প্রচ্ছদ রাজনীতি *এম’পি-মন্ত্রীরা ‘অনু’প্রবেশ’ ঘটি’য়েছেন*

*এম’পি-মন্ত্রীরা ‘অনু’প্রবেশ’ ঘটি’য়েছেন*

119
*আওয়ামী লীগে বিতর্কিতদের ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটিয়েছেন এমপি-মন্ত্রীরা*

*আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্র’বেশের’ বিষয় এখন দেশময় আলো’চিত-সমালো’চিত ঘট’না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি এ নিয়ে চর’ম বি’রক্ত। এরই মধ্যে তিনি অনুপ্র’বেশকারীদের একটি দীর্ঘ তা’লিকা দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়েছেন।*
*এই অনুপ্র’বেশের ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে’নি; শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে, ঢালা’ওভাবে হয়েছে ২০১৪ সালের পর এবং সব অনুপ্র’বেশই ঘটেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও সংস’দ সদ’স্যদের হাত ধরেই। জামায়াতে ইসলামী, ছা’ত্রশিবির, বিএনপি, রা’জাকার পরিবারের সন্তান, হ’ত্যা মাম’লার আ’সামি, নাশ’কতা মাম’লার আ’সামিসহ নানা অ’পরাধে জ’ড়িত এলাকায় বিত’র্কিত লোকদের দলে নিয়েছেন তাঁরা।*

*নি’র্বিচারে অনুপ্র’বেশের কারণে দল থেকে ছি’টকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত নে’তাকর্মীরা। অনুপ্র’বেশকারীরা দলের প’দ-পদ’বিও পেয়েছেন। হয়ে উঠেছেন বড় নেতা’দের ঘনিষ্ঠ। অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্য বেসা’তিও তাঁদের নি’য়ন্ত্রণে। দলে এ ধরনের ঢালাও অ’নুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়েকবারই দলীয় নে’তাদের সত’র্ক করেছেন। এ নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।*

*২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর গণভ’বনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত-শিবির, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নয়, তারপরও যোগদানের ঘ’টনা ঘটে’ছে। অনুস’ন্ধানে পাওয়া গেছে, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৩টি যোগদান অনুষ্ঠান হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি যোগদান অনুষ্ঠান ছিল জা’মায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মিলিত আর ২১টি যো’গদান অনুষ্ঠান হয়েছে শুধু বিএনপি থেকে আসা নে’তাকর্মীদের। দেখা যায়, ৮৩টি যোগদান অনুষ্ঠানের মধ্যে ৬০টি হয়েছে ২০১৪ সালে বিএনপি আন্দো’লনে ব্য’র্থ হওয়ার পরে।*

*উল্লেখযোগ্য যেসব নে’তার হাত ধরে এসব যোগদান হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর তিন সদস্য, এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এক মন্ত্রী, বর্তমান এক প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ, রাজশাহীর পুঠিয়ার সাবেক সংস’দ সদ’স্য আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহীর বাগমারার সং’সদ স’দস্য এনামুল হক, জয়পুরহাটের সংসদ সদস্য শামসুল আলম দুদু, পাবনা সদর আসনের সং’সদ স’দস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, ঝালকাঠির সংস’দ সদ’স্য বি এইচ হারুন প্রমুখ। তবে অনুপ্রবেশের ঘট’না বেশির ভাগই ঘটেছে সংসদ সদস্যদের হাত ধরে।*

*২০১০ সালের বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গোদাগাড়ী-তানোর আসনের সং’সদ স’দস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন কাকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল মজিদ, গোদাগাড়ী উপজেলার জামা’য়াত মনোনীত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ও গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলাউদ্দিন স্বপন। বিএনপি থেকে আসা আবদুল মজিদ এখন কাকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। যুবদল থেকে আসা আলাউদ্দিন স্বপনকে করা হয়েছে উপজেলার মাকড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। জামা’য়াত থেকে আসা জাহিদুল ইসলামকে করা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলা কমিটির সদস্য।*

