প্রচ্ছদ অর্থ-বাণিজ্য *আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সুইস ব্যাংকে টাকা রয়েছে*

*আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সুইস ব্যাংকে টাকা রয়েছে*

459
*আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সুইস ব্যাংকে টাকা রয়েছে*

*বৈধ কোন ব্যবসা নেই, ২০০০ সালেও নেতাদের কাছে হাত পেতে চলতেন। শেখ হাসিনা নিজেও তাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করেছেন বিভিন্ন সময়। এখন তার মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছে, ছেলে কানাডায়। দুই জায়গাতেই তার বাড়ি রয়েছে। নিজে চলেন বিলাসবহুল গাড়িতে। ঢাকা শহরে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট।*

*প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে যখন গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকা মহানগরীর আওয়ামী লীগের একজন নেতা সম্বন্ধে এ ধরনের তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করলেন- তখন শেখ হাসিনা নিজেই হতবাক হয়ে চমকে উঠলেন। তিনি বললেন, এ যে দেখছি লোম বাছতে কম্বল উজাড়। সাম্প্রতিক সময় শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো বাণিজ্য টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এখন আইনপ্রয়োগকারী এবং গোয়েন্দাসংস্থাগুলো নিবিড় অনুসন্ধান পরিচালনা করছে এবং নেতাদের বিত্ত বৈভবের খবর নিচ্ছেন। কিভাবে এই বিত্ত বৈভব গড়ে উঠলো তা অনুসন্ধান করছেন। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করছেন।*

*আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার স্ফীতি দেখে শেখ হাসিনা নিজেই অবাক হয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সুইস ব্যাংকে টাকা পাওয়ার খবর জানা গেছে, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বানিয়েছেন অনেকে। মালেয়শিয়া সিঙ্গাপুরে সম্পত্তি আছে অনেকের। অনেকেই সিঙ্গাপুরে সেকেন্ড হোম করেছেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত ১৭৩ জনের বিভিন্ন অভিযোগ এবং দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগুলো যাচাই বাছাই করবেন। যাচাই বাছাইয়ের পরে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।*

*আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রগুলো বলছে, এই তালিকাই চূড়ান্ত নয়। আরো অনেকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।*
*এতদিন ধারণা ছিল যে, মন্ত্রী এমপি হলেই ভাগ্য বদলে ফেলা যায়। অনেক টাকার মালিক হওয়া যায়। অবৈধ সম্পদ উপার্জন করা সহজ হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মন্ত্রী কিংবা এমপি নন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা তিনিও নানা অপকৌশলে অনেক বিত্তবান হয়েছেন। দুর্নীতির অসুখ আওয়ামী লীগর তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।*
*একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বিবরণ দিয়েছে, তৃণমূলে একরকম দুর্নীতি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি হচ্ছে আরেক রকম। উচ্চ পর্যায়ে হচ্ছে আরেক রকম। দুর্নীতির ধরণ বিভিন্ন ধরনের হলেও মূল বিষয়টি হলো, অবৈধ উপায়ে দলকে ব্যবহার করা এবং অবৈধ উপায়ে অর্থ সম্পদ উপার্জন করা।*

*এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান সম্পর্কে বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি পদধারীই লক্ষাধিক নেতা রয়েছে। সেখানে ১৭৩ কিংবা ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা বড় বিষয় নয়। তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদেরকে দল থেকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।*

*আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা দুর্নীতি করবে, অপকর্ম করবে কিংবা অবৈধ তৎপরতা করবে সেটা ফৌজদারি অপরাধ। আইনানুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আওয়ামী লীগ করেন কিনা সেটা বিষয় না, এটাই হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।*
*তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, দলের এই অধঃপতনে প্রধানমন্ত্রী বেশ হতাশ।*