প্রচ্ছদ প্রবাস *সৌদিতে বাংলাদেশি গৃহকর্মীর কান্না*

*সৌদিতে বাংলাদেশি গৃহকর্মীর কান্না*

208
*সৌদিতে নি'র্যাতনের শি'কার সেই নারী দেশে ফিরতে চান*

*’কমপক্ষে ২ বার আমাকে বেচাকেনা ও হাত বদল করা হয়েছে। ঢাকা থেকে রিয়াদে পৌঁছানোর পর গভীর রাতে পথ ব’দল, মানুষ ব’দল, গাড়ি বদল করে ১৫ দিনে আমাকে মরুভূমির মতো একটি এলাকায় নিয়ে তা’লা মে’রে রা’খা হয়। ১০ কক্ষের ওই বিশাল বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন আমাকে তেমন কাজ করতে হয়নি। সকাল হলেই একজন আরব নারী ঘর তা’লাবদ্ধ রেখে বাইরে চলে যেতেন। সপ্তাহ না ঘুরতেই শুরু হয় আমার ওপর যৌ’ন নি’র্যাতন, তখন বুঝতে পারি আমাকে অবৈ’ধ কাজের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।’*
*কাঁ’দতে কাঁ’দতে এভাবেই নিজের মানসিক, শারীরিক ও যৌ’ন নি’র্যাতনের কথা মুঠো’ফোনে বলছিলেন সম্প্রতি ফে’সবুকে ভাই’রাল হওয়া সৌদি আরবে নির্যা’তনের শি’কার সেই নারী। তার গ্রামের বাড়ি আশুলিয়ায়।*

*ওই নারী জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে তার মতো অনেক বাংলাদেশি নারীকে শারীরিক ও যৌ’ন নির্যা’তন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চ’ক্রের হাতে পাচা’র হওয়া এ রকম একজন বাংলাদেশি নারীর দাম নাকি প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এই নারীদের বেশিরভাগ দালা’লের মাধ্যমে রাজধানীর পুরানো পল্টন এলাকার একটি রিক্রু’টিং এ’জেন্সির মালিক আক্তার হোসেনকে টাকা দিয়েছেন বলে অভি’যোগ উঠেছে।*
*পল্টন থানার উপ-পরিদশর্ক রিজাউল হক বলেন, পাচারের সঙ্গে জ’ড়িত ওই এজে’ন্সির মালিকের বি’রুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়ে’রি করা হয়েছে। শনিবার রাতে আক্তার হোসেনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার দুটো মুঠোফোনই সচল পাওয়া যায়।*

*এর আগে বিদেশে এক নির্যা’তিতা বাংলাদেশি নারীর বাঁ’চার আ’কুতির ভি’ডিও ভাই’রাল নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। যেখানে ওই নারী বলেন, আমি মনে হয় আর বাঁচবো না, আমি মনে হয় ম’রেই যাব। আমি এখানে খুবই ক’ষ্টে আছি। আমি চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমি জানি না এখান থেকে কি করে র’ক্ষা পাব। আমার আগের বাসায় অনেক নি’র্যাতন করেছে। ১৫ দিন এক ঘরে আটকে রেখে নি’র্যাতন করেছে, কিছু খেতে দেয়নি। ওখান থেকে আরেক জায়গায় পাঠিয়েছে সেখানেও নি’র্যাতন করা হচ্ছে। আমারকে গরম তে’ল দিয়ে হাত পু’ড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বেঁ’ধে মার’ধর করা হয়েছে। আমাকে বাঁ’চাও। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও…।*

*জানা যায়, গত ৫ মে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত দালা’ল মাজেদা বেগমের সহযোগিতায় উচ্চ বেতনের প্রলো’ভন দেখিয়ে মেডিকেল হাসপাতালে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন আক্তার হোসেন। গত ৩০ মে ওই নারীকে সৌদি আরবে নিয়ে যান। তারপর থেকে স্ত্রীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে না পেরে তার স্বামী ওই আক্তার হোসেনকে চা’প প্রয়ো’গ করেন। তখন তার স্বামীকে এক মাসের বেতন বাবদ ১৭,৭০০ টাকা দেন এবং স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি জানান যে, সৌদিতে তার উপর শা’রীরিক মান’সিক ও যৌ’ন নি’র্যাতন চা’লানো হচ্ছে।*

*এই বিষয়ে তার স্বামী তখন আক্তার হোসেনের অফিসে গেলে তাকে বিভিন্ন প্রকার হু’মকি ও ভ’য়-ভীতি দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। নিরু’পায় হয়ে ওই নারীর স্বামী পল্টন থানায় একটি জি’ডি করেন। জিডি নং-৬৮৬, তাং ১১-০৯-২০১৯ইং এবং গত ২২-১০-২০১৯ ইং তারিখে তিনি ন্যায় বিচারের জন্য মহাপরিচালক, জনশক্তি কর্মসংস্থান রপ্তানি ব্যুা’রো এর দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দা’খিল করেন।*
*পরে এ বিষয়ে আক্তার হোসেন ওই নারীর স্বামীকে মোবাইল ফোনে জানান, তার স্ত্রী আগে যে বাসায় ছিলো সেখানে নির্যা’তন হলেও বর্তমানে যেখানে দিয়েছি সেখানে ভালো আছে। তাছাড়া তার নি’র্যাতনের অভি’যোগের বিষয় আমরা ভি’সা অফিসে জানিয়েছি।*

*ভুক্তভোগী মেয়ের মা বলেন, আমার মেয়ের দুইটি সন্তান রয়েছে। তারা তাদের মাকে ফের’ত চান।*
*ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, এজেন্সি তার স্ত্রীকে বিদেশ পাঠায়। এরপর নির্যা’তনের কথা তিনি সেখানে গিয়ে সব বলেন। এজে’ন্সির মালিক জানান, কোনোভাবেই ৬ মাসের আগে ফেরত আনা সম্ভব না। বেশ কয়েক দিন পর জানান, দেড় লাখ টাকা দিলে তারা চেষ্টা করবেন।*
*জানতে চাইলে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, এমন অভি’যোগ আমাদের কাছে এখনো আসেনি। সৌদিতে ওই নারীকে কোন এজে’ন্সি গ্রহণ করেছে ও স্মার্ট কা’র্ডে কাদের নাম আছে, সেটা জানতে পারলে এখানকার এজে’ন্সির বিরু’দ্ধেও ব্যবস্থা নেবে এ দেশের সরকার।*

*এ বিষয়ে আশুলিয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ভিডি’ওটি দেখার পর ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে কথা বলি। সেই সঙ্গে তার স্বামীকে সব রকমের সাহায্য করছি। মেয়েটাকে দেশে ফিয়ে আনতে কাজ করছি। সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্য়া’তনকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসি’য়েশন অব ইন্টা’রন্যাশনাল রি’ক্রুটিং এজে’ন্সিজের (বা’য়রা) সভাপতি বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক নি’র্যাতন ব’ন্ধে ব্যব’স্থা নেয়া হবে। নির্যা’তন নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়কে জানালে সেখান থেকে ইতিবাচক সা’ড়া পাওয়া গেছে। আমরা চাচ্ছি, যে নিয়োগকর্তা নারী শ্রমিককে নিয়োগ দিয়েছে নির্যা’তনের জন্য তার বিরু’দ্ধে ব্যব’স্থা নেয়া হবে।*
*এই ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর যৌ’ন নির্যা’তনের অভি’যোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।*