*২০১৪ সালের ২৯ মে আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে যোগ দেন নলছিটি উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবু বক্কর খান। তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগের স’দস্য করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে আয়োজিত এক জনসভায় কেন্দ্রীয় এক নে’তার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন ও জামায়াতের শ্রমিক ফ্রন্ট শ্রমিক কল্যাণ ফে’ডারেশনের জেলা সভাপতি নওশের আলী। তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্য প’দ দেওয়া হলেও কোনো পদ দেওয়া হয়নি।*

*২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া স্কুল মাঠে এক প্রবীণ নে’তার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান, সালথা উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান লাবলু ও ভাওয়াল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মকিম মিয়া। এ ছাড়া দলে নেওয়া হয় মানবতা’বিরোধী অপ’রাধে দণ্ডি’ত বাচ্চু রাজাকারের ভাই মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। তাঁদের মধ্যে হাফিজুর রহমান লাবলুকে ইউ’নিয়ন প’রিষদ (ইউ’পি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং বাচ্চু রাজাকারের ভাইকে খায়েরদিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যোগদানের বিরো’ধিতা করতে গিয়ে নাজে’হাল হয়েছি।’*

*২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর আসনের সং’সদ স’দস্য আবদুল ওয়াদুদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সদর উপজে’লার বারঘরিয়া ইউ’পি জামায়া’তের আমির মাওলানা আবুল খায়ের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা সোহরাব আলী, জামায়াতের শ্রমিক ফ্র’ন্ট শ্রমিক কল্যা’ণ ফেডা’রেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আফরোজ জুলমত আলী এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ হেল কাফী ও মিজানুর। তাঁদের সবার বিরু’দ্ধেই ছিল একাধিক নাশক’তার মাম’লা। তাঁদের দলীয় কোনো প’দ না দেওয়া হলেও তাঁদের নামে দায়ের করা প্রায় ২০টি মাম’লা থেকে রেহা’ই দেওয়া হয়েছে।*

*জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে আসার সুযোগ ও নাশ’কতার মা’মলা থেকে রেহাই দেওয়ার পরও একাদশ জাতীয় সংস’দ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ পরা’জিত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘জামায়াতিরা দলে যোগ দিয়ে নাশক’তার মা’মলা থেকেই রে’হাই পেয়েছে ঠিকই, তবে তারা নৌকায় ভোট দেয়নি, প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগে থাকলেও তাদের নিজস্ব কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভোট পায়নি, পরা’জিত হয়েছে।’*

*২০১৫ সালে রাজশাহী জেলার বাগমারার সংসদ সদস্য এনামুল হকের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী পশ্চিম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আলতাফ হোসেন। তাঁকে বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ’বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। একই বছর আওয়ামী লীগে যোগ দেন বাংলা ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জেএমবি নে’তা আবদুস সালাম। তিনি এখন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক। বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে একই সঙ্গে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল ইসলামকে। এ বিষয়ে বাগমারা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, ‘যোগদানের ঘ’টনা সত্য, আমরা বিরো’ধিতা করেছি, তবে রো’ধ করতে পারিনি।’*

*রাজশাহীর পুঠিয়া আসনের সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এক ডজন জামায়াত নে’তা। তাঁদের সবাইকে দলের বিভিন্ন প’দে বসানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক সংসদ সদস্যের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন চার আওয়ামী লীগ নেতা হ’ত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল কাসেম কাসু। তাঁকে দলীয় প’দে বসানোর আগেই আইন-শৃঙ্খ’লা রক্ষাকারী বাহি’নীর হাতে আ’টক হয়ে এখন কারা’গারে আছেন তিনি।*

*ঝালকাঠির সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের হাত ধরে এলাকার জামায়াত-বিএনপি ও রাজা’কার পরিবারের সন্তানদের ঢা’লাও অনুপ্র’বেশ ঘ’টেছে আওয়ামী লীগে। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে একাত্তরের পি’স কমি’টি’র সদস্য ফোরকান শিকদারকে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরুন শিকদার বলেন, ‘এম’পি এলাকার আওয়ামী লীগকে বিএনপি-জামায়াতে পরি’ণত করেছেন।’*

*সম্পাদক/এস’টি*