প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *নোবেলজয়ী অভিজিৎ ভারতে জে’ল খা’টেন, হন নি’র্যাতনের শি’কার!*

*নোবেলজয়ী অভিজিৎ ভারতে জে’ল খা’টেন, হন নি’র্যাতনের শি’কার!*

72
*নোবেলজয়ী অভিজিৎ ভারতে জেল খাটেন, হন নির্যাতনের শিকার!*

*বন্ধুর ছেলের নো’বেল জয়ে যা বললেন অমর্ত্য সেন*
*ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক বাঙালীর নাম ঘো’ষণা হলো অর্থনীতির নোবেলজয়ী হিসেবে। সারাবিশ্বই জেনে গেছে, অর্থনীতিবিদ সেই বাঙালিবাবুর নাম অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। মজার বিষয় হলো, অভিজিতের আগে প্রথম যিনি অর্থনীতিতে নো’বেল জিতেছিলেন সেই অমর্ত্য সেনের সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। অমর্ত্য সেন নিজেই সেটা জানিয়েছেন।*

*অভিজিতের বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অমর্ত্যের বন্ধু। আর মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও রয়েছে তার সুসম্পর্ক। বলা চলে, নো’বেল জয়ী দুই বাঙালী অমর্ত্য আর অভিজিতের সম্পর্কটা অনেকটাই পারিবারিক। অভিজিতের বাবা ছিলেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মুম্বাইয়ে জন্ম হলেও অভিজিৎ বেড়ে উঠেছেন কলকাতায়। সেই ছোটবেলা থেকেই তাকে চেনেন অমর্ত্য। বয়সের ব্যাবধানটা অনেক বেশি হলেও তাদের সম্পর্কটা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। এজন্য গতকাল সোমবার অভিজিতের নোবেল জয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসছেন অমর্ত্য।*

*গণমাধ্যমে অমর্ত্য বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। দারিদ্র বিষয়ে নতুন ধরনের মূল্যবান কাজ এরা করেছেন এবং সেই কাজের ফল নানা দিক দিয়েই দারিদ্রের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধে আমাদের সাহায্য করবে। আমি নিজে একাধিক কারণেই ভীষণ খুশি। একটা কারণ এই যে, অভিজিৎকে আমি তার শৈশব থেকে ভাল রকম জানি এবং তার চিন্তাশক্তিকে আমি বরাবর বাহবা দিয়ে এসেছি। আমার একমাত্র দুঃখ এই যে, ওর বাবা, আমার বন্ধু দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এটা দেখে যেতে পারলেন না। তবে অভিজিতের মা নির্মলা এই উৎসবে যোগ দেবেন, সেটা ভেবেও আনন্দিত বোধ করছি।’*

*উল্লেখ্য, গতকালই অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘো’ষণা করা হয়েছে। বৈশ্বিক দারিদ্র বিমোচনের তত্ত্ব দিয়ে এই পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অভিজিৎ ব্যানার্জি ও তার ফরাসি বংশোদ্ভূত মার্কিন স্ত্রী এস্তার ডুফলো, সঙ্গে আরেক মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।*

*ভারতে জে’ল খা’টেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ, চা’লানো হয় নির্যা’তন!*
*চলতি বছর অর্থনীতিতে নো’বেল পেয়েছেন কলকাতার সন্তান অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, তার স্ত্রী এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। দ্যা রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বৈশ্বিক দারিদ্র বিমোচনে তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছে। বৈশ্বিক দারিদ্র্য লাঘবে অবদান রাখায় এ পদক জিতেন।*
*কিন্তু জানেন কি এক সময়ে টানা ১০ দিন তিহার জে’লে ছিলেন অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ ব্যানার্জি।*

*এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময়ে পড়তেন নোবেলজয়ী অভিজিৎ। সাল ১৯৮৩। ছাত্র সংগঠনের সভাপতিকে ব’রখাস্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা উপাচার্যকে ঘে’রাও করেছিলেন। ফলস্বরূপ তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।*
*২০১৬ সালে এক সংবাদ মাধ্যমের কাছে এ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন অভিজিৎ। তিনি জানান, টানা ১০ দিন তাদের উপরে পুলিশের অ’ত্যাচার চলে তিহার জে’লে। গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক পড়ুয়াকেই মা’রধর করা হয়েছিল।*

*অভিজিত বলেন, আমাদের মা’রধর করা হয়েছিল। দেশদ্রো’হিতার অভি’যোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত সেই চা’র্জ উঠে যাওয়ার ফলে আমাদের ১০ দিনের বেশি থাকতে হয়নি।*
*সেই সময়ে কেন্দ্রে কংগ্রেস ছিল ক্ষম’তায়। অভিজিৎ কথায়, ওরা বলত, আমরা বস। চুপ করে থাকো। ভদ্রভাবে থাকো। সরকার সেই সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে আধি’পত্য বিস্তার করতে চাইত বলে জানিয়েছিলেন নোবেলজয়ী।*
*সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা অভিজিতের। প্রেসিডেন্সি থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন, জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছিলেন তিনি। পরে হা’র্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি’এইচডি করেন নোবেলজয়ী এ বাঙালি।*