প্রচ্ছদ বাংলাদেশ গ্রাম-প্রান্তর *পৌর মেয়রের পেটে ঢুকে গেছে মসজিদ-মন্দিরের টাকা*

*পৌর মেয়রের পেটে ঢুকে গেছে মসজিদ-মন্দিরের টাকা*

39
*পৌর মেয়রের পেটে ঢুকে গেছে মসজিদ-মন্দিরের টাকা*

*সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর মেয়র নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মসজিদ-মন্দির ও শ্মশানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পৌর এলাকার ঘোষগাতি মৃধাবাড়ী জামে মসজিদ, ঘোষগাঁতি মহাশ্মশান ও ঘোষগাতি শিব মন্দিরের নামে বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকা এখনও পায়নি প্রতিষ্ঠানগুলো।*
*অভিযোগে জানা যায়, উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র এস.এম. নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সকল কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করে পৌরসভাকে দুর্নী’তির আখ’ড়ায় পরিণত করেছেন। সকল কাজে সে অনিয়ম দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।*

*২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উল্লাপাড়ার ঘোষগাতি মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের নামে ৫০ হাজার টাকা এ’ডিপি থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ২ বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত মসজিদের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য এডিপি থেকে ঘোষগাঁতি মহাশ্মশানের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এডিপি থেকে ঘোষগাতি শিব মন্দিরের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও দুই বছরেও বরাদ্দকৃত টাকা পায়নি প্রতিষ্ঠানগুলো।*

*এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মেয়রের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ দুর্নীতি ও অর্থ আত্ম’সাতের রেকর্ডপত্র দুদক কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পৌর মেয়র নজরুল ইসলামের দুর্নী’তি, অর্থ আত্মসা’তের রেকর্ডপত্রসহ নির্বাচনী হলফনা’মা দুর্নী’তি দ’মন কার্যালয়ে পাঠান উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। এরপর থেকেই মেয়র নজরুল ইসলামের অনিয়ম ও দুর্নীতিগুলো দিন দিন বেরিয়ে আসছে।*

*এ বিষয়ে ঘোষগাতি মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি ফজলুল হক মৃধা জানান, অনেকবার পৌরসভায় ঘুরেও আমাদের বরাদ্দকৃত টাকা পাইনি। এখন শুনছি মেয়র নজরুল ইসলাম আমাদের মসজিদের টাকা নিজেই তুলে নিয়েছেন।*
*ঘোষগাতি শিব মন্দিরের কমিটির সভাপতি মদন কুমার কর্মকার জানান, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে এডিপি থেকে ৫০ হাজার মন্দিরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই টাকা মেয়র নজরুল ইসলাম নিজেই গোপনে তুলে আত্মসাত করেছেন। টাকা আত্মাসাতের ঘটনায় মেয়র নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরবার অভিযোগ দেবেন বলেও তিনি জানান।*

*ঘোষগাঁতি মহাশ্মশান কমিটির সেক্রেটারি বাবলু কুমার ভৌমিক জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য এডিপি থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় আমাদের মন্দরে। যথারীতি টেন্ডারও হয়। কিন্তু মেয়র নজরুল ইসলাম গোপনে মহাশ্মশান কমিটিকে না জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা নিজেই তুলে আত্মসাত করেছেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আমাদের মহাশ্মশানের নামে না দিলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট অভিযোগটি তুলে ধরা হবে।*

*এ বিষয়ে উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র এস.এম নজরুল ইসলাম বলেন, এডিপির বরাদ্দে কিছু সমস্যা হয়। তবে বরাদ্দকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুদানের অর্থ দেয়া হয়েছে। তবে ঘোষগাঁতি মহাশ্মশান, ঘোষগাতি শিব মন্দির ও ঘোষগাতি মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের নামে বরাদ্দকৃত দেড় লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও পায়নি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।*