প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *তারেকের সঙ্গে দ্ব’ন্দ্বে জড়িয়ে পদ’ত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন খোকা*

*তারেকের সঙ্গে দ্ব’ন্দ্বে জড়িয়ে পদ’ত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন খোকা*

415
*তারেকের সঙ্গে দ্ব'ন্দ্বে জড়িয়ে পদ'ত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন খোকা*

*শুধু বিএনপি নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা খোঁ’জখবর রাখেন তারা সবাই জানেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার সম্পর্কে টানা’পোড়েন ছিল। সাদেক হোসেন খোকা যেমন তারেকের নে’তৃত্ব মেনে নিতে পারেননি, তেমনি তারেক জিয়াও সাদেক হোসেন খোকাকে পছন্দ করতেন না। সাদেক হোসেন খোকাকে নে’তৃত্ব থেকে স’রানোর জন্য তারেক জিয়া সব চেষ্টাই করেছিলেন। কিন্তু খোকার বিপুল জনপ্রিয়তা এবং খালেদা জিয়ার স্নেহের কারণে শেষপর্যন্ত তারেক জিয়া বিএনপি থেকে খোকাকে স’রিয়ে দিতে পারেননি। কিন্তু তারেক জিয়া এবং খোকার মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে প্রকাশ্যে বি’রোধ ছিল। এই বিরো’ধের জন্য প্রকাশ্যে ঝ’গড়া এবং বাহা’সের মত ঘ’টনা ঘ’টে, যা এখনো বিএনপিতে কান পাতলেই শোনা যায়। এই বিরো’ধে ৫টি বাহা’স অত্যন্ত আলোচিত। এই বাহা’সগুলোগুলো হলো;*

*১. ২০০১ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে অ’সম্মান করা: ২০০১ সালে বিএনপি যে নির্বাচনী প্রচার কৌ’শল নিয়ে এসেছিল সেখানে ছিল আ’ক্রমন করা হয়েছিল জাতির পিতা শেখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কিন্তু নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির বৈঠকে সাদেক হোসেন খোকা এই ব্যাপারে আপ’ত্তি উত্থা’পন করেছিলেন। তিনি ওই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাতে বলেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি আমরা কটূ’ক্তি এবং সমালো’চনা ব’ন্ধ করি তাহলে আওয়ামী লীগও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূ’ক্তি এবং সমালোচনা করবে। ওই বৈঠকে খোকা এটাও বলেছেন যে, বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানকে সবকিছুর উর্ধ্বে রাখা হোক। ওই বৈঠকে তারেক জিয়ার সঙ্গে খোকার উত্ত’প্ত বা’ক্য বিনি’ময় হয়। তারেক জিয়া তাকে আওয়ামী লীগের দালা’ল হিসাবে চিহ্নি’ত করেন। সাদেক হোসেন খোকা তাকে নাবা’লক রাজনীতিবিদ হিসাবে অভিহিত করেন।*

*২. হওয়া ভব’নে যাওয়া নিয়ে খোকা-তারেক বিত’র্ক: সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন সেই রাজনীতিবিদদের একজন যিনি কখনো হাওয়া ভবনে যেতেন না। এনিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে তার মনোমা’লিন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাদেক হোসেন খোকা দাপ্ত’রিক কাজে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য। সে সময় তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার কক্ষে প্রবেশ করে বেগম খালেদা জিয়াকে ভর্ৎ’সনা করেন। তিনি সি’টি কর’পোরেশনের কাজ কিভাবে হচ্ছে? আওয়ামী লীগের লোক কিভাবে পাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন।*

