কিভাবে এটা সম্ভব হলো এটা একটা র’হস্য। ঢাকার বিএনপির প্রভা’বশালী নে’তা তিনি। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে প্রায় নিষ্পে’ষিত করে ফে’লেছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে। তারপরও খোকাকে কিভাবে মেয়র হিসাবে রাখা হলো সেটি অমীমাংসিত। অনেকেই বলে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আশিবার্দেই তিনি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই রহস্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা অনোম্মো’চিত দিক।*

*৩. মান্নার সঙ্গে টেলি আলাপ ফাঁ’স: সাদেক হোসেন খোকা যখন চিকিৎসার জন্য নিউই’য়র্কে যান তখন নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে তার টেলি’ফোনে কথো’পকথন হয়। ঐ টে’লি আলাপে মান্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লা’শ ফেলে দেওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা চান খোকার কাছ থেকে। কিন্তু খোকা সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। এই অ’ডিও ক্লি’পটি পরে গোয়ে’ন্দাদের হাতে চলে আসে। কিভাবে এই অ’ডিও ক্লিপ’টি গোয়ে’ন্দাদের হাতে এলো সেটা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম মুখরোচক আলোচনা ও অনেক রহ’স্য।
কারণ ভাইবারে দুই পক্ষের কথপো’কথন এক পক্ষ রেক’র্ড না করলে তা রেক’র্ড করা সম্ভব ছিল না তখনকার বাস্তবতায়। কাজেই এই অ’ডিও টে’পটি কিভাবে বের হলো তা নিয়ে রাজনীতি অঙ্গনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আর এই অ’ডিও টে’প ফাঁ’স হওয়ার কারণে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বেশ কিছুদিন কারাব’রণ করতে হয়েছিল।*

*৪. বিদেশ যাওয়া: সাদেক হোসেনে খোকা সব সময় একজন লড়াকু রাজনীতিবিদ ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তিনিই শেষপর্যন্ত পালা’য়নপর মনো’বৃত্তি গ্রহণ করলেন কেন এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে অনেক প্রশ্ন আছে। চিকিৎসার জন্য তিনি নিউ’ইয়র্কে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আ’শ্রয় প্রার্থনা করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা পলা’য়নপর রাজনীতিতে গেলেন কেন? তিনি কি বিএনপির প্রতি হতা’শ হয়েই দেশ ছেড়ে’ছিলেন নাকি রাজনীতিতে অনী’হায় এই প্রশ্নের উত্তর অজানা।*

*৫. রাজনীতি থেকে নিজেকে গু’টিয়ে ফেলা: জীবন সায়াহ্নে এসে সাদেক হোসেন খোকা রাজনীতিতে আর সক্রি’য় থাকেননি। তিনি নিজেকে গু’টিয়ে নিয়েছিলেন এবং একাধিকবার রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার অভিপ্রা’য় ব্যক্ত করেছিলেন। রাজনীতির পর তার হতা’শা এবং রাজনীতির পর তার অ’রুচি এক অমীমাং’সিত প্রশ্ন সাদেক হোসেন খোকার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি প্রশ্ন।*
*এই সমস্ত র’হস্য নিয়েও সাদেক হোসেন খোকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্মরণীয় হয়েই থাকবেন নানা কারণে। কারণ অবিভক্ত ঢাকার তিনি শেষ মেয়র।*

*সম্পাদক/এসটি*