প্রচ্ছদ আইন-আদালত *এবার ক্যা’সিনোকাণ্ডে সুনামগঞ্জের এমপি রতনের বি’রুদ্ধে অনুসন্ধান*

*এবার ক্যা’সিনোকাণ্ডে সুনামগঞ্জের এমপি রতনের বি’রুদ্ধে অনুসন্ধান*

200
*এবার ক্যাসিনোকাণ্ডে সুনামগঞ্জের এমপি রতনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান*

*অবৈধ ক্যা’সিনো ব্যবসার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্যদিকে, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে যাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে অনেক অপরাধ কবুল করেছেন রাজীব। তার উত্থানের পেছনে রাজনৈতিক গড’ফাদারদের বাইরে তার বন্ধু মিশুর অনেক অবদান রয়েছে। সর্বশেষ ওই মিশুর বাসা থেকেই তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।*

*এ ছাড়াও রাজধানীর আরও কয়েকজন কাউন্সিলরের নাম বলেছেন, যারা চাঁ’দাবাজি দখ’লবাজির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে আফসার উদ্দিন অন্যতম। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এবং আরমানের দেওয়া তথ্যের যাচাই-বাছাই চলছে। তবে এরই মধ্যে কিছু তথ্যের সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে। তবে আ’তঙ্কে রয়েছেন তাদের অনেক রাজনৈতিক গ’ডফাদার। তাদের আশঙ্কা, যে কোনো সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার থাবা পড়তে পারে তাদের ওপর। যদিও তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। জানা গেছে, মা’দক ও অ’স্ত্র আইনে পৃথক দুই মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) তারেকুজ্জামান রাজীব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই অনেক অপরাধ কবুল করেছেন।*

*রাজীবের তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, মিশু শুরুর দিকে গাড়ি চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন মিশু। মিশুর চুরির অনেক দামি গাড়ি রাজীব ব্যবহার করেছেন। প্রভাবশালী কাউন্সিলর হওয়ার কারণে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সাহসও করত না। এ ছাড়া উত্তরা ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন খানের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে রাজীব। গোয়েন্দারাও তার বিষয়ে তদন্তে দখ’লবাজি, চাঁ’দাবাজিসহ ক্যাসিনো ব্যবসার তথ্য পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাজউকের ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্লটে মার্কেট বানানো, দখ’লবাজি, ফুটপাথ ও পরিবহন চাঁ’দাবাজিসহ জু’য়া ও ক্যা’সিনো কারবার থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে।*

*সূত্র জানায়, ক্ষমতার গত ১০ বছরে শূন্য থেকে এ কাউন্সিলর এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। পরিবারের বড় ভাই আশ্রাফ আলী জোট সরকারের সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ছোটভাই আফসার এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কাউন্সিলর। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বৃহত্তর উত্তরার দ’খল, চাঁ’দাবাজিসহ বিভিন্ন ক্লাবে পরিচালিত জু’য়া ও ক্যাসিনো কারবারের ভাগও পেতেন আফসার। উত্তরার তিনটি ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে আফসার উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উত্তরা ৯ নং সেক্টরের ভিবা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের উপরের তলার ক্যা’সিনো, হাউজ বিল্ডিং গাজীপুর ক্লাব ক্যাসি’নো ও ১ নং সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে উপরে পরিচালিত ক্যাসিনোর সঙ্গে তার লোকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।*

*উল্লেখ্য, তিনটি ক্যাসিনোই তার ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত। উত্তরার বৈধ-অবৈধ সব কাজই চলে তার তত্ত্বাবধানে। তবে কাউন্সিলর রাজীবের বিষয়ে ডিবি উত্তরের ডিসি মশিউর রহমান জানান, দুই মামলায় ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজীবকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এখনো বলার মতো তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যতটুকু তথ্য রাজীবের কাছ থেকে পাওয়া গেছে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।*

*ক্যা’সিনোকান্ডে এবার দুদকের তালিকায় এমপি রতন: অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও জাতীয় সংসদের হুইপ চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর নাম অনুসন্ধানের তালিকায় উঠে আসে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোকান্ডে জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করে। অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা বিভিন্ন উৎস থেকে আসা তথ্যের পাশাপাশি দুদকের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন। এরই মধ্যে অনুসন্ধানের আলোকে সোমবার দুটি মামলা করেছে দুদক।*

*শামীম-খালেদকে ২৭ অক্টোবর হাজিরের নির্দেশ: দুর্নীতি মামলায় জি কে বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী কথিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম এবং বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেছে দুদক। গতকাল ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আল মামুনের আদালতে এ আবেদন করা হয়। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এর ফলে শুনানির আগে এ দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। আসামি শামীমকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন এবং খালেদকে দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৯০ লাখ ১৬ হাজার ৭০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।*

*মামলা হচ্ছে আরও চারজনের বিরুদ্ধে: ক্যাসি’নোকান্ডে আলোচিত গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশন অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার জন্য অনুমোদন দিয়েছে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। সম্ভাব্য মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এনামুল হক এনুর দুই সহযোগী হারুনুর রশীদ ও আবুল কালাম আজাদ। শিগগিরই এই মামলা করা হবে।*
*এদিকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রেসনোট। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যমের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম স্বাক্ষরিত প্রেসনোটে বলা হয়েছে, কিছু গণমাধ্যমে র‌্যাবকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হচ্ছে। যা কখনই র‌্যাব থেকে দেওয়া হয়নি।*