প্রচ্ছদ রাজনীতি *কোন বিষয়ে ড. কামাল-তারেক টেলি আলাপ হলো?*

*কোন বিষয়ে ড. কামাল-তারেক টেলি আলাপ হলো?*

203
*কোন বিষয়ে ড. কামাল-তারেক টেলি আলাপ হলো?*

*২২ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের আগে আজ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে টেলি আলাপের খবর পাওয়া গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, লন্ডন থেকে তারেক জিয়া ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১৭ মিনিট টেলিফোনে আলাপ করেন। এই টেলি আলাপে ২২ অক্টোবরের জনসভার এজেন্ডাসহ ঐক্যফ্রন্টকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং এর পরিধি বৃদ্ধিসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তারেক পূর্ণ আস্থা জানিয়েছেন। তারেক জিয়া বলেছেন, আপনি মুরব্বি। আপনার নেতৃত্বের পেছনেই আমরা সব সময় আছি।*

*তারেক জিয়া এটাও বলেছেন যে, বিএনপি সবসময় আপনার সঙ্গেই থাকবে। আপনি যেভাবে কর্মসূচি দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে চায় সেভাবে থাকবে।*
*তবে ৩ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতৈক্য হয়নি বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*
*প্রথমত, তারেকের অনুরোধ ছিল জামায়াতের বিষয়টি যেন ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে উত্থাপিত না হয়। ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতাই বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে দেওয়া। জামায়াতের সঙ্গে জোট থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলছে। এটাতে ঐক্যফ্রন্টই ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে তারেক জিয়া মনে করেন। তিনি বলেছেন, জামায়াত যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের সদস্য নয়। কাজেই ঐক্যফ্রন্টে এই বিষয়টি না তোলাই যৌক্তিক। কিন্তু ড. কামাল হোসেন এই প্রশ্নে তারেকের সঙ্গে একমত হননি। তারেক জিয়াকে দ্রুত জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন।*

*তিনি বলেছেন এতে আপনাদেরই মঙ্গল হবে। জামায়াত থাকলে বিএনপিকে নিয়ে যৌথ ঐক্য সম্ভব হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন।*
*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বিতীয় যে বিষয় নিয়ে তাদের মতৈক্য হয়নি ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়ানো। তারেক জিয়া সবাইকে নিয়ে সরকার বিরোধী ঐক্য করার মত দিয়েছেন। প্রকারন্তরে তারেক জিয়া জামায়াতসহ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দলগুলোকেও এরমধ্যে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন।*

*কিন্তু ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলকে নিয়েই বৃহত্তর ঐক্য করবেন। জামায়াত বা অন্যকোন মৌলবাদী সংগঠনকে নিয়ে ঐক্য করতে তিনি রাজী নন। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যে আদর্শহীন ঐক্যের পক্ষে তিনি নন এবং আদর্শহীন ঐক্য করে কোন লাভ হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।*

*তৃতীয়ত হলো, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ড. কামাল হোসেনকে প্রকাশ্যে মুখ খোলার অনুরোধ করেছেন তারেক জিয়া। তিনি বলেছেন যে, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি গণফোরাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠলে ভালো হয়। জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গণফোরামের অনেক নেতাই বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি বলছে এঁটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। যে যে মনে করবে তিনি এটি দিতে পারবেন। যিনি মনে করবেন না তাঁর এটা করার দরকার নেই। কিন্তু এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি তারেক জিয়া।*

*তিনি মনে করেন, ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোর মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুটি থাকা উচিৎ। তবে দুইপক্ষ একমত না হলেও তারা বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের কোন বিকল্প নেই। ঐক্যফ্রন্টকে ঘিরেই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ড. কামাল হোসেন তারেক জিয়াকে বলেছেন যে, দলের কাউকে দায়িত্ব দিয়ে তিনি যেহেতু বিদেশে আছেন সেই অবস্থায় দলের অন্য কাউকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিতে। অবশ্য এ ব্যাপারে তারেক জিয়া কোন মন্তব্য করেননি।*