প্রচ্ছদ রাজনীতি *পাপনের ক্যা’সিনো খেলার ভিডিও দেখে ব্যথিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী*

*পাপনের ক্যা’সিনো খেলার ভিডিও দেখে ব্যথিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী*

3677
*পাপনের ক্যাসিনো খেলার ভিডিও দেখে ব্যথিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী*

*গতকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ক্যা’সিনো খেলার একটি ছবি এবং ভি’ডিও ভাই’রাল হয়েছে। প্রথমে দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আজ পাপনের ক্যা’সিনো খেলার ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।*
*আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভি’ডিও এবং স্থিরচিত্রগুলো দেখেছেন। যখন দেশে ক্যাসিনো বিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে তখন পাপনের এই ক্যা’সিনো খেলার দৃশ্য দেখে হতবাক প্রধানমন্ত্রী নিজেই। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গতকাল দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী পাপনের ক্যাসিনো খেলার স্থির এবং ভিডিও চিত্রগুলো দেখেন। তিনি ব্যাথিত এবং হতাশ হন। এই ছবি দেখতে দেখতে তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, পাপনও!*
*উল্লেখ্য যে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের মহিলা নেত্রী আইভী রহমান পুত্র নাজমুল হাসান পাপন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ছোট ভাইয়ের মতই স্নেহ করেন। জিল্লুর রহমানের মৃ’ত্যুর পর তাকে সেই শুন্য আসনে মনোনয়ন দেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদও তাকে দেন। পাপনের বিরু’দ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভি’যোগ আসলেও প্রধানমন্ত্রী সেগুলো আমলে নেননি।*

*অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য এ কারণেই পাপন ক্রিকেট বোর্ডকে তার ইচ্ছেমতো চালিয়েছেন। জবাবদিহীতার উর্ধ্বে রেখেছিলেন নিজেকে। এখন এই ক্যাসিনোর ভিডিও ভাইরা’ল হওয়ার পর পাপনের পরিণতি কি হয় সেটাই দেখার বিষয়।*

*শুক্রবার থেকে শুরু আ. লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান*
*চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে সরগরম আলোচনা। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত দলে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলবে বিধায় সব স্তরের নেতাকর্মীরা কিছুটা নড়েচড়ে বসেছেন। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে জেলা উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের এই শুদ্ধি অভিযান।*

*চলবে নভেম্বর এবং ডিসেম্বর দুই মাস জুড়ে। দলের সাংগঠনিক সব জেলার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকদেরও এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে সব জেলায় এই তালিকা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।*

*প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী এই অভিযান শুরু হচ্ছে। অভিযানে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের দুর্নী’তি করে বিত্তশালী হওয়া নেতা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দুর্নী’তির সাথে সম্পৃক্ত রাজনীতিবিধ, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকুরিজীবি, টে’ন্ডারবাজ, দ’খলবাজ, মা’দক ব্যবসায়ী, যাদের বি’রুদ্ধে অভি’যোগ আছে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানা যায়।*

*তাছাড়া চিহ্নিত দুর্নী’তিবাজ, টেন্ডা’রবাজ ও দখ’লবাজ, যাদের কারণে বিগত সময়ে দল বিত’র্কিত হয়েছে, এমন কাউকে দলের কোন পর্যায়ে না রাখার কেন্দ্রের চুড়ান্ত সিন্ধান্ত সাংগঠনিক জেলাগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।দল ও সহযোগী সংগঠনে বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ। সম্মেলনকে সামনে রেখে সব জেলায় এই তালিকা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।*

*ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে যাতে বিত‌র্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা স্থান না পায়, সেজন্য তা‌দের তা‌লিকা ক‌রা হয়েছে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে এই তালিকা করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এই তালিকা সব জায়গায়, কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলার নেতা‌দের কা‌ছে ‌পাঠানো হচ্ছে। বিতর্কিত কেউ যাতে বি‌ভিন্ন পর্যা‌য়ের সম্মেলনে কমিটিতে স্থান করে নিতে না পারে, সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। নেতাকর্মীদের সেভাবেই দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে।*

*তিনি বলন, নেত্রী তার নিজস্ব কিছু লোক ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সবমিলিয়ে খোঁজ নি‌য়ে এই তালিকা করেছেন। আমি নিজেও জেলার নেতাদের সঙ্গে বিতর্কিতদের তালিকা নিয়ে কথা বলেছি। তালিকায় থাকা বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা কাউন্সিলে কোনো ধরনের জায়গা না নিতে পারে, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নী’তি, স’ন্ত্রাসী, চাঁ’দাবাজি, জ’ঙ্গিবাদ, ভূমি দখ’লকারী, অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ও বিতর্কিতদের আওয়ামী লীগে স্থান হবে না।*
*আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের জেলা ও সহযোগী সংগঠনগুলো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি করবে। গঠনতন্ত্রে যেভাবে কমিটি করার দিকনির্দেশনা আছে, সে অনুযায়ী কমিটি করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে নির্দেশনা যাচ্ছে।*