প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *পেয়ারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বোৎকৃষ্ট ফল*

*পেয়ারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বোৎকৃষ্ট ফল*

63
*পেয়ারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বোৎকৃষ্ট ফল*

*পেয়ারা একটি অতিপরিচিত ও সহজপ্রাপ্য ফল। এর পাঁচটি উপকারী দিক যা আপনাকে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।*
*১. হালকা সবুজ রঙের পেয়ারা মানবদেহের অভ্যন্তরেই চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীর বাড়তি শর্করা গ্রহণে অনীহা তৈরি হয়।*
*২. ভিটামিন-সি এর উৎস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কমলালেবু। আপনি শুনলে অবাক হবেন, একটি মাঝারি সাইজের পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন-সি আছে তা পেতে হলে আপনাকে কমপক্ষে চারটি কমলালেবু খেতে হবে।*

*৩. মেদ বা ওজন কমাতে বেশি বেশি ফাইবারযুক্ত বা অধিক তন্তুযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। আপনি নির্দ্বিধায় আপনার খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন। প্রয়োজনে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন পেয়ারা।*
*৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশি পরিমাণে পটাশিয়ামযুক্ত খাদ্য খেতে বলা হয়। তবে তালিকায় সোডিয়ামযুক্ত খাবার না রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিশারদরা। এদিক থেকে পেয়ারা সর্বোৎকৃষ্ট ফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।*

*৫. ১০০ গ্রাম পেয়ারায় মাত্র ৮ দশমিক ৯২ গ্রাম চিনি থাকে। তাই ওজন কমাতে চাইলে আপনি বিকেলের খাবারে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে যোগ করে ফেলুন দু’টি পেয়ারা। ভিন্নতা আনতে খেতে পারেন পেয়ারার জুস।*
*পেয়ারা বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটি ফল। যেকোনো সুপারশপ অথবা কাঁচাবাজারে অল্প টাকায় কিনতে পাওয়া যায় ফলটি। ওজন কমাতে বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন।*
*তবে একদম খালিপেটে পেয়ারা না খাওয়াই ভালো বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।*

*পুষ্টিগুণে কাঁকরোল*
*ছোট কাঁঠালের মতো দেখতে কাঁটা কাঁটা সবুজ রঙ্গের একটি সবজি কাঁকরোল। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, জেনান্থিন প্রভৃতি থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।*
*বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে।*

*চলুন জেনে নেই কাঁকরোলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।*
*১. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের রয়েছে তাদের নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়: কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।*

*৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্যই কাঁকরোলকে ‘স্বর্গীয় ফল’ আখ্যা দেয়া হয়।*
*৪. তারুণ্য ধরে রাখে: কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এটি।*

*৫. অ্যানেমিয়া প্রতিহত করে: কাঁকরোলে প্রচুর আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড ও থাকে। এ কারণে নিয়মিত এটি খেলে অ্যানেমিয়ার প্রতিহত করা সম্ভব হয়।*
*৬. বিষণ্ণতা প্রতিহত করে: কাঁকরোলে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তাই বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে কাঁকরোল।*
*৭. কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করে: যেহেতু কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।*