প্রচ্ছদ স্পটলাইট *শেখ হাসিনা কি আপন মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকতে পারবেন?*

*শেখ হাসিনা কি আপন মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকতে পারবেন?*

247
শেখ হাসিনা কি আপন মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকতে পারবেন?

*কেন মানুষ এমন করে নষ্ট হয়, হচ্ছে তা খুব একটা চিন্তার বিষয়। দেশের কয়েকদিনের ঘটনায় মানুষের নৈতিক স্খলনের যে সব তথ্য উপাত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এসেছে তা অকল্পনীয়।*
*গোয়েন্দার একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, বুয়েটের খুন পরবর্তী ঘটনা, কাসিনো কিং এর সহযোগী ও কাসিনো সভাপতি রাশেদ খান মেননের সরকার বিরোধী পাবলিক স্পীচ, ভোলায় ফেসবুক হ্যাক করে তা থেকে উস্কানিমূলক পোষ্ট দিয়ে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা একই সূত্রে গাঁথা। হয়তো আরও দুই চার জায়গায় এমন ঘটনা ঘটবে কারণ তাঁরা সবাই চাচ্ছেন শেখ হাসিনা দুর্নীতি বিরোধী অভিযান আর দলের শুদ্ধি অভিযান থেকে সরে আসুন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা করবেন না। উনি তার শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও দেশটার জঞ্জাল সাফ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।*

*একটা কথা ইতোমধ্যেই সারা দুনিয়ার বাঙ্গালীরা জেনে গেছেন যে শেখ হাসিনা বিক্রি হন না। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা দুর্নীতিবাজ, গোয়েন্দাদের কাছে যার সম্পদের তথ্য ২০০০ সীট কাগজে লিপিবদ্ধ সেই জি কে শামীম গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ছাড়া সবাইকে কেনা যায়। কথাটা আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য ভালো শুনালেও দেশের জন্য খুব খারাপ। সবার জন্য এটা একটা অশনি সংকেত। অর্থাৎ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে প্রশাসন আর ব্যবসায়ীদের একটা ‘ট্রাই এঙ্গেল’ দেশের এই সম্পদ লুটপাটে লিপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এমন তথ্য প্রমান চলে এসেছে।*

*১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে খুনি জিয়া ও তাঁর দোসরদের ঘোষণা ছিল যে তারা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে পাওয়া অবৈধ সম্পদের বিবরণী দিয়ে একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। তার পরে অনেক দিন গড়িয়েছে, অনেক মাস, বছর। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের লুটপাটের প্রমাণ হিসেবে পাওয়া বা জব্দ করা মালামালের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে পারেনি খুনিরা। এখন বাংলাদেশে জরিপ করলে দেখা যাবে যে, যারা কুখ্যাত রাজাকারের রক্তে পয়দা তারাও বঙ্গবন্ধুকে দুর্নীতিবাজ বা আর্থিকভাবে অসৎ, তা বলে না। দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, বঙ্গবন্ধু নিজে খুব সৎ মানুষ ছিলেন, তাঁর সুযগ্য কন্যা শেখ হাসিনাও সৎ মানুষ। বিদেশীরাও এটা বিশ্বাস করে, সে খবর বিভিন্ন সময়ে দেশী বিদেশী মিডিয়ায় এসেছে।*

*প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাসিনো ডন সম্রাট জানিয়েছেন তার অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডারে রয়েছে ১৪ টি একে-২২, কাটা রাইফেল ৫ টি, ছোট ও বড় রিভলভার ৩০টি এবং ১টি অত্যাধুনিক একে-৪৭। অবশ্য এসব অস্ত্র তিনি তুলে দিয়েছেন শিষ্যদের হাতে। এটা দিয়ে সে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন ঢাকায়। সাথে দিয়েছে টাকা, সুরা আর সাকি। বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সম্রাট ২০ জন এমপি টাকা দিয়ে নির্বাচনে সহায়তা করেছেন। বহু বড় বড় নেতাকে মাসহারা দিয়েছেন। যাতে তার কাসিনো বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়। সাথে সাথে তিনি দলীয় মিটিঙয়ে লোক সমাগমে করেছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে খাবার দিয়েছেন মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরানোর জন্য।*

*অনলাইন কাসিনো ডন সেলিমের ডেরায় দেশে বিদেশে অনেক নেতা সেবা নিয়েছেন তার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তাঁর হাতে আছে তালিকা কে কে কার কাছ থেকে মাসহারা নিতেন, ভেট নিতেন, সেবা নিতেন তাঁর দীর্ঘ তালিকা। এই তালিকায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রভাবশালী আত্মীয়দের নাম এসেছে। সেই সব আত্মীয়দের অনেকেই টাকার পাহাড় গড়েছেন, শেখ হাসিনার নাম বিক্রি করে, দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে, কমিটি বাণিজ্য, পদ বাণিজ্য করে। এতেই শেখ হাসিনার বিশ্বাস নড়ে গেছে। তিনি ভেবে পাচ্ছেন না যে এত টাকা তাঁদের কেন দরকার। সিণ্ডিকেট করে এত ভোগ বিলাসের কী খুব দরকার ছিলো! বঙ্গবন্ধুর দলে থেকে এত ভোগ বিলাসী কী করে হলেন তাঁরা, এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বোধগম্য নয়।*

*আওয়ামী লীগ প্রধানের কাছে আরও খবর আছে যে, যুবলীগ যে পদ আর কমিটি বাণিজ্য শুরু করেছিলো তা অন্যসব সহযোগী সংগঠন (ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ইত্যাদি) সঞ্চারিত হয়েছে। এমন কী আওয়ামীলীগের জেলা উপজেলা পর্যায়ের কমিটি গঠনেও অনেক কেন্দ্রীয় নেতা বা তাঁদের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই বাণিজ্য করেছে, এখনো করে চলেছেন। এই দুর্নীতিবিরোধী আর দলের শুদ্ধি অভিযান যখন চলমান তখনো পদ বাণিজ্য আর সহযোগী সংগঠনের কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগের খবর পত্রিকায় এসেছে।*

*শেখ হাসিনা যাদের বিশ্বাস করতেন, যাদের উপর বেশি ভরসা করতেন তাঁদের মধ্যে একটা বিরাট অংশের নৈতিক স্খলন তাঁকে মর্মাহত করেছে। তিনি হতবাক হয়েছেন, কিন্তু দমে যান নি। শেখ হাসিনা এই নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি, আর সন্ত্রাসের শেষ দেখতে বদ্ধ পরিকর। পর্যায়ক্রমে তা তিনি বাস্তবায়ন করবেন। আর এ ব্যাপারে তিনি হিমালয় পাহাড়ের মত অবিচল তা স্পষ্ট বুঝা যায় যখন সবাই দেখেন যে, গত রোববারের যুবলীগের নেতাদের সাথে সভায় শেখ সেলিম, শেখ মারুফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দিয়েই শেখ হাসিনা সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সাথে রেখেছেন প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহাম্মদ আর আমীর হোসেন আমুকে।*