*তিনি হাওয়া ভব’নে কেন যান না, তাতে তার কি সমস্যা তা নিয়ে উচ্চ’স্বরে কথা বলতে থাকেন। জবাবে বেগম খালেদা জিয়ার সামনেই সাদেক হোসেন খোকা বলেন, দরকার হলে রাজনীতি ছে’ড়ে দেবো কিন্তু হাওয়া ভব’নের রাজনীতি করি না। আমি খালেদা জিয়া এবং জিয়াউর রহমানের রাজনীতি করি। অন্য কারো রাজনীতি করি না। আমি কারো ক্রী’তদাস নই আর হাওয়া ভ’বন কোন রাজনৈতিক কার্যালয় নয়। রাজনৈতিক কার্যালয় ছাড়া আমি যাবো না। বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যস্থতায় এই বি’তর্কের অব’সান ঘট’লেও মনোমা’লিন্যের অব’সান ঘ’টেনি।*

*৩. একুশে আগস্টের গ্রে’নেড হা’মলা: একুশে আগস্টের গ্রে’নেড হাম’লার ঘট’নাটি যখন ঘ’টে তখন খোকা ছিলেন সি’টি করপো’রেশনে। এই ঘ’টনা ঘ’টার পরপরই নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে তিনি চলে আসেন। সেখানে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে ডেকে আনেন। বাবর এসে এই ঘটনার আদ্যো’পান্ত বর্ণনা দেন। বাবরের কাছে সেদিনই তিনি শোনেন এই ঘ’টনার পেছনে রয়েছে তারেক জিয়া। খোকা তারেক জিয়াকে তীব্র ভর্ৎ’সনা এবং গালা’গালি করেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সঙ্গে দেখা করার জন্য ক্যান্ট’নমেন্টের বাসায় দেখা করতে যান সাদেক হোসেন খোকা। সেখানে গিয়ে তিনি তারেক জিয়াকে সন্ত্রা’সী রাজনীতির জন্য দা’য়ী করেন। এর পরি’ণতি ভয়াব’হ হবে বলে হুঁশি’য়ারি দেন। তারেক জিয়াকে স্প’ষ্ট করে বলেন, এই কাজটি আপনি ঠিক করেননি। তারেক জিয়া তাকে ভর্ৎ’সনা করেন এবং তাদের মধ্যে উত্ত’প্ত বা’ক্য বি’নিময় হয়। ওইদিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই সাদেক হোসেন খোকা ফিরে আসেন।*

*৪. বিএনপির নে’তৃত্ব প্রসঙ্গ: সাদেক হোসেন খোকা সবসময় চেয়েছিলেন বিএনপিতে তরুণ নেতৃ’ত্ব গড়ে উঠুক। যারা তরুণ তৃণমূল থেকে বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করে তাদেরকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার পক্ষ’পাতিত্বে ছিলেন খোকা। তারেক জিয়া ছিলেন তার বিপ’রীত। তারেক জিয়া সবসময় তার অনুগতদের থেকে নেতৃ’ত্ব গঠন করতে চেয়েছিলেন। এনিয়ে তারেকের সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার ২০১১ সালে তী’ব্র বাদানু’বাদ হয় বলেও জানা গেছে। দুজন টেলিফোনে উত্ত’প্ত বা’ক্য বি’নিময় করেন। সে সময় তারেক জিয়া সাদেক হোসেন খোকাকে দল ছাড়ার জন্য বলেন। এর পরপরই সাদেক হোসেন খোকা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যা’গপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার অনুরোধে এই পদ’ত্যাগপত্র প্রত্যা’হার করে নেন।*

*৫. ২০১৪ সালের নির্বাচন: ২০১৪ সালে নির্বাচনের ব্যাপারে সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন নির্বাচনে যেন বিএনপি যায়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া অন’ড় অবস্থানে ছিলেন। এরপর তিনি বেগম খালেদা জিয়া যাতে রা’জি হয় এজন্য তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাদের কথো’পকথন সুখের ছিল না। দুই জনই পরস্পর পরস্পরকে দোষা’রোপ করেন। যদিও তারেক জিয়া ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে একাধিক বিএনপির নেতা দা’বি করেছেন।*
*এসমস্ত প্রকাশ্য বি’রোধ ছাড়াও দুজনের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্ব’ন্দ্ব ছিলো। যেগুলো হয়তো ইতিহাসের অন্ধ’কারেই থেকে যাবে।*