প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *ফেনি নদীর পানি চুক্তি: গেলো সব গেলো!*

*ফেনি নদীর পানি চুক্তি: গেলো সব গেলো!*

শামসুদ্দিন আহমদ 

300
*ফেনি নদীর পানি চুক্তি: গেলো সব গেলো!*

*ফেনি নদীর পানিচুক্তির যারা বিরোধিতা করছেন তাদের অধিকাংশই তা করছেন ‘রুটিনওয়ার্ক’ হিসাবে। তাদের শতকরা একশত ভাগ হয় বিএনপি, না হয় জামাত, না হয় ছাগল। ভারত যদি পানি না নিয়ে উল্টো ফেনি নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধির চুক্তি করতো- এরা ঐ চুক্তিরও এই বলে বিরোধীতা করতো যে, এর ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে ফেনি-নোয়াখালি তো বটেই- চাই কি কুমিল্লা সিলেট ও ঢাকা জেলাও কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাবে।*

*ভারতের সাব্রুম লোকালয়টি আমার গ্রামের বাড়ির কাছেই। ছোট্ট জনপদ। বর্তমানে লোকসংখ্যা মাত্র আট হাজার। আমাদের যে কোন একটা ইউনিয়নের চেয়েও কম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সাব্রুম আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট ছিলো। মেজর জিয়া, মেজর খালেদ মোশারফ, ক্যাপ্টেন রফিকসহ অনেকে সাব্রুমকে সেসময় বেইস স্টেশন হিসাবে ব্যবহার করেছেন। পাহাড়িয়া জনপদ বিধায় সেখানে পানীয়জলের অভাব তীব্র। ঝর্ণা বা ছড়ার পানি খেতে হয়। গোসল করতে হয় ফেনি নদীতে এসে।*
*সাব্রুম এলাকায় ফেনি নদীর মধ্যপ্রবাহ হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত। এ পাড়ে বাংলাদেশ, ও পাড়ে ভারত। উভয় পাড়ের মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করে সমঅধিকারে। এটাই চলে আসছে। এটাই স্বাভাবিক।*

*ফেনি নদী একটা বড় নদী। সারা বছর প্রচুর পানি থাকে। পরশুরাম ফুলগাজি ও ছাগলনাইয়ায় প্রতিবছর যে কয়েক দফা পাহাড়ি বন্যা হয়- তার উৎস ফেনিরই উপনদী মুহুরি ছিলনিয়া, কহুয়া ও আঠাই গাঙ। কাজেই ফেনি নদীতে পানির কোন অভাব নেই। উপরন্তু সাব্রুমের আট হাজার লোকের খাবার ও ধোঁয়ামোছার পানির জন্য যে চুক্তি হয়েছে তা অনুযায়ী ওরা ফেনি নদী থেকে নেবে মাত্র ১.৮৭ কিউসেক, যা কিনা শুকনো মওসুমে ফেনি নদীর প্রবাহের এক শতাংশেরও কম। ঢাকা শহরের অধিকাংশ সুয়ারেজ লাইন দিয়ে ১.৮৭ কিউসেকের বেশি বর্জ্য পানি প্রবাহিত হয়।*

*তা ছাড়া নদীর মধ্যপ্রবাহ সীমান্ত বিধায় নদীর পানিতে দুই পাড়ের মানুষেরই সম অধিকার। কিন্তু যেহেতু নদীটি বাংলাদেশে এসে শেষ হয়েছে সেজন্য lower riparian হিসাবে এর উপর বাংলাদেশের অধিকার বেশি। উজানে এর পানি প্রত্যাহার করতে হলে ভারতকে বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করে তবেই তা করতে হবে। বস্তুতঃ সেই নিয়মের বশবর্তী হয়েই বর্তমানের চুক্তিটি করা হয়েছে।*

*তা না হলে সাব্রুমের মানুষের পানির উৎস চিরকালই ফেনি নদী। এতদিন ধরে তারা দমকল বসিয়ে পানি তুলছিল। এখন চুক্তি করে সেটাকে মান্যতা দেয়া হলো। এ নিয়ে তৃতীয় ছাগশিশুর ন্যায় লম্ফঝম্প করার কী আছে? বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না, অথচ ভারতের দুর্গম (এখন অবশ্য তা আর নেই। ট্রেন লাইন বসছে) একটি পাহাড়ি জনপদের মানুষ পানির মতো অত্যাবশ্যক বস্তু ব্যবহার করে উপকৃত হবে, এতে একমাত্র অত্যুগ্র-সাম্প্রদায়িক, প্যাথলজিকালি এন্টি-ইন্ডিয়ান, পাঁড় হিন্দু হেইটার, অনুশোচনাহীন পাকিস্তানপন্থি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা বাদে আর যে কোন সাধারণ বুদ্ধিবিবেচনাসম্পন্ন মানুষেরই খুশি হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।*
*শামসুদ্দিন আহমদ: প্রবীণ সাংবাদিক। (লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহিত)*