প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নে’তা*

*বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নে’তা*

292
*বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হ'ত্যার নেপথ্যে*

*বঙ্গবন্ধুর প্রতি’কৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্র’দ্ধা*
*জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অ’র্পণ করে শ্র’দ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জে’ল হ’ত্যা দিবস উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্র’দ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।*

*প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলীয় সিনিয়র নে’তাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যা’গ করলে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।*
*এ সময় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নে’তাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।*

*বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নে’তাকে হ’ত্যার নে’পথ্যে*
*পচাঁত্তরের পনেরই আ’গস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যার পর দ্বিতীয় ক’লংকজনক অধ্যায় হলো ৩ নভেম্বর জেলহ’ত্যা দিবস। জাতির পিতাকে হ’ত্যার পর মাত্র ৮২ দিন ক্ষ’মতায় ছিল বিশ্বা’সঘাতক খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানীকরণের দিকে এগিয়ে নিতে বড় দুটি কু’কীর্তি ঘ’টায় সে। এরমধ্যে একটি হলো জেলে জাতীয় চার নে’তাকে হ’ত্যা করা। অন্যটি ১৫ আ’গস্টের খু’নীদের দায়মুক্তির অধ্যা’দেশ জা’রি করা। পচাঁত্ত’রের ২৬ সেপ্টেম্বর মোশতাক এই অধ্যা’দেশ জা’রি করে। আর জে’লে নির্ম’ম হ’ত্যাকাণ্ড ঘ’টায় ৩ নভেম্বর ভোর রাতে। দেশের চার শ্রেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে সেদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে প্রথমে গু’লি এবং পরে বেয়’নেট দিয়ে খুঁ’চিয়ে হ’ত্যা করা হয়। কিন্তু কেন এই হ’ত্যাকাণ্ড? কেন এই নৃ’শংসতা?*

*রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তখন অনেকটা দি’শেহারা হয়ে পড়ে। চারজন সিনিয়র নে’তাসহ অনেকেই কা’রাগারে এবং অনেকে আত্মগো’পনে ছিলেন। বাকি নে’তারা প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে সমঝোতা করেন। অনেকে আবার রাজনীতিতে নিষ্ক্রি’য় হয়ে যান। সেই অবস্থাতেই জাতীয় চার নে’তাকে হ’ত্যা করা হয়। কারণ বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকারী সে’না কর্ম’কর্তারা ভেবেছিল খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে যে অভ্যু’ত্থান সেটা আওয়ামী লীগ বা বাকশালের পক্ষে হচ্ছে। ক্ষম’তাসীন মোশতাক বা তার সমর্থকরা চায়নি যে তাদের বি’রোধী আরেকটি শক্তি শাসন ক্ষম’তায় পুনর্বহাল হোক। ওই ধরনের একটা সরকার যদি হতো তাহলে জে’লে থাকা চার নে’তা ছিলেন সম্ভাব্য নে’তা। এই সম্ভাবনা যেন বাস্তবায়িত না হয় মূলত সেজন্যেই জে’ল হ’ত্যাকাণ্ড ঘটা’নো হয়।*

*পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার পর থেকেই হ’ত্যাকারী সে’না কর্মকর্তারা পাল্টা আরেকটি অভ্যু’ত্থানের আশংকায় ছিল। সেনা’বাহিনীর মধ্যে ছিল এক ধরনের বিশৃ’ঙ্খলা। সিনিয়র সে’না কর্মক’র্তাদের মধ্যে ছিল ক্ষম’তার দ্ব’ন্দ্ব। একদিকে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং অন্যদিকে মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ। জিয়াই মূলত তখন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহেমদকে পরিচালনা করছিল। খন্দকার মোশতাক যে বেশিদিন টি’কবে না, এটা ক্যান্ট’নমেন্টের ভেতরে সিনিয়র অফিসাররা বুঝতে পারছিল।*

*বঙ্গবন্ধুকে হ’ত্যাকারী সে’না কর্মকর্তারা ধারণা করেছিল যে কোন পাল্টা অ’ভ্যুত্থান হলে সেটি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে। সে ধরনের পরিস্থি’তি হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোন ধরনের নে’তৃত্ব না থাকে সেটাই তারা নিশ্চিত করতে চাইছিল। হ’ত্যাকারী সে’না কর্মকর্তারা ভেবেছিল যদি জাতীয় চার নে’তাকে হ’ত্যা করা হয় তাহলে পাল্টা অভ্যু’ত্থান হলেও সেটি রাজনৈতিক সমর্থন পাবে না। মূলত এই ধারণার ভিত্তিতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থা’নীয় চার নে’তাকে হ’ত্যা করা হয়।*

সম্পাদক/এসটি