প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *গু’জবে রণক্ষেত্র ভোলা: ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এরা কারা?*

*গু’জবে রণক্ষেত্র ভোলা: ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এরা কারা?*

91
*গুজবে রণক্ষেত্র ভোলা: ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এরা কারা?*

*হ্যাক করা ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার গু’জব ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ভোলা। ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে জনতার একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নি’হত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ পুলিশসহ শতাধিক।*
*গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধর্ম অবমাননার গুজবকে কেন্দ্র করে সেখানে একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গতকাল দুপুরের পর চার প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ছাড়াও কোস্টগার্ড, র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।*

*গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। এ ঘটনা তদন্তে গতকাল রাতে পুলিশ সদর দফতর ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ থেকে একজন করে মোট চারজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।*

*পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ক’টূক্তি করার অভিযোগে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির বিচারের দাবিতে গতকাল ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ‘তৌহিদী জনতা’ নামের একটি সংগঠন। এ সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগেই তারা মাইকে প্রচার করে। পরে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল ৯টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান শুরু করে জনতা। স্থানীয় বাটামারার পীর আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন এবং জড়ো হওয়া মুসল্লিদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে পুলিশ বাটামারা পীর সাহেব মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।*

*একপর্যায়ে পুলিশ গু’লি ছুড়লে চারজন নিহত হন। নি’হত চারজন হলেন- বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে মাহবুব পাটওয়ারী (১৪), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫), মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪০) ও বোরহানউদ্দিনের মো. শাহিন। সংঘর্ষে জুয়েল সাহা ও জয় নামের দুই সাংবাদিক আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে, ৪০ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পাঁচজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুলি ও স্পিøন্টারে আহত ২৮ জনকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি গ্রুপ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের এক সদস্যকে গুলি করা হয়। তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।*

*ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার সাংবাদিকদের বলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করেছি। আমরা এ নিয়ে শনিবার রাতে স্থানীয় আলেমদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন রবিবারে প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসে সেখানে মাইকিং হচ্ছে এবং মঞ্চ বানানো হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আমরা উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি নিজে সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। তারা সবাই আমার বক্তব্য শোনেন। যখন আমি মঞ্চ থেকে নেমে আসি তখন এক দল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে একটি রুমে গিয়ে আশ্রয় নিই।*

*পুলিশ সুপার আরও বলেন, যখন তারা আমাদের রুমের জানালা ভেঙে ফেলে তখন আমরা প্রথমে শ’টগানের ফাঁকা গু’লি ছুড়ি। এতে কাজ না হওয়ায় উপরের দিকে গুলি চালানো হয়। এ সময় একজন পুলিশ সদস্যের বুকে গুলি লেগে গুরুতর আহত হন। আমরা আ’হত অবস্থায় যাদের হাসপাতালে পাঠিয়েছি তাদের মধ্যে চারজন নি’হত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভর নিজের ছবি সংবলিত ফেসবুক আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে মেসেজ পাঠানো হয়। যাদের মেসেজে পাঠানো হয় তারা মেসেজটি স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে দিলে লোকজন প্রতিবাদ জানানো শুরু করে। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন মসজিদ থেকে কয়েক দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়।*

*গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র শুভ বোরহানউদ্দিন থানায় তার আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। এ সময় থানা-পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার কথা ধরে পটুয়াখালী থেকে আরেকজনকে গত শনিবার আটক করে। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এনামুল হক জানিয়েছেন, গত শুক্রবার রাতে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নিজের ইচ্ছায় থানায় আসেন। তিনি এখন পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।*

*পুলিশ সদর দফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: গতকাল রাতে এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানার নামে পাঠানো পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৮ অক্টোবর নিজ ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) নামে এক যুবক রাত ৮টা ৫ মিনিটে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন। জিডি নং-৪৪০। জিডি করার সময় থানায় অবস্থানকালেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যের নম্বরে একটি কল আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওসিকে জানান। ওসি বিষয়টি ভোলা জেলার পুলিশ সুপারকে জানান।*

*প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতের মধ্যেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইলে কলকারী শরীফ এবং ইমন নামে দুই মুসলিম যুবককে যথাক্রমে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বোরহান উদ্দিন থানায় আনা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় সৃষ্ট অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আত্মরক্ষার্থে, সরকারি জানমাল রক্ষার্থে ও উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করতে প্রথমে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং পরে শটগানের গুলি চালায় পুলিশ। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।*

*আক্রমণকারীদের গুলিতে মারাত্মক আহত পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নি’হত চারজনের মধ্যে অন্তত দুজনের মাথা ভোঁতা অ’স্ত্র দ্বারা থেঁতলানো বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ থেকে একজন করে মোট চারজন কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।*

*সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে এবং কোনো অবস্থাতেই ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ না করতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানায় পুলিশ। পাশাপাশি গুজবে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করা হয়।*

*জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি: আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল জানায়, ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বিকালে ভোলা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তদন্ত কমিটিকে পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।*
*তিনি আরও জানান, বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় ফৌজদারি আইনে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে সার্বিক বিষয় উঠে আসবে। এরপর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ের ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।*

*গুলিবিদ্ধ ২৮ জন বরিশালে চিকিৎসাধীন: বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২৮ জনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই ২৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন এ তথ্য জানান।*

*বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল: ভোলার বোরহানউদ্দিনে তৌহিদী জনতার ওপর পুলিশের গুলির প্রতিবাদসহ বাংলাদেশে ইসকনের সব কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে গতকাল সন্ধ্যার আগে আকস্মিক এ সমাবেশ এবং মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের কয়েকশ নেতা-কর্মী নগরীর সদর রোডে জড়ো হয়ে সমাবেশ করে।*

*ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ: ভোলায় পুলিশের সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতা’র সংঘর্ষে হতাহতের প্রতিবাদে গতকাল বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্র খেলাফত বাংলাদেশ। বিকালে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় বক্তারা বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর পুলিশের এমন হামলা ন্যক্কারজনক। অনতিবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এর কঠিন জবাব দেওয়া হবে। এ সময় আজ দুপুরে জেলাব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।*

*ইসলামী সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদ: ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো। তারা অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বাদ জোহর বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ মিছিল এবং শুক্রবার জেলায় জেলায় দোয়া ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন।*

*বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী ও মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, আমরা মুসলমানরা আমাদের প্রাণের চেয়েও বেশি মহানবী (সা.) কে ভালোবাসি। নবীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হবে আর আমরা বসে থাকব তা কখনো হবে না। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।*