প্রচ্ছদ স্পটলাইট *এবার অভিযুক্ত ভিআইপিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে*

*এবার অভিযুক্ত ভিআইপিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে*

115
*এবার অভিযুক্ত ভিআইপিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে*

*দ্বিতীয় ধাপে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী একাধিক সংস্থার সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দ্বিতীয় ধাপের শুদ্ধি অভিযানে যারা প্রভাবশালী এবং গডফাদার হিসাবে পরিচিত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।*
*কারণ প্রথম ধাপে অভিযান ছিল যারা আলোচিত সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। যারা সমাজের জন্য বিষফোড়া হয়ে উঠেছিল।*
*দ্বিতীয় ধাপের অভিযানে এদের গডফাদার এবং যারা এদের পৃষ্টপোষকতা ও মদদ দিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।*

*তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র বলছে, এই অভিযান শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হবে না। এই শুদ্ধি অভিযান শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে নয়।*
*আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সমাজে অনেক প্রতিষ্ঠিত গণ্যমান্য ব্যক্তি রয়েছেন। যারা সমাজ বা জাতির বিবেক হিসাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু তারাও ক্যাসিনো কিংবা টেন্ডার বাণিজ্যের চেয়ে কম অপকর্ম করছেন না। তারা সবসময় নিজেদের ধরাছোয়ার বাইরে রাখছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।*

*রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরেও ভিআইপিদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের আওতায় যারা আসতে পারেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। মানি লন্ডারিংয়েরও অভিযোগ আছে।*

*এছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারী চাকরি করা অবস্থায় (গ্রামীন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যুগ্ন সচিব পদমর্যাদায়) থাকা অবস্থায় তিনি নিজের নামে ১৮ টি প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন। যেমন গ্রামীণ টেলিকম, গ্রামীন মৎস্য প্রাণী সম্পদ ফাউন্ডেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। একজন সরকারী চাকরিজীবি এভাবে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়তে পারেন না। এছাড়া আয়কর ফাঁকির একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার নামে বেনামে দেশে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে।*

*ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্যের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি। তিনি তার বিরুদ্ধে জমিদখল, জলদস্যুতা এবং সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিরীহ মানুষদের ভূমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে বেশকিছু মামলাও রয়েছে বলে জানা গেছে।*
*প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান সুশীল সমাজের অন্যতম প্রতিনিধি হলেও তাঁর এবং তাঁর পুত্রের (মাহমুদুর রহমান শাসা) বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। মতিউর রহমানের ঢাকায় একাধিক বাড়ি রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত করেছে।*

*এছাড়াও মতিউর রহমানের পুত্র শাসার সঙ্গে আর্থ ফাউন্ডেশন বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও একাধিক দায়িত্বশীল নিশ্চিত করেছে।
এছাড়াও সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ পন্থায় আয় এবং আয়কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে।*

*আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন যে, বর্তমান শুদ্ধি অভিযানকে একটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান। আওয়ামী লীগ যেহেতু ক্ষমতায় রয়েছে সেহেতু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগে নিজের ঘর পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেজন্য এই শুদ্ধি অভিযানে প্রথম আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে।*

*তবে এই অভিযানের আওতায় শুধু আওয়ামী লীগ না। যারা ব্যবসায়ী, যারা সমাজের বিভিন্ন পদে থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন, যারা রাষ্ট্র এবং দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করছেন তাদের সবার বিরুদ্ধেই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শুদ্ধি অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে সমাজের এরকম তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যাপারে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে।*