প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *ধর্মীয় উ’ন্মাদনা ছড়িয়ে ৮ বছরে বড় ধরনের ৪টি হা’মলা*

*ধর্মীয় উ’ন্মাদনা ছড়িয়ে ৮ বছরে বড় ধরনের ৪টি হা’মলা*

65
*ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে ৮ বছরে বড় ধরনের ৪টি হামলা*

*ফেসবুকে ধর্মী’য় উন্মা’দনা ছড়িয়ে গত ৮ বছরে দেশে বড় ধরনের অন্তত ৪টি সাম্প্র’দায়িক হাম’লার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রা’ণহানির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহায়-সম্পদ। বিন’ষ্ট হয়েছে ধর্মীয়-সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ; কিন্তু যেসব অভিযোগ তুলে এই সাম্প্র’দায়িক হা’মলা, পুলিশি তদন্তে এর প্রতিটিই মিথ্যা প্রমাণ হয়। সবশেষ গত রবিবার মহানবীকে (স) অবমান’নার অভি’যোগ তুলে তা’ণ্ডব চালানো হয় ভোলার বোরহানউদ্দিনে। এতে নি’হত হন ৪ জন।*

*সাম্প্রতিক সময়ের হা’মলাগুলো তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ বলেছে, প্রতিটি হাম’লাতেই আগে ফেসবুকে ধর্ম অবমান’নার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর পর উন্মা’দনা ছড়ি’য়ে হা’মলা হয়েছে। যারা এসব হাম’লায় অংশ নিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই অভি’যোগের সত্যতা যাচাই না করে এসব ঘ’টনা ঘটি’য়েছে।*

*সবশেষ ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনা তদ’ন্তের পর পুলিশ বলেছে, এক হিন্দু যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যা’ক করে ধর্ম অব’মাননাকর ওই স্ট্যা’টাস দেওয়া হয়েছিল। এর পর ফেসবুকের কয়েকশ আ’ইডি থেকে ওই পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের কাউন্টার টের’রিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম শাখা এ ধরনের বেশকিছু আইডি’ধারীকে শনা’ক্ত করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে এখন অভি’যান চলছে। এ ছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া নজ’রদারি শুরু হয়েছে।*

*২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধপল্লীতে ১৯টি মন্দির ধ্বং’স করা হয়। একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে উত্তম বড়ুয়া নামে এক বৌদ্ধ তরুণের ফেসবুক থেকে ইসলামধর্মবি’রোধী স্ট্যাটাসের গু’জব ছড়িয়ে ওই হামলা হয়। রামু ছাড়াও টেকনাফ ও উখিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি’সংযোগের ঘট’নাও ঘটা’নো হয়। এসব ঘটনায় তখন রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১৯টি মামলা হয়েছিল। পুলিশ বলেছে, আদালতে মামলার চা’র্জশিট দেওয়া হয়েছে; কিন্তু সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বিচারকাজ এগোচ্ছে না। রামুর ঘটনায় পুলিশের দেওয়া চার্জ’শিটে উল্লেখ করা হয়, যে অভিযোগের গু’জব ছড়িয়ে বৌদ্ধপল্লীতে লঙ্কা’কাণ্ড ঘটা’নো হয়েছিল, সেই অভিযোগটি তদন্তে প্রমাণ হয়নি।*

*একইভাবে গু’জব ছড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হিন্দুপল্লী ও মন্দিরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্যাপক ভা’ঙচুর করা হয়। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে স্থানীয় দুই এমপির দ্বন্দ্বের জে’রে ওই গু’জব-হাম’লা হয়। এতে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ। বর্তমানে আঁখি জা’মিনে মুক্ত রয়েছেন।*

*২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর টিটু রায় নামে এক যুবকের ফেসবুকে নবী করিমকে (স) কটা’ক্ষের গু’জব ছড়ানো হয় রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। এরপর ওই এলাকায় কয়েকদিন ধরে মা’ইকিং করে উন্মা’দনা ছড়িয়ে হিন্দুপাড়ায় হা’মলা চালিয়ে ৮টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের গু’লিতে সেদিন এক হামলাকারী নি’হত হয়। ওই ঘটনায় গঙ্গাচড়ায় দুটি এবং রংপুর সদরে একটি মামলা হয়েছিল। গঙ্গাচড়া থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চা’র্জশিট দেওয়া হয়েছে। টিটু রায় জামিনে আছেন।*